My Ads
বিষয়: ‘সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব’ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লিখুন, অনুচ্ছেদ লিখুন সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব, অনুচ্ছেদ সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব , অনুচ্ছেদ সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন তথা মুক্তিযুদ্ধের রয়েছে একটি ঐতিহাসিক পটভূমি। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের হাতে পরাজিত হন। সে দিন থেকে বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। শুরু হয় ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন। দু’শ বছর ধরে চলতে থাকে ইংরেজদের শোষণ আর নির্যাতন। শাসন-শোষণ, লাঞ্ছনা আর নিপীড়নের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বাঙালি জাতির মনের কোণে জন্ম নিয়েছিল বিক্ষোভ, আন্দোলন আর সংগ্রামের চেতনা। ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের একাংশরূপে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তান সৃষ্টির পর হতে শাসকবর্গের বাঙালি নিধনের ইতিহাস নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ইতিহাস বাঙালিদের হত্যা ও বঞ্চনারই ইতিহাস। জাতীয় জীবন থেকে এ হতাশা মুছে ফেলার জন্য বাঙালিদের করতে হয়েছে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ।
সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণের সমষ্টি। মানুষের জাগতিক নৈপুণ্য ও কর্মকুশলতা, তার বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা, নৈতিকতা, রাজনীতি, ভাষা, কলা, মূল্যবোধ সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, কলা, নীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য যে কোনো বিষয়ে দক্ষতার সর্বাধিক সমাবেশ। মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে বাঁচা।’ তবে সংস্কৃতি শনাক্তকরণের কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নেই, গণ্ডি নেই। এটি চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি। এলাকাভিত্তিক এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। একটা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন প্রণালী অর্থাৎ মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, কজকর্ম, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রচলিত লোককাহিনী, ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান, চিন্তা-চেতনা সবকিছুই সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে।
‘সংস্কৃতি’ বলতে শুধু সুকুমার কলার চর্চা নয়, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মবিকাশ ও আত্মোপলব্ধির এক প্রভাবশালী প্রত্যয়। বিভেদ যেখানে, সংস্কৃতি সেখানে নেই। হিংসা যেখানে আছে, সেখানে সংস্কৃতি নেই। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির স্লোগান ছিল সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার, প্রাণের অধিকার, বাঁচার আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল ভালোবাসা, দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা, দেশের ভাষা-কৃষ্টি ও লালিত আচার-আচরণকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা, দেশের ভাষা-কৃষ্টি ও লালিত আচার-আচরণকে ভালোবাসা। আমাদের সংস্কৃতি চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ এক বলিষ্ঠ প্রত্যয়ী অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে ত্যাগ করতে শিখিয়েছে, বিভেদ ভুলে একতার জয়গান গাইতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজ আমরা স্বাধীন ভূমি পেয়েছি। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আজ যে জাগরণ এসেছে, তার মূলে রয়েছে ’৫২-এর অমর একুশ, আছে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা আমাদের যে চেতনা, যে ত্যাগ, যে শিক্ষা দিয়ে গেছে, তার ওপরই গড়ে উঠেছে আমাদের বর্তমান সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। সুতরাং আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের এক বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
আরো ও সাজেশন:-
অথবা , সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
My Ads
| রচনা ,প্রবন্ধ | উত্তর লিংক | ভাবসম্প্রসারণ | উত্তর লিংক |
| আবেদন পত্র | উত্তর লিংক | অনুচ্ছেদ রচনা | উত্তর লিংক |
| চিঠি ও ইমেল | উত্তর লিংক | প্রতিবেদন | উত্তর লিংক |
My Ads
| Paragraph | উত্তর লিংক | Composition | উত্তর লিংক |
| Application | উত্তর লিংক | উত্তর লিংক | |
| Essay | উত্তর লিংক | Letter | উত্তর লিংক |
My Ads
অথবা , সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণের সমষ্টি। মানুষের জাগতিক নৈপুণ্য ও কর্মকুশলতা, তার বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা, নৈতিকতা, রাজনীতি, ভাষা, কলা, মূল্যবোধ সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, কলা, নীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য যে কোনো বিষয়ে দক্ষতার সর্বাধিক সমাবেশ। মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে বাঁচা।’ তবে সংস্কৃতি শনাক্তকরণের কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নেই, গণ্ডি নেই। এটি চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি। এলাকাভিত্তিক এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। একটা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন প্রণালী অর্থাৎ মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, কজকর্ম, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রচলিত লোককাহিনী, ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান, চিন্তা-চেতনা সবকিছুই সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে।
‘সংস্কৃতি’ বলতে শুধু সুকুমার কলার চর্চা নয়, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মবিকাশ ও আত্মোপলব্ধির এক প্রভাবশালী প্রত্যয়। বিভেদ যেখানে, সংস্কৃতি সেখানে নেই। হিংসা যেখানে আছে, সেখানে সংস্কৃতি নেই। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির স্লোগান ছিল সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার, প্রাণের অধিকার, বাঁচার আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল ভালোবাসা, দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা, দেশের ভাষা-কৃষ্টি ও লালিত আচার-আচরণকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা, দেশের ভাষা-কৃষ্টি ও লালিত আচার-আচরণকে ভালোবাসা। আমাদের সংস্কৃতি চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ এক বলিষ্ঠ প্রত্যয়ী অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে ত্যাগ করতে শিখিয়েছে, বিভেদ ভুলে একতার জয়গান গাইতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজ আমরা স্বাধীন ভূমি পেয়েছি। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আজ যে জাগরণ এসেছে, তার মূলে রয়েছে ’৫২-এর অমর একুশ, আছে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা আমাদের যে চেতনা, যে ত্যাগ, যে শিক্ষা দিয়ে গেছে, তার ওপরই গড়ে উঠেছে আমাদের বর্তমান সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। সুতরাং আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের এক বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
- হিসাববিজ্ঞান তথ্যপদ্ধতি সাজেশন অনার্স ৪র্থ বর্ষের, অনার্স ৪র্থ বর্ষ হিসাববিজ্ঞান তথ্যপদ্ধতি সাজেশন
- Philosophy Department Honors 1st Year Suggestions,Philosophy Department Honors 1st Year Suggestions PDF
- দর্শন ডিপার্টমেন্ট অনার্স ১ম বর্ষ সাজেশন PDF, দর্শন ডিপার্টমেন্ট অনার্স ১ম বর্ষ সকল বিষয়ের সাজেশন
অথবা , সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
সংস্কৃতি হল মানুষের আচার-আচরণকে পরিশীলিত করে জ্ঞান ও কর্মের সহযোগী হয়ে, সত্য ও সুন্দরের পথে এক সম্মিলিত সুন্দর জীবন ভাবনার সফল রূপায়ণ। মানুষ জন্মেই মানুষ হয় না, তাকে সাধনা করতে হয়। এই সাধনার মূল আশ্রয় তার আত্মা। আত্মার আনন্দকে অবিনাশী করে তোলার সাধনাই সংস্কৃতি। হিংসা-বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে এক ঘনিষ্ঠ জীবনবোধ, এক পরিশীলিত জীবন কামনা সংস্কৃতির মূল কথা। আমাদের দেশ, ভাষা, মাটি, মানুষ সবই আমাদের প্রিয়। আমাদের চেতনায় এক সুন্দর পৃথিবী বিরাজ করে। সে পৃথিবীতে শোষণ নেই, শাসনের নামে নির্যাতন নেই, ধর্মের নামে প্রতিহিংসা ও ঘৃণা নেই। মনুষ্যত্ব যে সবচেয়ে বড় সত্য সে বোধ বা চেতনা থেকেই আমাদের মুক্তির আকুলতা মুকুলিত হয়েছিল। এ আমাদের সংস্কৃতি। অন্যায়কে, অসত্যকে, হিংসা-বিদ্বেসকে দূরে সরিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মহৎ অভিযাত্রাই আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের উজ্জ্বল আনন্দ। সে আনন্দের প্রতিষ্ঠা, শুভ ও কল্যাণের আবাহন আমাদের সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। সংস্কৃতি বলতে আমরা অতীতের অন্ধ অনুসরণকে বুঝি না, আমরা মুক্ত বুদ্ধির আলোকে সংস্কৃতিকে নবরূপে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ী পথিক। এক কথায় দেশকে ভালবাসা, দেশের মানুষকে ভালবাসা, মায়ের মুখের ভাষাকে মর্যাদা দেয়া আমাদের কর্তব্য। এই কর্তব্য সচেতনতা আমাদের মনের আকাশে পান্না হয়ে জ্বলে।
দীর্ঘদিন আমরা পরাধীন ছিলাম। পরাধীনতা আমাদেরকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছিল। আমাদের ভাষার মর্যাদা হয়েছিল লুণ্ঠিত, আমাদের মাঝে বিভেদের বীজ বুনে দেয়া হয়েছিল। আমরা উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলাম হিংসার পথে। কিন্তু এ আমাদের উত্তরাধিকার নয়। আমরা এদেশে আবহমানকাল ধরে বাস করে এসেছি। আমাদের চেতনায় এক নির্মল ভালবাসা খেলা করেছে। মানুষ হিসেবে আমরা বাঁচতে চেয়েছি। তবে সংগ্রাম করেছি বিদেশি দস্যুর বিরুদ্ধে, সংগ্রাম করেছি কূটচক্রী সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে। আমাদের দেশের মাঠভরা ফসল, আর গলাভরা গান এই-ই ছিল আমাদের সংস্কৃতি। দাসত্বের তিলক ধারণ করে আমরা রাজা হতে চাইনি, আমরা গরুর রাখাল হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চেয়েছি। এই স্বাধীনভাবে বাঁচাই আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। এই বাঁচার চেতনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকে রূপান্তরিত করেছিল।
আমাদের সংস্কৃতির উত্তর কৌশলগত আগ্রাসনগত আমাদের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের বীজ বুনে দিয়েছিল। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে সে বীজ অংকুরিত হয় এবং নির্যাতন, বঞ্চনা, বিভেদ সৃষ্টির অপকৌশল ইত্যাদি প্রতিকূল আবহাওয়ায় সে বিদ্রোহবৃক্ষ মহীরূপে পরিণত হয়। তারই ছায়াতলে লালিত আমাদের স্বপ্নের, আমাদের সাধনার জগৎ। সে সুন্দর জগতকে আবাহন করতে গিয়েই আমাদের ধরতে হয়েছিল অস্ত্র। আমাদের অস্ত্রধরার মূল চেতনা ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সে অধিকার বাঁচার। শিক্ষার আনন্দে উদ্বোধিত। আমরা এখন স্বাধীন। এই স্বাধীন দেশে আমাদের মনের প্রসার ঘটিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তির উপর এক অনাবিল জীবনধারা গড়ে তোলাই আমাদের সাধনা।
My Ads
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
অথবা , সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’। কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতার দুটি চরণ। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কবিতাটি লেখা। তবে ৬৯-এর গণ-আন্দোলনের ওপর লেখা হলেও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তরুণ নওজোয়ানদের যুদ্ধে যেতে তথা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে কতখানি যে উদ্বুদ্ধ করেছিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ করে। অতঃপর সেনা ইউনিটগুলো নিরস্ত্রীকরণ ও নিধন, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে অবাধে হত্যার তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, সামরিক, আধা-সামরিক, বেসামরিক বাহিনীসহ ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ এবং আপামর জনতা। প্রথমদিকে এই যুদ্ধ ছিল অসংগঠিত, স্থানীয় নেতৃত্বনির্ভর, আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বিরাট শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসম লড়াই। ফলে যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এটিকে পরিকল্পিত রূপ দেওয়ার জন্য গঠন করা হয় মুক্তিবাহিনী এবং অঞ্চল ভিত্তিতে বিভিন্ন আঞ্চলিক বাহিনী। সব সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংগঠনসমূহের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম ছিল চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রটি। এটিই ছিল স্বাধীনতাপ্রত্যাশী বাঙালির কাছে প্রথম চলচ্চিত্র। একই সঙ্গে মঞ্চনাটক মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রেও অতুলনীয় গুরুত্ব বহন করে। এটিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফসল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া জর্জ হ্যারিসনের The Concert for Bangladesh ও বব ডিলানের সাংস্কৃতিক অবদান ছিল প্রেরণাময়। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানসহ সব রাষ্ট্রীয় সংকটে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা সব সময় থেকেছেন সোচ্চার।
My Ads
এখন বিজয়ের মাস। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করেছি। কিন্তু দারিদ্র্য, আর্থিক বৈষম্য, দুর্নীতি, টেকসই উন্নয়নের যুদ্ধ এখনো অব্যাহত আছে। এসব ক্ষেত্রে বিজয় এখনো আমাদের অধরা রয়ে গেছে। বিজয়ের মাসে তাই জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এসেছে। সর্বোপরি তরুণ প্রজন্ম আজ যে সোনার বাংলা অবলোকন করছে তা এক দিন বা একজনের চেষ্টায় সম্ভব হয়নি। অনেক মানুষের চেষ্টা, সংগ্রাম, ত্যাগণ্ডতিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে সবুজ ক্ষেত্রের ওপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত তথা লাল সবুজের পতাকা। আর এই লাল সবুজের পতাকা তথা বাংলাদেশকে রক্ষা করা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
My Ads
| রচনা ,প্রবন্ধ | উত্তর লিংক | ভাবসম্প্রসারণ | উত্তর লিংক |
| আবেদন পত্র | উত্তর লিংক | অনুচ্ছেদ রচনা | উত্তর লিংক |
| চিঠি ও ইমেল | উত্তর লিংক | প্রতিবেদন | উত্তর লিংক |
My Ads
| Paragraph | উত্তর লিংক | Composition | উত্তর লিংক |
| Application | উত্তর লিংক | উত্তর লিংক | |
| Essay | উত্তর লিংক | Letter | উত্তর লিংক |
অথবা , সাংস্কৃতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব অনুচ্ছেদ
মুক্তিযুদ্ধের নানা দিক নিয়ে লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে, সাংস্কৃতিক প্রণোদনা নিয়ে লেখা হয়েছে কম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়ে কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে বটে কিন্তু সামগ্রিকভাবে সংস্কৃতি কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গ্রন্থ রচিত হয়নি, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রবন্ধ হয়ত রচিত হয়েছে। সামগ্রিক শব্দটি ব্যবহার করলাম এ কারণে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সীমান্তবর্তী রাজ্যসমূহের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সংস্কৃতিকর্মীরা কী করেছিলেন সে সম্পর্কে ধারাবাহিক কোনো বিবরণ নেই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষক প্রমুখ কী করেছিলেন সে বিবরণ অন্তর্ভুক্ত। যেমন, লেখক/কবি-রা লিখেছিলেন, গায়ক-গায়িকারা গানের জলসা বা বিচিত্রানুষ্ঠান করেছিলেন, গান রেকর্ড করেছেন, শিল্পীরা এঁকেছেন, গণমাধ্যম প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছেপেছে ইত্যাদি। বর্তমান প্রবন্ধ সেই সব কর্মকাণ্ডের ক্ষুদ্র একটি অংশ নিয়ে। বলে রাখা ভালো তথ্যের অভাবে এ প্রবন্ধ সমৃদ্ধ নয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীদের প্রয়াসের মধ্যেই এ প্রবন্ধ সীমিত। এখানে শিল্পীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিচিত্রানুষ্ঠানের বিবরণ দেয়া হয়নি।
গান যে ভালোবাসে না সে খুন করতে পারে- এমন একটি কথার চল ছিল বলে শুনেছিলাম। পরে ভেবে দেখেছি, গান আসলে মানুষকে ভাসিয়ে দিতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শোনা গানগুলি যখন আজো শুনি তখন সে কথা মনে পড়ে।
আরি পড়ুন ›Honors 4th Year Research Methodology (In English) SuggestionHonors 4th Year Research Methodology (In English) Suggestion, Research Methodology (In English) Suggestion PDF,…
আরি পড়ুন ›এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র সাজেশন, HSC English 2nd Paper special short suggestions, এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র ১০০% কমন সাজেশনএইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র সাজেশন ২০২২, HSC English 2nd Paper special short suggestions 2022,…
আরি পড়ুন ›সালামে তোমায় ধন্য হতাম – মুহাম্মদ সুফিয়ান তাসদিকসালামে তোমায় ধন্য হতাম - মুহাম্মদ সুফিয়ান তাসদিক প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠিপাক-সাফ দিলে।ভোরের বাতাসে…
মুক্তিযুদ্ধে আমরা ১১টি সেক্টরের কথা বলি। কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি সেক্টর ছিল যাকে বলা যেতে পারে বারো নাম্বার সেক্টর- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিবিসি যে ভূমিকা রেখেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রও ১৯৭১ সালে সে ভূমিকা রেখেছিল। স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলি শোনার জন্য কী আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। এসব গান বারবার মনে করিয়ে দিত, বেঁচে থাকতে হবে। একদিনের কথা মনে আছে। গভীর রাত, নিঃশব্দ, মাঝে মাঝে পাকিস্তানি সৈন্যদের জিপ বা ট্রাকের শব্দ। বিবিসির অনুরোধের আসর শুনছি। হঠাৎ শুনলাম, বাংলাদেশের নোয়াখালী থেকে এক শ্রোতা অনুরোধ করেছেন জোন বায়েজের একটি গানের জন্য। জোন বায়েজ সুরেলা গলায় গাইতে লাগলেন, ‘উই শ্যাল ওভার কাম সাম ডে’। আমার চোখে আচম্বিতে পানি চলে এল কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো- না অতিক্রম আমরা করব- সব করা যাবে, বিজয়ী আমরা হবোই।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র [এরপর থেকে কেন্দ্র] এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল গান। কেন্দ্র নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে এখানে আমি আর তার বয়ান দেব না এবং এ বিবরণে তা প্রাসঙ্গিকও নয় তেমন। তবুও বলবো, এর ভূমিকা বাদ দিয়ে কোনো রচনা সম্পূর্ণ হবে না।
উনিশ শতকের শেষার্ধ বা বলা চলে বিশ শতকের গোড়া থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত রচিত গানই প্রচারিত হতো কেন্দ্র থেকে। সাদামাটা ভাষায় বলা যায় দেশাত্মবোধক, গণজাগরণমূলক সেইসব গান। সেখানে রবীন্দ্রনাথ তো ছিলেনই, ছিলেন নজরুল, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে সেই সময়ের গোবিন্দ হালদার পর্যন্ত। সেই সব গান বঙ্গভঙ্গের সময়, চল্লিশের দশকে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের সময় মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই একইভাবে বাঙালিকে প্রণোদনা জুগিয়েছিল এবং তা সামগ্রিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের গান হিসেবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এসব পুরনো গানের পাশাপাশি গীতিকাররা বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের লিখলেন নতুন নতুন গান। গাইলেন বিখ্যাত সব শিল্পীরা। সেই সব গান নিয়মিত প্রচারিত হতে লাগল কেন্দ্র থেকে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বাইরে যে সব গান গাওয়া হয়েছে সেগুলি এ আলোচনায় আসবে না। স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলি নিয়ে আলোচনা করব। আলোচনা করব প্রধানত : পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা কী করেছিলেন তা নিয়ে।
কেন্দ্র থেকে মূলত চার ধরণের গান প্রচারিত হয়েছে- উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত রচিত গান যাকে বলা হতো স্বদেশী সঙ্গীত। এ গানগুলির অধিকাংশ রচয়িতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুল প্রসাদ সেন প্রমুখ। যেমন-
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি-রবীন্দ্রনাথ
কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট-নজরুল
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি : অজ্ঞাত
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা : দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
মোদের গরব মোদের আশা : অতুল প্রসাদ সেন
মায়ের দেয়া মোটা কাপড় : রজনীকান্ত সেন
ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে : মুকুন্দু দাস
মানুষ হ’ মানুষ হ’ আবার তোরা মানুষ; গুরু সদয় গুপ্ত
মুক্তির মন্দির সোপান তলে: মোহিনী সেন
এর দিকে গাওয়া আইপিটিএ বা গণসংস্থার গাওয়া গানগুলি যার মধ্যে সলিল চৌধুরীর সুরারোপিত গানগুলিই বেশি প্রচার করা হতো। যেমন-
মানব না এই বন্ধনে : সলিল চৌধুরী
শোন দেশের ভাই ভগিনী : হেমাঙ্গ বিশ্বাস
বিচারপতি তোমার বিচার : সলিল চৌধুরী
গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা : ভুপেন হাজারিকা
বিশ শতকের শুরু থেকেই এ গানগুলির [ক্রম ১-৯] সঙ্গে বাঙালি পরিচিত। স্বদেশি গান যারা লিখেছিলেন ও সুর করেছিলেন তারা দুটি বিষয়ে খেয়াল রেখেছিলেন।
My Ads
গানের বাণী
গানের সুর। গানের কথায় যেন দেশের কথা, দেশকে ভালোবাসার কথা মূর্ত হয়। আবেগের সৃষ্টি হয়। বিশ শতকে যে স্বদেশি গানের শুরু হয়েছিল তাতে মার্গ সঙ্গীতের প্রভাব ছিল। রবীন্দ্রনাথ থেকে অতুল প্রসাদ সবাই বাউল, ভাটিয়ালি সারি গানের সুরে জোর দিয়েছিলেন। যে কারণে স্বদেশী গান নি¤œ বর্গের মানুষের কাছেও আদৃত হয়েছিল এবং কালে তা ধ্রুপদী সঙ্গীতে পরিণত হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছিলেন। লিখেছেন নীহাররঞ্জন রায়- “যে সমস্ত গানকে আশ্রয় করিয়া বাঙালীর মর্মবাণী সেদিন ভাষা পাইয়াছিল, সে সব গান প্রায় সমস্ত রবীন্দ্রনাথের রচনা এবং এই সময়কার রচনা”।
১৯৭১ সালে রবীন্দ্রনাথের লেখা গানই কেন্দ্র থেকে বেশি প্রচারিত হয়েছে। ষাটের দশকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আমাদের যে লড়াই তাই প্রতিফলিত হয়েছে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে। রবীন্দ্রনাথের যেসব গান প্রচারিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা যেতে পারে-
আমার সোনার বাংলা
আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে
ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা
বাঁধ ভেঙ্গে দাও, বাঁধ ভেঙ্গে দাও
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
বাংলার মাটি বাংলার জল
যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক
আমি ভয় করবো না ভয় করবো না
বাংলার মাটি বাংলার জল
শুভ কর্মপণে ধরো নির্ভয় গান
সঙ্কোচের বিহ্বলতা, নিজের অপমান
ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
দেশে দেশে ভ্রমি যব দুখ গান গাহিয়ে
এবার তোরা মরা গাঙে বান এসেছে
এবার মরা গাঙে বান এসেছে
এরপর বোধহয় স্থান ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর গানের তালিকায় আছে-
এই শিকল পরা ছল
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
চল চল চল
দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাপার
তোরা সব জয়ধ্বনী কর
মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম
জাগো অনশন বন্দী ওঠরে যতো
জাগো নারী বসীন শিখা
একি অপরূপ রূপে মা তোমার
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
বিশ শতকের চল্লিশ দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গণনাট্য সংঘের অনেকে বিভিন্ন ভাষায় গান রচনা করেছিলেন। সুর দিয়েছিলেন বা লিখেছিলেন যেমন, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, বিনয় রায়, সলিল চৌধুরী প্রমুখ। তাঁরা বিভিন্ন স্বদেশী গানও কোরাসের মাধ্যমে ‘গণসঙ্গীতে’ রূপান্তর করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁরা অনেক গেয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে খাজা আহম্মদ আব্বাস লিখেছিলেন-
‘‘For through famine or invasion, imperialist oppression or proletarian upsurge, the voice of Tagore remains the voice of Bengal consoling, exhorting the people of great unhappy land.” [অনুরাধা রায়, চল্লিশ দশকে বাংলায় গণসঙ্গীত আন্দোলন]
গণনাট্য সংঘের আন্দোলনের সময় গাওয়া সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস বা ভুপেন হাজারিকার গানই বেশি প্রচারিত হয়েছে বিশেষ করে সলিল চৌধুরীর যেমন
আমার প্রতিবাদের ভাষা
মানব না এই বন্ধনে
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা
৪. ঢেউ ছুটছে কারা ছুটছে
My Ads
এ গানের ক্ষেত্রেও তিনি লোকগীতির সুর ভেঙে সুর দেওয়ার কাজ করেছেন। “জীবনে জীবনে, যোগ করার আগ্রহে অধিকাংশ সময় গণসঙ্গীতকাররা লোকগীতির ভাষা ও সুর ধর করতেন।” তবে, সলিল চৌধুরী ছিলেন বিপরীত। “তার সাংগঠনিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান ছিল পাশ্চাত্য সঙ্গীত। পিতার সংগৃহীত অজস্র সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও নিগ্রো স্পিরিচুয়ালের মতো পশ্চিমা লোকসঙ্গীতের রেকর্ড শুনে তিনি বড় হয়েছেন।” [ঐ]
ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত যে সব গান রচিত হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে সেগুলি পুনঃপ্রচার হয়েছে। এর অধিকাংশ ঢাকা বা চট্টগ্রামের স্টুডিও রেকর্ড বা ঢাকায় প্রকাশিত গ্রামোফোন রেকর্ড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাজী মাজহারুল আনোয়ার রচিত সিনেমার গান। ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। [সুরকার : আনোয়ার পারভেজ] কেন্দ্রের অধিবেশনের শুরু ও শেষ হতো এই গান দিয়ে। বেলাল মোহাম্মদ এর একটি তালিকা দিয়েছেন [রবীন্দ্র ও নজরুলগীতি বাদে]
কেঁদো না কেঁদো না মাগো
জনতার সংগ্রাম চলবেই : সিকান্দার আবু জাফর, সুরকার : শেখ লুৎফর রহমান
সোনা সোনা সোনা : আব্দুল লতিফ : সুরকার : আবদুল লতিফ, শিল্পী শাহনাজ রহমাতুল্লাহ
সালাম সালাম হাজার সালাম : ফজল-এ- খোদা
ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল : আবু বকর সিদ্দিক, সুরকার: সাধন সরকার
আমার নেতা/ তোমার নেতা শেখ মুজিব : আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সুরকার: সমর দাস
রক্তেই যদি ফোটে জীবনের : শামসুল হুদা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো : আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্টুডিয়োতে যে সব গান রেকর্ড করা হয়েছিল তারও একটি তালিকা দিয়েছেনÑ
আমি শুনেছি আমার মায়ের কান্না- ফজল-এ-খোদা- শিল্পী মান্না হক
নোঙর তোল তোল সময়- নঈম গরহর সুরকার: নয়ীম গওহর
একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে- গোবিন্দ হালদার-শিল্পী আপেল মাহমুদ
ও বগিলারে কেন বা আলু- হরলাল রায়-শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়
অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা- টি এইচ শিকদার
অত্যাচারের পাষাণ কারা- আল মোজাহেদী
সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের-গীতিকার ও সুরকার মোকসেদ আলী সাই-শিল্পী আবদুল জব্বার ও কোরাস
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর-গীতিকার ও সুরকার, শিল্পী : আপেল মাহমুদ ও রথীন্দ্রনাথ রায়
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে- গোবিন্দ হালদার-শিল্পী স্বপ্না রায়
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে- গোবিন্দ হালদার- সুরকার সমর দাস
আমি এক বাংলার মুক্তি সেনা- নেওয়াজিস খান
মুক্তির একই পথ সংগ্রাম-শহীদুল ইসলাম
জগৎবাসী বাংলাদেশকে যাও দেখিয়া- সরদার আলাউদ্দীন
রুখে দাঁড়াও- সরদার আলাউদ্দীন
মানুষ হ মানুষ হ- গুরু সদয় দত্ত- কামরুল হাসান- বেলাল মোহাম্মদ প্রমুখ
বলাবাহুল্য তালিকাটি অসম্পূর্ণ। আসলে কেন্দ্রের ইতিহাস লেখা হলেও, কারা কিভাবে গান লিখেছেন, কী কী গান লিখেছেন, তার অভিঘাত কী ছিল, সম্পূর্ণ গানের তালিকা- এ সম্পর্কে তথ্য প্রায় নেই বললেই চলে। বেলাল মোহাম্মদের ঐ তালিকা ছাড়া অন্যান্য তথ্য থেকে কিছু গানের তালিকা পাই। ধরে নিতে পারি তার কিছু কেন্দ্রের স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল। যেমন-
অনেক ভুলের মাশুল তো ভাই- অনল চট্টোপাধ্যায়, সুর অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়
আমাদের চেতনার সৈকতে- নাজিম মাহমুদ, সুর সাধন সরকার
আজি সপ্ত সাগর ওঠে উচ্চলিয়া-সত্যেন সেন, সুর অজিত রায়
আমরা তো সৈনিক শান্তির সৈনিক-আখতার হোসেন- সুর সেলিম রেজা
উঠলোরে ঝড়- দিন বদলের পালা-ওমর শেখ
একুশ আসে জানাতে বিশে^- লোকমান হোসেন জাকির
এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে- খান আতাউর রহমান [এটি খুব সম্ভব আগে রেকর্ড করা]
ও বাজান চল যাই চল- জসিম উদ্দিন
ওরে ভাইরে ভাই বাংলাদেশে বাঙালি আর নাই- আনিসুল হক চৌধুরী, সুর শেখ লুৎফর রহমান
ও হে কাল চাঁদ-রুহুল আমিন প্রামাণিক, সুর আবদুল আজীজ বাচ্চু
ওরে মাঝি দে নৌকা- শহীদ সাবের, সুর শেখ লুৎফর রহমান
কারখানাতে খেত খামারে- এনামুল হক, সুর আলতাফ মাহমুদ
কে কে যাবি আয়রে- ইন্দ্র মোহন রাজবংশী-ঐ
ঘুমের দেশে ঘুম ভাঙাতে- বদরুল হাসান, সুর আলতাফ মাহমুদ
চলছে মিছিল চলবে মিছিল- দিলওয়ার, সুর অজিত রায়
জলপথ প্রান্তরে সাগরের বন্দরে- মুস্তাফিজুর রহমান, সুর সমর দাশ
ডিম পাড়ে হাঁসে খায় বাগদাসে- ফেরদৌস হোসেন ভুঁইয়া, সুর সুখেন্দু চক্রবর্তী
তারা এ দেশের সবুজ ধানের শীষে – মো. মনিরুজ্জামান, সুর সমর দাশ
দূর হতে আসে ঐ মৃত্যুর পরোয়ানা- চিরঞ্জীব দাশ শর্মা-ঐ
নিষ্ফল কভু হয় না এ ধারায়- নাজিম সেলিম বুলবুল-ঐ
প্রাণে প্রাণ মিল করে দাও- স্বাধীন দাশ গুপ্ত-ঐ
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য-সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুর শেখ লুৎফর রহমান
মিলিত প্রাণের কলরবে- হাসান হাফিজুর রহমান, সুর শেখ লুৎফর রহমান
মানুষের ভালোবাসি ঐ মোর অপরাধ- সত্যেন সেন-ঐ
মুুজিব বাইয়া যাও রে- মোহাম্মদ শফি
মাগো তোমার সোনার মানিক- রাহাত খান, সুর-সুখেন্দু চক্রবর্তী
যায় যদি যাক প্রাণ- আবু হেনা মোস্তফা কামাল-ঐ
রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি-আবুল কাশেম সন্দীপ-সুজেয় শ্যাম
লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়-মতলুব আলী, সুর শেখ লুৎফর রহমান
স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে- আখতার হোসেন অজিত রায়
এ তালিকাও অসম্পূর্ণ বলে আমার ধারণা। তবে, একটি বিষয় লক্ষণীয় ১৯০৫-এর পর থেকে স্বদেশী গানের বিষয়ের যে কথা ও সুর, সে ঐতিহ্য মেনেই রচিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের গান’ [ কেন্দ্র রেকর্ডকৃত]। কামাল লোহানী বলেছিলেন, সে সময় সব সবকিছুর অভাব ছিল, গীতিকার সুরকার, গায়কের। কিন্তু অভাব বোধ হয়নি। কারণ যার যা সম্বল তাই নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন প্রবল উৎসাহে।
স্বাধীন বাংলা বেতারে পরিবেশিত গান খবরেরও বিষয় ছিল
এখানে সকল প্রকাশ শিক্ষা বিষয় তথ্য ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথে থাকুন ।
প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com
My Ads
- হিসাববিজ্ঞান তথ্যপদ্ধতি সাজেশন অনার্স ৪র্থ বর্ষের, অনার্স ৪র্থ বর্ষ হিসাববিজ্ঞান তথ্যপদ্ধতি সাজেশন

- Philosophy Department Honors 1st Year Suggestions,Philosophy Department Honors 1st Year Suggestions PDF

- দর্শন ডিপার্টমেন্ট অনার্স ১ম বর্ষ সাজেশন PDF, দর্শন ডিপার্টমেন্ট অনার্স ১ম বর্ষ সকল বিষয়ের সাজেশন

My Ads