শব্দগত অর্থে পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?, আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?,তুমি কীভাবে একজন স্থানীয় নাগরিক?,পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?,জাতি বলতে কী বোঝায়?,পৌরনীতির সাথে ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক লেখো

প্রশ্ন সমাধান: শব্দগত অর্থে পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?,আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?,তুমি কীভাবে একজন স্থানীয় নাগরিক?,পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?,জাতি বলতে কী বোঝায়?,পৌরনীতির সাথে ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক লেখো

১. শব্দগত অর্থে পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : শব্দগত অর্থে পৌরনীতি হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের আচরণ ও কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান।


পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে দুটি ল্যাটিন শব্দ- Civis ও Civitas থেকে। Civis অর্থ ‘নাগরিক’, আর Civitas অর্থ ‘নগররাষ্ট্র’। সুতরাং উৎপত্তিগত অর্থে নগররাষ্ট্র ও নগরবাসী সম্পর্কিত রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে জ্ঞানের যে শাখা গড়ে উঠেছে তাই পৌরনীতি। সংস্কৃত ভাষায় নগরকে ‘পুর’ বা ‘পুরী’ এবং নগরের অধিবাসীদের ‘পুরবাসী’ বলা হয়। আর পৌর হচ্ছে ‘পুর’ এর বিশেষণ যার অর্থ পুর বা নগর সংক্রান্ত বিষয়। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স, স্পার্টা ইত্যাদি ছিল এক একটি নগররাষ্ট্র। তবে বিশ্বের বর্তমান রাষ্ট্রগুলো প্রাচীন গ্রিসের ‘নগররাষ্ট্রের’ (City-State) মতো ছোট ও সরল নয়।

২. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং সব কিছুর ওপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে— এটাই আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।


আরো ও সাজেশন:-

৩. তুমি কীভাবে একজন স্থানীয় নাগরিক?
উত্তর : আমি স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করি। এ সূত্রে আমি একজন স্থানীয় নাগরিক।


স্থানীয়ভাবেই ব্যক্তির নাগরিক জীবন শুরু হয়। স্থানীয় এলাকায় বসবাস করতে গিয়ে নাগরিকের সাথে কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিক কতগুলো সেবা গ্রহণ করে এবং এই সেবার বিনিময়ে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা নাগরিক সনদ, জন্মসনদসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করি। বিনিময়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের কর দেই।

৪. পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
উত্তর : নাগরিক ও নাগরিকের জীবনের সাথে যুক্ত সব বিষয় আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।


নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকার কার্যকলাপ নিয়ে পৌরনীতি অনুশীলন চালায়। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে যুক্ত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতির বিষয়বস্তু।

৫. জাতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত সমাজকে জাতি বলে। জাতি বলতে আমরা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ সেই জনসমাজকে বুঝি যারা একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে বসবাস করে, যাদের মধ্যে বংশ, ধর্ম, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য বিদ্যমান। এসব ক্ষেত্রে ঐক্যের সূত্রে তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে নিজেদের আলাদা ভাবে। পাশাপাশি তারা স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সংঘবদ্ধ হয়। ওই জনগোষ্ঠী প্রয়োজনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকে। উদাহরণস্বরূপ- বাঙালি জাতি, জার্মান জাতি, ইংরেজ জাতির কথা বলা যায়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৬. পৌরনীতির সাথে ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক লেখো।
উত্তর : পৌরনীতি ও সুশাসন হচ্ছে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান, আর ইতিহাস হলো মানবজাতির সামগ্রিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই এ দুই বিষয়ের সম্পর্ক নিবিড়। পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক নিচে দেওয়া হলো-


১. পৌরনীতি ও সুশাসনে আলোচিত বিষয়সমূহ যেমন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রভৃতি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ অতীতে কেমন ছিল, কীভাবে তা বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে ইতিহাস পাঠ করলে তা জানা যায়।


২. ঐতিহাসিক তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকে। তেমনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচিত না হলে ইতিহাসের আলোচনাও খণ্ডিত ও অনেকাংশে নিরর্থক।


Paragraph/Composition/Application/Email/Letter/Short Storiesউত্তর লিংক
ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেলউত্তর লিংক

৭. স্বজনপ্রীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : স্বজনপ্রীতির সাধারণ অর্থ হলো আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজনের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ বিষয়টি এক ধরনের দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।


কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে প্রচলিত নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে এবং যোগ্য লোককে বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের সুযোগ-সুবিধা দিলে তাকে স্বজনপ্রীতি (Nepotism) বলা হয়। যেমন- সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাধারণত উচ্চপদের কর্তারা অনেক সময় স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। ফলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অযোগ্য লোক নিযুক্তি পায়। অন্যদিকে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়।

৮. পৌরনীতির সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক কেমন?
উত্তর : পৌরনীতি ও অর্থনীতি দুটি স্বতন্ত্র বিষয় হলেও এদের বিচ্ছিন্ন করে দেখার অবকাশ নেই।
কারণ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকারের রূপ অর্থনৈতিকব্যবস্থার দ্বারা নির্ণয় করা হচ্ছে।

 ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, পুঁজিবাপ, সমাজবাদ ও মিশ্র অর্থনীতির মাধ্যমে পুঁজিবাদী সমাজবাদী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। দেশের আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের ধারণা ও অবস্থান, শিল্প, বাণিজ্য, উৎপাদন, বণ্টন ও ভূমি ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এভাবেই পৌরনীতি ও অর্থনীতি পরস্পর সম্পর্কিত।

৯. স্বচ্ছতা বলতে কী বুঝ?
উত্তর : স্বচ্ছতা হলো এমন একটি বিমূর্ত ধারণা যা দ্বারা মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে, কোনো কর্মকাণ্ড কতটুকু নীতিসলত বা বৈধ। এককথায় স্বচ্ছতা হলো সুস্পষ্টতা। এটি সুশাসনের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরকারি কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর সুশাসন নির্ভর করে। তাই স্বচ্ছতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন সরকার তাদের কর্মকা-, নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত জনগণকে অবহিত করতে পারবে।

১০. ‘পৌরনীতি একটি অন্যতম সামাজিক বিজ্ঞান’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : সমাজবদ্ধ মানুষের নাগরিক জীবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রথা, আইন, আচার-অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে। সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমাজ ও নাগরিকতার সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি একটি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে নাগরিকতার সাথে জড়িত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তাই পৌরনীতিকে একটি অন্যতম সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment