শেয়ার বিক্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর

Google Adsense Ads

শেয়ার বিক্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর

শেয়ার বিক্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি

যখন কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের জন্য শেয়ার ইস্যু করতে চায়, তখন বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই শেয়ার বাজারে বিক্রি করা হয়। মূলত প্রাথমিক বাজার (Primary Market) এবং দ্বিতীয় বাজার (Secondary Market) এই দুই পর্যায়ে শেয়ার বিক্রয় হতে পারে।

নিম্নে শেয়ার বিক্রয়ের প্রধান পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:


১. প্রাথমিক বাজারে শেয়ার বিক্রয়ের পদ্ধতি

যখন কোনো কোম্পানি প্রথমবার শেয়ার ইস্যু করে, তখন সেটি প্রাথমিক বাজারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

ক. প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (IPO – Initial Public Offering)

  • এটি সেই পদ্ধতি যেখানে কোম্পানি প্রথমবারের মতো পাবলিকের কাছে শেয়ার বিক্রি করে।
  • IPO এর মাধ্যমে কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।
  • মূলত ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ বা নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
  • বিনিয়োগ ব্যাংক IPO প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরো ও সাজেশন:-

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন
গণিত এর সমাথানBook PDF

খ. রাইট শেয়ার ইস্যু (Rights Issue)

  • যখন একটি কোম্পানি তার বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নতুন শেয়ার ইস্যু করে, তখন এটিকে রাইট শেয়ার ইস্যু বলে।
  • শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট অনুপাতে শেয়ার কেনার অধিকার দেওয়া হয়, যা বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে হতে পারে।
  • এই পদ্ধতি মূলত অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়।

গ. প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু (Preference Share Issue)

  • প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডাররা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে আগে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন।
  • এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান।

ঘ. বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু

  • কিছু কোম্পানি শেয়ার বিক্রির পরিবর্তে বন্ড বা ডিবেঞ্চার ইস্যু করে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ঋণনির্ভর সিকিউরিটি।

২. দ্বিতীয় বাজারে শেয়ার বিক্রয়ের পদ্ধতি

প্রাথমিক বাজারে শেয়ার কেনার পর বিনিয়োগকারীরা চাইলে সেগুলো দ্বিতীয় বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এখানে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা হয়।

ক. স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রয়

  • স্টক এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেন।
  • কোম্পানির শেয়ার একবার তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটি সাধারণভাবে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হয়।
  • এখানে শেয়ারের দাম চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

খ. ওভার দ্য কাউন্টার (OTC) মার্কেট

  • স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে OTC মার্কেটে শেয়ার লেনদেন করা হয়।
  • এটি সাধারণত ছোট ও মাঝারি কোম্পানির শেয়ারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

গ. ব্লক ডিল ও বাল্ক ডিল

  • যখন বড় বিনিয়োগকারীরা বড় পরিমাণ শেয়ার কেনা-বেচা করেন, তখন তাকে ব্লক ডিল বা বাল্ক ডিল বলা হয়।
  • সাধারণত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা এই ধরনের লেনদেন করে।

৩. বিশেষ পদ্ধতিতে শেয়ার বিক্রয়

ক. অফার ফর সেল (Offer for Sale)

  • বড় শেয়ারহোল্ডাররা বা প্রবর্তকরা (Promoters) তাদের শেয়ার বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে চাইলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

খ. প্রাইভেট প্লেসমেন্ট (Private Placement)

  • প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানি নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা বা উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে।
  • এটি তুলনামূলক দ্রুত ও কম খরচে মূলধন সংগ্রহের একটি উপায়।

গ. বুক বিল্ডিং পদ্ধতি (Book Building Process)

  • বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ারের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং সর্বোচ্চ দর অনুযায়ী শেয়ারের দাম নির্ধারণ করে।
  • এই পদ্ধতি সাধারণত IPO এর সময় ব্যবহার করা হয়।

উপসংহার

শেয়ার বিক্রয়ের পদ্ধতি কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের কৌশল এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। IPO, রাইট শেয়ার, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেন — এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।

Google Adsense Ads

উপসংহার :শেয়ার বিক্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ শেয়ার বিক্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর

আরো পড়ুন:

Google Adsense Ads

Leave a Comment