স্বাধীনতা কি?, স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও,স্বাধীনতার প্রকারভেদ, নাগরিক স্বাধীনতা কাকে বলে

স্বাধীনতা কি?, স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও,স্বাধীনতার প্রকারভেদ, নাগরিক স্বাধীনতা কাকে বলে

আধুনিক বিশ্বে স্বাধীনতা শব্দটি বহুল আলোচিত বিষয়। যদিও স্বাধীনতার অর্থ ব্যাপক। সহজভাবে বলতে গেলে, স্বাধীনতা অর্থ পরাধীন না থাকা। অর্থাৎ নিজের অধীনে থাকার নামই স্বাধীনতা। ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা। শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে গৃহীত, যা Libertinus হতে উদ্ভূত, অর্থ a freed man বা মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাস। যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়। 

সাধারণত, অপরের কাজে কোনােরূপ হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজ সম্পাদন করার অধিকারকে স্বাধীনতা (Liberty) বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।স্বাধীনতার বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।


আরো ও সাজেশন:-

স্বাধীনতার সংজ্ঞা

বিভিন্ন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী স্বাধীনতার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কতিপয় সংজ্ঞা প্রদান করা হলাে-

সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সরের মতে, “স্বাধীনতা বলতে ‘খুশিমত’ কাজ করা বুঝায়, যদি উক্ত কাজ দ্বারা অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা উপভােগে বাধার সৃষ্টি না হয়।”

জর্জ অরওয়েল বলেন, ‘‘স্বাধীনতা হল মানুষ যা শুনতে চায় না তা বলার অধিকার।’’

নেলসন ম্যান্ডেলার মতে, ‘‘স্বাধীন হওয়া মানে কেবল নিজের শিকল ছিঁড়ে ফেলা নয়, এমনভাবে জীবনযাপন করা যা অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং বৃদ্ধি করে।’’

প্রফেসার গেটেল বলেন, “স্বাধীনতা হচ্ছে সেসব কাজ করা এবং উপভােগ করা যেগুলাে করা ও উপভােগ করার যােগ্য।”

সি, ডি, বার্নস এর মতে, ‘‘স্বাধীনতা হলাে ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশ, ব্যক্তির সামর্থ্যের উন্নয়ন।’’

[ বি:দ্র: উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

স্বাধীনতার প্রকারভেদ

স্বাধীনতার বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে রয়েছে যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এছাড়াও আরো অনেক প্রকারের স্বাধীনতা রয়েছে যেমন-

১. নাগরিক স্বাধীনতা: নাগরিক স্বাধীনতা বলতে আইন এবং সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত ব্যক্তি অধিকারসমূহকে বোঝায়। এর মধ্যে বাক স্বাধীনতা, ধর্ম, সমাবেশ এবং ন্যায্য বিচারের অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। নাগরিক স্বাধীনতা সাধারণত আইনি কাঠামোর দ্বারা সুরক্ষিত হয়।

২. ব্যক্তি স্বাধীনতা: ব্যক্তির পছন্দ করার এবং তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন করার স্বাধীনতাকে ব্যক্তি স্বাধীনতা বলে। এতে ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসন, গোপনীয়তা এবং নিজের শরীর, জীবনধারা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের মতো দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৩. রাজনৈতিক স্বাধীনতা: রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূলত ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার, এবং মতামত প্রকাশ করার ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত। এটি ভোটের অধিকার, রাজনৈতিক সংগঠন করার, এবং সমাবেশ করার মতো দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত করে।

৪. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যক্তির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার এবং সম্পত্তি, শ্রম এবং অর্থনৈতিক বিভন্ন বিষয়ে পছন্দ করার স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত। এটি মুক্ত বাজার, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার এবং স্বেচ্ছাসেবী বিনিময়ের নীতিগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

৫. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা: সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি প্রকাশ, সংরক্ষণ এবং অনুশীলন করার স্বাধীনতাকে বোঝায়।

৬. ধর্মীয় স্বাধীনতা: ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যক্তির ধর্ম পালন করার, ধর্মীয় বিশ্বাস ধারণ করার এবং নিপীড়ন বা বৈষম্য ছাড়াই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করার স্বাধীনতাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

Leave a Comment