সার্বজনীন উৎসব হিসাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য তােমার পরিবার/এলাকায় কী ধরনের উৎসবের আয়ােজন করতে পারবে। তার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন কর।

সার্বজনীন উৎসব হিসাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য তােমার পরিবার/এলাকায় কী ধরনের উৎসবের আয়ােজন করতে পারবে। তার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন কর।

সংকেত:

০১। বাংলা নববর্ষকে কেন সার্বজনীন উৎসব বলতে পারি-ব্যাখ্যা কর।
০২। বাংলা নববর্ষ কীভাবে উদ্যাপন কর?
০৩। তােমাদের এলাকায় বৈশাখী মেলা হয় কী ! হলে কী ধরনের পণ্য মেলায় বিক্রি হয়?

নির্দেশনাঃ বিগত বছরগুলােতে তােমার পরিবার/এলাকায় কীভাবে দিনগুলাে উদ্যাপন করা হত তার আলােকে লিখ।

উত্তর সমূহ:

সার্বজনীন উৎসব হিসাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য তােমার পরিবার/এলাকায় কী ধরনের উৎসবের আয়ােজন করতে পারবে। তার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন কর।

বাংলা নববর্ষকে কেন সার্বজনীন উৎসব বলতে পারি-ব্যাখ্যা কর।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন। শহরের কৃত্তিমতা আর গ্রামীণ ঐতিহ্য মিলিয়ে বর্তমানে যা বাংলাদেশের একমাত্র অসাম্প্রাদায়িক ও সার্বজনীন উৎসব। মোঘল আমল থেকেই বাঙ্গালি জাতি বাংলা বর্ষ বরণের এই উৎসবটিকে নিজেদের মতো উদযাপন করে একটা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রূপদান করেছে। তা আজও পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে এও সত্য যে, ধর্মীয় কোন বিধি নিষেধ না থাকলেও সত্যিকারভাবে এই উৎসবটি উদযাপনে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে কিছুটা সংকীর্ণতাও বেশ জোড়ালো ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে কিছুকাল ধরে। এদেশে বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের উপস্থিতি সত্ত্বেও নববর্ষ উদযাপনে মৌলবাদিতার যে বাধা রয়েছে তা বাঙ্গালি সংস্কৃতির উত্তোরণের পথে যে একটা বড় রকমের বাধা তা বলাই যেতে পারে। অতচ এই ধরনের অনুষ্ঠান উদযাপনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি দেশ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলা উচিত জাতীয় নিজস্বতা বিশ্ব দরবারে হাজির করে।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি সহ কিছু উগ্র কনসার্ট ব্যতিত বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কেবল হিন্দু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো ব্যতীত অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা তেমন চোখে পড়ার মতো নয় এখনো। বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বাংলা নববর্ষ উদযানে কোন প্রকার আয়োজন নেই বললেই চলে

দেখা যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে এদেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান হয়ে আসলেও তা অনেকটা প্রাকৃতিক নিয়মেই আর কিঞ্চিৎ অংশ গ্রহণ করছে হিন্দু ও উপজাতীয়রা।

তবে নতুন ধান উঠা এবং কৃষকের এক চিলতে হাসি নিয়ে বাঙ্গালি ঐতিহ্যের এই অন্যতম প্রধান একটি উৎসবের গুরুত্ব সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের অনুধাবন করা যথার্থ হয়ে উঠেছে।

এটিই এদেশের একমাত্র উৎসব হতে পারে যাতে সকল ধর্মের মানুষ সানন্দে এক হয়ে যাবে এবং এক আনন্দে মত্ত হবে

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]


বাংলা নববর্ষ কীভাবে উদ্যাপন কর?

পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত

সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়।

ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত।

কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। মূলত খাজনা আদায় সহজ করার লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।

সম্রাট আকবর তার সভার বিশিষ্ট গুণীজন তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফাতেউল্লাহ্‌ সিরাজীকে দিয়ে আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে এবং বাংলা পঞ্জিকার সমন্বয়ে ‘বাংলা বছর’-এর প্রচলন করেন, যা ‘ফসলী সন’ নামে ১৫৮৪-এর মার্চ মাসে প্রবর্তিত হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিনটি থেকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বছরের সূত্রপাত হয়।

সম্রাট আকবরের আমল থেকেই বাংলা নতুন বছরাগমনের অর্থাৎ বৈশাখের প্রথম দিনটি উৎসবমূখরভাবে উদযাপন হয়ে আসছে।

পুরনো দিনের সব হিসাব পেছনে ফেলে আনন্দের নতুন বছরে পদার্পণ বাঙালিদের মধ্যে ঐতিহ্য হিসেবে টিকে গেছে ‘পহেলা বৈশাখ’ হিসেবে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে।

এরই ধারাবাহিকতায় কালের রুপান্তরে যোগ হয় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা, পান্তা ও ইলিশ খাওয়ার প্রথা, নৌকাবাইচ, বউমেলা, ঘোড়ামেলা ইত্যাদি। সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বৈশাখ উদযাপন হয় ঢাকা শহরকে ঘিরে। বছরের প্রথম সূর্যের আলোকে বরণ করে নিতে দলে দলে লোক সমবেত হয় রমনার বটবৃক্ষের তলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা সারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে। পাঞ্জাবি পরিহিত ছেলেদের পাশে খোঁপায় বেলি ফুলের মালায় সজ্জিত হয়ে, লাল পাড় সাদা শাড়ির তরুণীরা মেতে ওঠে ‘ইলিশ-পান্তা’ উৎসবে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]


আমার এলাকায় বৈশাখী মেলা হয় কী ! হলে কী ধরনের পণ্য মেলায় বিক্রি হয়?

আমারদেশে বৈশাখী মেলা আ‌য়োজ‌নের উল্লেখযোগ্য স্থানগু‌লো হচ্ছে: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার, রংপুরের পায়রাবন্দ, দিনাজপুরের ফুলছড়ি ঘাট এলাকা, মহাস্থানগড়, কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মহেশপুর, খুলনার সাতগাছি, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চল, সিলেটের জাফলং, মণিপুর, বরিশালের ব্যাসকাঠি-বাটনাতলা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, টুঙ্গিপাড়া ও মুজিবনগর এলাকা।

আমার বাড়ি ফরিদপুর আর সেখানে আছে অনেক হিন্দু ধমের লোক তাই অন্য সকল এলাকার চেয়ে আমার এলাকায় বৈশাখী মেলার আন্দন অন্য রকমের।

খেলনা টমটমের টুংটাং শব্দ, তালপাতার বাঁশির পু-পু-পু সুর, নাগরদোলায় দোল খাওয়া শিশু-কিশোরদের কলরবের সঙ্গে পুতুল নাচের আসর থেকে মাইকে ভেসে আসা লোকজ গান আর ঢাক ঢোলের শব্দ নিয়েই গ্রাম-বাংলায় বসে বৈশাখী মেলা। মেলায় থাকে লোকজ খাদ্যদ্রব্য মুড়ি-মুড়কি, জিলাপি, রসগোল্লা, খই-চিড়া বাতাসা। গাঁয়ের বধূদের জন্য কাচের চুড়ি, পুঁতির মালা, রঙিন ফিতা, প্রসাধনীর সারি সারি দোকান। কারুপণ্য, কুটির শিল্প, হস্তশিল্পসহ নানা পণ্য ছাড়াও মাটির তৈরি পুতুল, কাঠের গাড়ি, বাঁশের কুলা-চালুনসহ নানা ধরণের শিশু-কিশোর খেলনা সামগ্রীর পসরা সাজায় দোকানিরা।

পুতুল নাচ, সার্কাস, যাত্রাগান, কবিয়াল গান, লাঠি খেলা, যাদু প্রদর্শনী ইত্যাদি বিনোদনে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ। আর মেলার এ দিনটির জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকে গাঁয়ের বধূ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • ১১ম -১২ম শ্রেণীর এইচএসসি ও আলিম এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ১০ম শ্রেণীর এসএসসি ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৬ষ্ঠ ,৭ম,৮ম ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক
  • ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ লিংক

Leave a Comment