২০২১ সালের দাখিল/dakhil পরীক্ষার্থীদের কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ , নৈতিকতা গঠনে সাওমের গুরুত্ব : একটি বিশ্লেষণ

শ্রেণি: দাখিল SSC-2021 বিষয়: কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 04 বিষয় কোডঃ 101
বিভাগ: দাখিল শাখা

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ নৈতিকতা গঠনে সাওমের গুরুত্ব : একটি বিশ্লেষণ

শিখনফল/বিষয়বস্তু :

  • يا أيها الذين آمنوا کتب علیکم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون (۱۸۳) أياما معدودات فمن كان منكم مريضا أو على سفر فعدة من أيام أخر وعلى الذين يطيقونة | فيذية طعام مسكين فمن تطوع خيرا فهو خير له وأن تصوموا خير لكم إن كنتم تعلمون
  • (184) 
  • • সাওমের পরিচয় ও আহকাম তাহকিক:
  • کتب، توت، معدودات، تطوع
  • • নৈতিকতা গঠনে সাওমের গুরুত্ব

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি): 

  • আয়াতগুলাের বঙ্গানুবাদ
  • সাওমের পরিচয় ও  আহকাম
  •  তাহকিক: معدودات، تطوع
  • নৈতিকতা গঠনে সাওমের

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

  • আয়াতগুলাের বঙ্গানুবাদ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার।” (২: ১৮৩)

রোজা বা সিয়াম সাধনা আল্লাহর অন্যতম বিধান যা শুধু ইসলামের বিধান নয়, পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতেও এই বিধান ছিল। রোজা হলো একটি অপ্রকাশ্য ইবাদত। আর নামাজ ও হজ্ব দৃশ্যমান ইবাদত। রোজা অপ্রকাশ্য ইবাদত বলে তা দিয়ে নিজকে জাহির করা বা লোক দেখানোর সম্ভাবনা কম। রোজা মানুষের ইচ্ছাকে শক্তিশালী করে। যারা একমাস ধরে দিনের বেলায় সব ধরনের খাদ্য-দ্রব্য ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে দূরে থাকে, তারা অন্যের ধন-সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের লোভ-লালসাকে দমন করতে সক্ষমতা লাভ করে। রোজা মানুষকে উদার হতে শেখায়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

যারা একমাস ধরে ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করে তারা ক্ষুধার্তদের কষ্ট বুঝতে পারে এবং তাদের সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে ও সহানুভূতিশীল হয়। রোজা গুনাহ বা পাপ বর্জনের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বেশীরভাগ পাপ পেটপূজা ও ইন্দ্রিয় পরায়ণতা থেকেই জন্ম নেয়। রোজা এই দুই প্রবৃত্তিকে দমনে রেখে সমাজে দুর্নীতি ও পাপ হ্রাস করে এবং খোদাভীরুতা বা পরহেজগারিতা বাড়ায়। তাহলে এই আয়াতের মূল বক্তব্য হচ্ছে-

এক. রোজা রাখাটা ঈমানদারীর লক্ষণ। রোজা মানুষের মধ্যে খোদাভীরুতার চেতনাকে শক্তিশালী করে।

দুই. আল্লাহর বিধান পালন করা আমাদের জন্যই কল্যাণকর। এমন নয়, যে আল্লাহ আমাদের নামাজ ও রোজার মুখাপেক্ষী।

এই সূরার ১৮৪নং আয়াতে বলা হয়েছে-

أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (184)

“রোজা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য ফরজ। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় ওই সংখ্যক রোজা রাখতে হবে। রোজা যাদের জন্য কষ্টদায়ক যেমন অতি বৃদ্ধদের জন্য, তারা অবশ্যই একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করবে। যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি সৎ কাজ করে, তা তার জন্য বেশী কল্যাণকর হয়। যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য বেশী কল্যাণকর। (২:১৮৪)

আল্লাহর বিধান কষ্টদায়ক কিংবা মানুষের সাধ্যাতীত নয়। বরং প্রত্যেকেই তার ক্ষমতা-সাধ্য ও শক্তি অনুযায়ী আল্লাহর বিধান পালন করতে পারে। যেমন সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক মাস রোজা রাখা ফরজ। এই মাসে কেউ যদি সফরে বা অসুস্থ থাকে তাহলে তাকে অন্য কোন মাসে রোজা রাখতে হবে। আর যদি কোন মাসেই রোজা রাখার ক্ষমতা তার না থাকে তাহলে রোজা রেখে ক্ষুধা সহ্য করার বদলে ক্ষুধার্তকে স্মরণ করে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে প্রতিদিন একজন গরীবকে খাবার দিতে হবে। অবশ্য এটা স্পষ্ট, রোজার কাফফারা দিতে গিয়ে কেউ যদি একজনের বেশী মানুষকে খাবার দেয়, তাহলে তা বেশী কল্যাণকর।

যদি কোন মানুষ রমজান মাসের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে সে কখনও এমনটি বলবে না যে, হায়! আমিও যদি রোজা রাখা থেকে মাফ পেতাম এবং এর পরিবর্তে গরীবকে খাওয়াতে পারতাম!
এই আয়াত থেকে আমরা যে মূল শিক্ষা পেতে পারি তাহলো- ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম এবং এটি প্রত্যেক মানুষের জন্য উপযুক্ত বিধান দিয়েছে। তাই রোজার বিধান সফরকারী, অসুস্থ এবং সুস্থদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রকম ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • সাওমের পরিচয় ও  আহকাম

সাওম (الصَّوْمُ) শব্দটি আরবী, একবচন, এর বহুবচন হলো (الصِّيَام) সাওম। সাওম পালনকারীকে ‘সায়েম’ বলা হয়। ফার্সিতে বলা হয় রোযা এবং রোযা পালনকারীকে বলা হয় রোযাদার। এর শাব্দিক অর্থ হলো, পানাহার ও নির্জনবাস থেকে বিরত থাকা। অভিধানে শব্দটির অর্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে,

الصَّوْمُ فِي اللُّغَة: الإمساكُ عَن الشيءِ والتَّرْكُ لَهُ. وَقيل للصائمِ صَائِم: لإمساكه عَن الْمطعم وَالْمشْرَب والمنكح.

“কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা, সাওম পালনকারীকে ‘সায়েম’ বলা হয় এজন্য যে, সে খাদ্য, পানীয় ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থেকেছে।”

وَقيل للصامت: صَائِم، لإمساكه عَن الْكَلَام. وَقيل للفرسِ: صَائِم، لإمساكه عَن العَلَف مَعَ قِيَامه.

“চুপ থাকা ব্যক্তিকে ‘সায়েম’ বলা হয়, কেননা সে কথা বলা থেকে বিরত থেকেছে। এমনিভাবে যে ঘোড়া খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত রয়েছে তাকেও ‘সায়েম’ বলা হয়।”

ইবন ‘আরাবী রহ. বলেছেন,

وصامَ الرجلُ: إِذا تَظَلَّلَ بالصَّوْم، وَهُوَ شجر؛ قالهُ ابْن الْأَعرَابِي.

“কোনো ব্যক্তি যখন গাছের নিচে ছায়া নিচ্ছে তাকে বলা হয় ‘সমার রজুল।” (লোকটি ছায়ায় থেকে চলাফেরা থেকে বিরত থেকেছে)।

লাইস রহ. বলেছেন,

الصَّوْمُ: تَرْكُ الْأكل وترْكُ الْكَلَام.

“সাওম হলো খাদ্য ও কথা বলা থেকে বিরত থাকা।” যেমন কুরআনে এসেছে,

﴿فَكُلِي وَٱشۡرَبِي وَقَرِّي عَيۡنٗاۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ ٱلۡبَشَرِ أَحَدٗا فَقُولِيٓ إِنِّي نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمَٰنِ صَوۡمٗا فَلَنۡ أُكَلِّمَ ٱلۡيَوۡمَ إِنسِيّٗا ٢٦﴾ [مريم: ٢٦]

“অতঃপর তুমি খাও, পান করো এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোনো লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব, আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ২৬]

وَصَامَ الفَرَس على آرِيِّه: إِذا لم يَعْتَلِف. والصومُ: قِيَامٌ بِلَا عَمل. وصامَتِ الرِّيحُ: إِذا رَكَدَتْ.

“ঘোড়া যখন খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকে তাকে বলা হয় ‘সমাল ফারাস’, আবার সাওম অর্থ কোনো কাজ না করা। বলা হয়, ‘সমাতির রিহ’ বাতাস যখন থেমে থাকে।”

সুফিয়ান ইবন ‘উয়াইনাহ রহ. বলেছেন,

الصَّوْمُ هُو الصَّبْرُ، يَصْبِرُ الإِنسانُ عَلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَالنِّكَاحِ، ثُمَّ قَرَأَ: إِنَّما يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسابٍ.

“সাওম অর্থ ধৈর্য। কেননা মানুষ খাদ্য, পানীয় ও স্ত্রী সহবাস থেকে ধৈর্য ধারণ করে। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি পড়েন,

﴿إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ ١٠﴾ [الزمر: ١٠]

“কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১০] [১]

সাওমের পারিভাষিক সংজ্ঞা :

আল-কামুসুল ফিকহি গ্রন্থে বলা হয়েছে,

الصوم هو إمساك عن المفطرات، حقيقة، أو حكما، في وقت مخصوص، من شخص مخصوص، مع النية.

وقيل: الصوم هو إمساك المكلف بالنية من الليل من تناول المطعم.

“সাওম হলো, নির্দিষ্ট সময় সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী থেকে নিয়তসহ সাওম ভঙ্গকারী হাকীকী ও হুকমী (খাওয়া, পান করা এবং যৌনসম্ভোগ) বিষয় থেকে বিরত থাকা।”[২]

কারও কারও মতে, ‘সাওম হচ্ছে মুকাল্লাফ তথা শরী’আতের নির্দেশনা প্রযোজ্য এমন লোকের পক্ষ থেকে নিয়তসহ রাত থেকে খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকা।

যুরযানী রহ. বলনে,

عبارة عن إمساك مخصوص وهو الإمساك عن الأكل والشرب والجماع من الصبح إلى المغرب مع النية.

“সুবহে সাদিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত খাদ্য গ্রহণ এবং যৌনাচার থেকে নিয়তের সাথে বিরত থকার নাম হলো সাওম।”[৩]

রোযার বিধিবদ্ধ নিয়ম হলো- ‘‘সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার এবং যৌনসম্ভোগ থেকে বিরত থাকা।’’

১. রোযা
রোযা আরবি সাওম বা সিয়াম শব্দের ফার্সি প্রতিশব্দ। ইসলামী পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনসম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকে সিয়াম বা সাওম বলে।’ আর যিনি সাওম পালন করেন, তাকে সা-ইম (সায়েম) বা ফার্সিতে রোযাদার বলা হয়ে থাকে।

২. রোযা ফরয হওয়ার শর্তাবলী
প্রত্যেক মুসলমান, সুস্থ, বালেগ, মুকীম এবং হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র মহিলার উপর রোযা রাখা আবশ্যক।

  • আহকাম

১.অমুসলিম: ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কাফিরের উপর রোজা ফরজ নয় এবং তার জন্য ইসলাম গ্রহণের পর কাজা করাও জরুরি নয়। ২. অপ্রাপ্ত বয়স : অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের উপর রোজা ফরজ নয় কিন্তু অভ্যাস গড়ার জন্য তাদেরকে রোজা পালনের আদেশ করা যাবে।

৩. পাগল : প্রাপ্ত বয়স্ক পাগলের উপর রোজা ফরজ নয় এমনকি তার জন্য রোজা করিয়ে নেয়ারও প্রয়োজন নেই, অনুরূপ বিধান যার জ্ঞান লোপ পেয়েছে এবং যে অতি মাত্রায় মতিভ্রম হওয়ার কারণে ভাল-মন্দ তারতম্য করতে পারে না।

৪. অশীতিপর বৃদ্ধ: বার্ধক্যে উপনীত এমন লোক যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে পারে না, অতিমাত্রায় বার্ধক্যের কারণে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারে না।

৫. চির রোগী ও অক্ষম: বিশেষত এমন বৃদ্ধ ব্যক্তি যে রোজা রাখতে শারীরিকভাবে সক্ষম নয়; অসুস্থতার কারণে কিছুক্ষণ পর পর ওষুধ গ্রহণ জরুরি, অন্যথায় অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন রোগী যার রোগমুক্তির সম্ভাবনা নেই। এরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব।

৬. মুসাফির : মুসাফিরের জন্য সফরে রোজা রাখা বা না রাখার এখতিয়ার আছে তবে যদি সফরে রোজা না রাখে তাহলে পরে এসব রোজা কাজা করে নেবে। উল্লে­খ্য, মুসাফির ইচ্ছা করলে যতদিন সফরে থাকবে (উক্ত সফর স্থায়ী বা স্বল্পকালীন হোক) ততদিন রোজা ছাড়তে পারবে।

৭. রোগাক্রান্ত ব্যক্তি: অস্থায়ীভাবে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে রোজা রাখা কঠিন হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবে না, আর রমজানেই সুস্থ হয়ে গেলে অবশিষ্ট রোজা তাকে অবশ্যই রাখতে হবে এবং যেসব রমজানের রোজা রাখতে সক্ষম হয়নি তা সুস্থ হওয়ার পর গাইরে রমজানে কাজা করে নিবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  •  তাহকিক: معدودات، تطوع
1

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • নৈতিকতা গঠনে সাওমের

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে তার পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক অভ্যাস থেকে মুক্ত করা এবং জৈবিক চাহিদা সমুহের মধ্যে স্থুলতা ও স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠা করা।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্র্যপিড়িত মানুষদের জন্য সহানুভূতি জাগে। রোজা মানুষের শারিরিক ও আত্মিক শক্তির উন্নতি সাধন করে। পাশবিক চাহিদার প্রাবল্য যা মানুষের স্বাস্থ্য ধ্বংস করে তা থেকে রোগমুক্তি দেয়।
ইমাম গাজ্জালী ইহইয়াউল উলুম গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ২১২ পৃষ্ঠায় লেখেন, আখলাকে ইলাহী বা আল্লাহর গুণে মানুষকে গুণান্বিত করাই সিয়ামের উদ্দেশ। সিয়াম মানুষকে ফেরেসতাদের অনুকরণের মাধ্যমে,যতদূর সম্ভব নিজেকে প্রবৃদ্ধির গোলামী থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। মানুষের মাঝে সহজাত এমন কিছু প্রবৃত্তি আছে যা বাঁচার জন্য প্রয়োজন, যেমন- খাদ্য গ্রহণ প্রবৃত্তি, আত্মস্থ প্রবৃত্তি, আত্মপ্রতিষ্ঠা প্রবৃত্তি, ক্রীড়া, যৌন ও বিশ্রাম প্রবৃত্তি।

প্রত্যেক প্রানীই এসব প্রবৃত্তির চরিতার্থ চায়। কোন প্রাণীই এইসব প্রবৃত্তির চরিতার্থ করার ব্যাপারে বাধা নিষেদ মানতে চায় না। কিন্তু মানুষকে এইসব প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যেমন, অন্য প্রাণীর খাবারের চাহিদা হলে সে সামনে যা পাবে তাই খায়।

কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তা করতে হয় আমি যা খাচ্ছি তা হালাল না হারাম। তা খাওয়ার অধিকার আছে কিনা। এভাবেই বিবেক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিবেক শক্তিকে পাশবিক শক্তির চাইতে শক্তিশালী করার অনুশীলন করা হয় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে।

তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোজা ফরজ করেছেন মানুষের রূহানী রোগের চিকিৎসা করে এক আল্লাহর সাথে মানুষের গভীর সম্পর্ক সৃষ্টির জন্যে। সর্বপরি তাকওয়ামন্ডিত জীবনযাপন অভ্যস্ত করে তোলার জন্যই রোজা ফরজ করা হয়েছে।

আমাদেরকে রোজার উদ্দেশ্য অনুধাবনের পর জানতে হবে তাকওয়া কি? তাকওয়া আরবি শব্দ। মূল ধাতু বেকায়াতুন। অর্থ- বাঁচা, মুক্তি, সতর্কতা, ভয়। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসুল স. এর পথে জীবন পরিচালনা করা। জীবনের কোন বিভাগে আল্লাহর হুকুম যেন লঙ্গন না হয়, সে সতর্কতার সাথে চলার নামই তাকওয়া।

এরূপ তাকওয়ামন্ডিত জীবন যাদের তারা আখিরাতের শাস্তি থেকে নিস্তার পাবে। সূরা বাকারার ২ নং আয়াতে মুত্তাকীদের পরিচয় এভাবে দেয়া হয়েছে,-তারা গয়েবের প্রতি বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে, আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে খরচ করে, শেষ নবী মুহাম্মদ স. ও তার পূর্ববর্তী নবীদের উপর নাজেল হওয়া কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। সূরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াতে মুত্তাকীদের গুণাবলী এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, আল্লাহ, আখিরাত, ফেরেসতা, নবী রাসুলদের প্রতি যথাযথ ইমানের ঘোষনা দান।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিকটাত্মীয়, গরিবদুঃখীদের মাঝে অকাতরে অর্থ দান। সালাত কায়েম ও যাকাত দেয়া। ওয়াদা পূর্ণ করা ও সবর করা। সর্বাবস্থায় যারা এইসব গুণের অধিকারী তারা মূলত সত্যবাদি এবং তাকওয়ার অধিকারী। তাই রোজা পালনের সাথে সাথে উপরিউক্ত গুণাবলী অর্জনে, সদা তৎপর থাকতে হবে। তাহলেই সিয়ামসাধনার উদ্দেশ্য সফল হবে।

রোজার সামগ্রিক বিধিবিধান :
১। রোজা মানুষের মাঝে সামাজিক সম্পর্ক, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের গুণ সৃষ্টি করে। যেমন হাদিসে রসুল স. বলেন, যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তার এ কাজ তার গুণাহ মাফ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মাফ পাওয়ার কারন হবে। এ হাদিসে মুসলমান ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুট রাখার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

২। রোজা সমবেদনা অনুভূতির গুণ সৃষ্টি করে। বিত্তবান ধনীরা রোজার রাখার মাধ্যমে বুঝতে পারে গরিবদের পেটের জ্বালা। রোজা অসহায় নিঃস্ব মানুষদের প্রতি এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা যোগায়। রাসুল স. বলেন, সে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ মুমিন নয় যে পেটভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত। রোজা অভুক্তদের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে।

৩। মানবজীবনের ইচ্ছাশক্তি ও ব্যবহারিক সংযমশীলতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোজা ফলপ্রসূ শিক্ষা দেয়।

৪। রোজা ব্যক্তিগত আচার আচরন সংশোধনের শিক্ষা দেয়। রসুল স. বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্য কথা ও পাপকাজ ত্যাগ করতে পারবে না তার না খেয়ে থাকা আল্লাহর দরকার নেই।

৫। রোজা সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করে। রসুল স. বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রাখবে তার দাঙ্গা হাঙ্গামা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেউ গালি দিলে বা ঝগড়া ফাসাদ করলে পরিষ্কারভাবে বলা উচিত, ভাই আমি রোজাদার। রোজা এমনিভাবে সামাজিক শান্তি নিশ্চিত

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

Leave a Comment