Google Adsense Ads
বিষয়: রানি ২য় এলিজাবেথ সম্পর্কে A-Z তথ্য PDF,রানি ২য় এলিজাবেথ সম্পর্কে বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানসহ, রানি ২য় এলিজাবেথ জীবনী, এক নজরে রানি ২য় এলিজাবেথ জীবনী,একনজরে রানি ২য় এলিজাবেথ বর্ণাঢ্য সংক্ষিপ্ত জীবনী,রানি ২য় এলিজাবেথ নিয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহ
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দীর্ঘ রাজত্বকাল জুড়ে ছিল তাঁর কঠোর কর্তব্যপরায়ণতা এবং ব্রিটিশ সিংহাসন ও ব্রিটিশ জনগণের উদ্দেশ্যে তাঁর জীবনকে নিবেদন করার ব্যাপারে তাঁর নিষ্ঠা ও অঙ্গীকার।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে যখন ব্রিটেনের প্রভাব ক্রমশ কমেছে, সমাজে আমূল পরিবর্তন এসেছে, রাজতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তখনও অনেকের কাছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন একজন ধ্রুবতারা।
উত্তাল নানা সময়ের মধ্যেও ব্রিটেনের রাজতন্ত্রকে তিনি যেভাবে টিকিয়ে রেখেছেন তা বিশেষভাবে স্মরণীয়। তা আরও স্মরণীয় এ কারণে যে তাঁর জন্মের সময়ও কেউ ভাবেননি তাঁর ভাগ্যে রয়েছে ব্রিটেনের সিংহাসনে আরোহণ।
এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরি উইন্ডসর জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ২১শে এপ্রিল। তাঁর বাবা অ্যালবার্ট, ডিউক অফ ইয়র্ক এবং মা সাবেক লেডি এলিজাবেথ বোওজ -লিওন-এর তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। অ্যালবার্ট ছিলেন পঞ্চম জর্জের দ্বিতীয় সন্তান।
এলিজাবেথ এবং তাঁর বোন মার্গারেট রোজ দুজনেই লেখাপড়া শিখেছেন বাড়িতে। মার্গারেটের জন্ম হয় ১৯৩০ সালে। পরিবারের ভালবাসার আবহে বেড়ে উঠেছিলেন দুই বোন। বাবা অ্যালবার্ট এবং দাদা পঞ্চম জর্জ দুজনেরই খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন এলিজাবেথ।
রানির যখন ছয় বছর বয়স তখন তাঁর ঘোড়ায় চড়া বিষয়ক প্রশিক্ষককে তিনি বলেছিলেন তিনি “গ্রামের গৃহিণী হতে চান যার অনেকগুলো ঘোড়া ও কুকুর থাকবে।”
বলা হয় খুবই ছোটবেলা থেকেই তিনি অসাধারণ দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন । ব্রিটেনের ভাবী প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন “তাঁর চরিত্রে যে কর্তৃত্ববোধ ছিল, তা একজন শিশুর পক্ষে ছিল খুবই আশ্চর্যজনক।”
প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলে শিক্ষা না পেলেও ভাষার প্রতি এলিজাবেথের ভাল দখল ছিল, তিনি সাংবিধানিক ইতিহাস পড়েছিলেন বিস্তারিতভাবে।
সমবয়সী মেয়েদের সাথে যাতে তিনি সামাজিকভাবে মেলামেশা করতে পারেন তার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল গার্ল গাইডের বিশেষ একটি সংস্থা।
উত্তেজনার বছরগুলো
রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯৩৬ সালে মারা যাবার পর তাঁর সর্বজ্যেষ্ঠ পুত্র ডেভিড, অষ্টম এডওয়ার্ড উপাধি পান।
তবে দুবার বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া আমেরিকান এক ধনী রমণী ওয়ালিস সিম্পসনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সে বছরের শেষ দিকেই তাঁকে সিংহাসন ত্যাগ করতে হয় ।
এলিজাবেথের বাবা ডিউক অফ ইয়র্ক অনিচ্ছার সঙ্গে সিংহাসনে বসেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ হিসাবে এবং তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠান কিশোরী এলিজাবেথকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। পরে প্রিন্সেস এলিজাবেথ লিখেছিলেন ওই অনুষ্ঠান ছিল “অসাধারণ সুন্দর”।
ইউরোপে তখন উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সেই পটভূমিতে নতুন রাজা ষষ্ঠ জর্জ, তাঁর স্ত্রী ও দুই কিশোরী কন্যাকে নিয়ে রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে উদ্যোগী হন।
সেসময় ১৯৩৯ সালে, ১৩ বছরের কিশোরী প্রিন্সেস এলিজাবেথ তার বাবা ও মা , রাজা ও রানির সঙ্গে গিয়েছিলেন ডার্টমাউথে রয়াল নেভাল কলেজে।
সেখানে এলিজাবেথ ও তাঁর বোন মার্গারেটের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে গ্রিসের যুবরাজ প্রিন্স ফিলিপের, যিনি ছিলেন তাঁদের দূর সম্পর্কের কাজিন।
প্রণয় পর্ব ও বাধাবিপত্তি
সেটাই যে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ ছিল তা নয়, তবে সেই প্রথম এলিজাবেথ, ফিলিপ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
এলিজাবেথের বয়স যখন ১৮, তখন ১৯৪৪ সালে ফিলিপের প্রতি তাঁর প্রণয় গভীর হয়ে ওঠে। তিনি ঘরে ফিলিপের ছবি রাখতেন, দুজন দুজনকে চিঠি লিখতেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে তরুণী প্রিন্সেস এলিজাবেথ আধাসামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে লরি চালানো ও লরির সার্ভিস করার শিক্ষা নেন।
যুদ্ধ শেষে প্রিন্স ফিলিপকে তিনি বিয়ে করতে চাইলে তাঁকে বেশ বাধার মুখে পড়তে হয়। এলিজাবেথ ছিলেন রাজার অনেক আদরের কন্যা। ফিলিপের বিদেশি বংশ পরিচয়ের কারণে রাজা তাঁর হাতে মেয়েকে তুলে দিতে রাজি হন নি।
পিতার মৃত্যু
কিন্তু তাঁদের ইচ্ছারই জয় হয় শেষ পর্যন্ত। ১৯৪৭ সালের ২০শে নভেম্বর এলিজাবেথ ও ফিলিপ ওয়েস্টমিনস্টার গির্জায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফিলিপের উপাধি হয় ডিউক অফ এডিনবারা। তিনি নৌবৈাহিনীর কর্মকর্তা পদেই বহাল থাকেন।
বিয়ের পর ফিলিপ নৌবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে মল্টায় যান এবং বিয়ের প্রথম কয়েক বছর তাঁরা স্বাভাবিক বিবাহিত জীবন কাটান।
এ সময়ই তাঁদের প্রথম পুত্র চার্লসের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে এবং ১৯৫০ সালে জন্ম হয় কন্যা অ্যানের।
উনিশশ’ ৫২ সালে যখন এলিজাবেথের বয়স ২৫, তখন রাজা ষষ্ঠ জর্জ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যা নেন। একদিকে ছিল যুদ্ধের বছরগুলোর অতিরিক্ত চাপ, সেইসঙ্গে রাজা চিরকাল খুব বেশি ধূমপান করতেন।
এলিজাবেথ তাঁর স্বামীকে নিয়ে সেবছর বিদেশ সফরে যান বাবার হয়ে দায়িত্ব পালন করতে। এলিজাবেথের বয়স তখন ২৫। চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে রাজা তাঁকে বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিল পিতা ও কন্যার শেষ সাক্ষাত।
এলিজাবেথ কেনিয়ায় বসে পিতার মৃত্যু সংবাদ পান। সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসেন তিনি ব্রিটেনের রানি হিসাবে। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, “এক অর্থে আমার কোনো শিক্ষানবিশী হয় নি। আমার বাবা মারা যান খুব অল্প বয়সে। কাজেই অনেকটা হঠাৎ করেই দায়িত্ব নিতে এবং সাধ্যমত দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী হতে হয়েছিল আমাকে।”
অভিষেক
উনিশশ’ ৫৩ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহণ ও শপথ গ্রহণ লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেন টেলিভিশনের পর্দায়। যদিও সেসময় প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এই অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধিতা করেছিলেন।
যুদ্ধের পর ব্রিটেন তখন কঠিন অর্থনৈতিক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভাষ্যকাররা তাঁর অভিষেককে ব্যাখ্যা করেছিলেন ‘নতুন এলিজাবেথান যুগ’ হিসাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ উপনিবেশ তখন গুটিয়ে এসেছে। নতুন রানির দায়িত্ব নিয়ে তিনি যখন ১৯৫৩ সালে কমনওয়েলথ দেশগুলোতে দীর্ঘ সফরে বেরলেন, তখন ভারতীয় উপমহাদেশ সহ অনেক দেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়েছে।
রানি এলিজাবেথ ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ রাজশাসক যিনি অস্টেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করেন। অনুমান করা হয় তাঁকে সামনাসামনি দেখতে অস্ট্রেলিয়ার এক তৃতীয়াংশ মানুষ রাস্তায় ভেঙে পড়েছিল।
রাজতন্ত্র থেকে রাজপরিবার
ক্রমশ রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের অবিচ্ছিন্ন আনুগত্যে বদল আসতে শুরু করে। সমাজের মধ্যে নানা ধ্যানধারনাও দ্রুত বদলাতে থাকে।
রানিও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলান। ক্রমশ ‘রাজতন্ত্র’-এর জায়গা নেয় ‘রাজ-পরিবার’।
রানির রাজত্বকালের মূল স্তম্ভ হয়ে ওঠে সাংবিধানিক সততা রক্ষা ।
হ্যারল্ড ম্যাকমিলান ১৯৬৩ সালে পদত্যাগ করার পর একটা সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয় এবং একটা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন রানি এলিজাবেথ।
সেই সময় রানি ও রাজতন্ত্রকে সরকারের দৈনন্দিন কার্যকলাপ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সরকারের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে চলে যান রানি। রানির দায়িত্ব সীমিত থাকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন, দেশের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত থাকা আর সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার মধ্যে।
উনিশশ’ ৬০-এর দশকের শেষ দিকে, বাকিংহাম প্রাসাদ সিদ্ধান্ত নেয় যে রাজপরিবারকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রানি এবং তাঁর পরিবারও যে আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মত ঘরকন্নার নানা কাজ করেন তা দেখাতে বিবিসিকে ‘রয়াল ফ্যামিলি’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়।
রানির দৈনন্দিন ঘরসংসারের নানা ছবি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। অনেকে বলেন ওই তথ্যচিত্র রাজপরিবারের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ও ভালবাসা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে, তবে সমালোচকরা কেউ কেউ বলেন রাজপরিবারকে নিয়ে মানুষের মনে যে দীর্ঘদিন একটা রহস্য ও রোমাঞ্চ ছিল এই ছবি তা ধ্বংস করে দেয়।
কেলেংকারি ও বিপর্যয়
রানি এলিজাবেথ তাঁর দায়িত্ব পালনে নানা দেশে ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তিনি আমেরিকা সফরে যান। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ রানি যিনি অ্যামেরিকান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন।
এর এক বছরের মধ্যে তাঁর পরিবারে নানা ধরনের কেলেংকারি ও দুর্যোগের ঘটনা শুরু হয়। রানির দ্বিতীয় ছেলে ডিউক অফ ইয়র্ক ও স্ত্রী সারা আলাদা হয়ে যান।
মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান ও স্বামী মার্ক ফিলিপস্-এর বিয়ে ভেঙে যায়। প্রিন্স ও প্রিন্সেস অফ ওয়েলস্, অর্থাৎ চালর্স ও ডায়ানা বিয়েতে যে গভীরভাবে অসুখী এ খবর জানাজানি হয় । তারাও আলাদা হয়ে যান।
রানির প্রিয় বাসভবন উইন্ডসর কাসেলে ওই বছরই বিরাট অগ্নিকাণ্ড হয়। ওই ভবন মেরামতের খরচ সাধারণ মানুষ জোগাবে নাকি তা রানির তহবিল থেকে ব্যয় করা উচিত তা নিয়ে চলে তুমুল বিতর্ক।
রানি ১৯৯২ সালকে ব্যাখ্যা করেন “অ্যানাস হরিবিলিস্” অর্থাৎ “দুর্যোগের বছর” হিসাবে।
ডায়ানার মৃত্যু
একদিকে ইউরোপের সঙ্গে নতুন জোট গঠনের মধ্যে দিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের যোগাযোগ কিছুটা শিথিল হয়ে আসা, অন্যদিকে ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে জনমনে অব্যাহত বিতর্ক- এর মধ্যেও যখন রানি রাজপরিবারের উজ্জ্বল স্তম্ভ হিসাবে তাঁর দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট, তখন প্রিন্সেস ডায়ানার আকস্মিক মৃত্যু ব্রিটেনের রাজপরিবারের জন্য বড়ধরনের ধাক্কা হয়ে আসে।
উনিশশ’ ৯৭ সালের অগাস্টে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানা মারা যাবার পর রানির বিরুদ্ধে ওঠে সমালোচনার ঝড়। যখন প্রাসাদের বাইরে বিশাল মানুষের ঢল- ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ্যে ভরে উঠেছে প্রাসাদের ফটকের বাইরের রাস্তাঘাট, তখন সেই শোকের মুহূর্তের সঙ্গে রানির আপাতদৃষ্টিতে একাত্ম হতে না পারায় মানুষ সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।
মানুষের উত্তাল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত রানিকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে হয়- যে ভাষণে তিনি পুত্রবধূ ডায়ানার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং সময়ের সাথে রাজ-পরিবারকে বদলানোর অঙ্গীকার দেন।
উৎসবের বছরগুলো
রাজপরিবারের প্রতি ব্রিটেনের মানুষের আগ্রহ, উদ্দীপনা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ২০০২ সালে মহাসমারোহে উদযাপিত হয় রানির সিংহাসন আরোহণের সুবর্ণ জয়ন্তী, এরপর রানির ৮০ বছরের জন্মদিনে উইন্ডসরের রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সাক্ষাত-সফর, রানি ও প্রিন্স ফিলিপের বিয়ের ৬০তম বার্ষিকী উৎসব, এবং ২০১১ সালে রানির নাতি উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের বিয়ে ও ২০১২য় রানির সিংহাসন আরোহণের হীরক জয়ন্তী।
সবশেষ ২০২২-এর জুন মাসে মহা সমারোহে উদযাপিত হয়েছে রানির সিংহাসন আরোহণের ৭০তম বার্ষিকী বা প্লাটিনাম জয়ন্তী।
এসব উদযাপন উপলক্ষে জনতার উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ রাজপরিবারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল যে ব্রিটেনের বহু মানুষ এখনও রাজপরিবার নিয়ে আগ্রহী। রাজপরিবারের প্রতি জনগোষ্ঠির অন্তত এক অংশের আনুগত্য লোপ পায় নি।
দায়িত্বে অটল
দু হাজার ১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ রাজসিংহাসনে আসীন থাকার গৌরব অর্জন করেন। তাঁর বাবার প্র-পিতামহী রানি ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকালের মেয়াদ ছিল এর চেয়ে কম।
তবে এই গৌরব নিয়ে রানি কখনও বাড়াবাড়ি করেননি। তাঁর নিজস্ব বিনয়ী স্টাইলে তিনি বলেছিলেন এমন কোন “সম্মান অর্জনের লক্ষ্য আমার কখনই ছিল না”।
এর এক বছর পর ২০১৬ সালে রানি তাঁর ৯০ বছরের জন্মদিন পালন করেন।
নব্বই বছর পার করেও তিনি তাঁর রাজ দায়িত্ব চালিয়ে গেছেন। ২০১৭ সালে তাঁর স্বামী ডিউক অফ এডিনবারা, প্রিন্স ফিলিপ অবসর নেবার পরেই তিনি একাই তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।
রানির দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী প্রিন্স ফিলিপ প্রয়াত হন ২০২১-এর এপ্রিল মাসে।
তাঁর কর্মজীবনে বিচলিত হবার মত নানা মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু রানি সবসময়ই তাঁর স্থৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিস্থিতি তিনি দৃঢ় হাতে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
রানির রাজত্বকালের শুরুর সময় ব্রিটিশ রাজতন্ত্র যে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যে রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের তখন প্রবল আনুগত্য ছিল, তাঁর রাজত্বকালের শেষ সময়ে সেই উচ্ছ্বাস ও আনুগত্যে কিছুটা ভাঁটা পড়েছিল বটে, কিন্তু ব্রিটিশ জনগণের হৃদয়ে রাজপরিবারের প্রতি ভালবাসা যাতে চিরস্থায়ী হয়, তা নিশ্চিত করতে সারা জীবন সচেষ্ট ছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
তাঁর সিংহাসন আরোহণের রজত জয়ন্তীর সময় তিনি ৩০ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় তার এক অঙ্গীকারের কথা পুর্নব্যক্ত করেছিলেন।
“আমার বয়স যখন ২১, আমি অঙ্গীকার করেছিলাম আমার জীবন আমি উৎসর্গ করব আমার জনগণের সেবায়। আমি এই প্রতিজ্ঞা রক্ষায় ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করেছিলাম। আমার বয়স তখন ছিল অল্প, আমার বিচারবুদ্ধি পরিপক্ক ছিল না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমি কখনও অনুতাপ করিনি। আমি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে কখনও এক চুলও সরে আসিনি।”
- কদিন আগেই রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহনের ৭০ বছর উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাকিংহাম প্যালেস। অথচ এলিজাবেথের কখনোই রানি হওয়ার কথা ছিল না। কারণ, তাঁর বাবারও রাজা হওয়ার কথা ছিল না। রাজপরিবারের নিয়মের কারণেই অনেকটা লটারি জেতেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা প্রিন্স অ্যালবার্ট (ডিউক অব ইয়র্ক)। রাজা পঞ্চম জর্জের ছোট ছেলে হওয়ায় সিংহাসনে বসার সুযোগ তাঁর ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী পঞ্চম জর্জের বড় ছেলে অষ্টম এডওয়ার্ডের রাজা হওয়ার কথা। কিন্তু অষ্টম এওয়ার্ড বিয়ে করেছিলেন এক ডিভোর্সি নারীকে। যে কারণে তাঁর রাজা হওয়ার সুযোগ আর ছিল না। ঠিক সে সময়ে ভাগ্য খুলে যায় প্রিন্স অ্যালবার্টের, ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনে আরোহন করেন তিনি। এরপর হিসাব অনুযায়ী অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর বড় মেয়ে হিসেবে ১৯৫২ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
- ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে এ যাবত সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা ব্যক্তি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। মাত্র এক বছর বয়সে, ১৯২৭ সালে, এলিজাবেথের ছবি ছাপা হয় ভোগ ম্যাগাজিনে। তিন বছর বয়সে মা ডাচেস অব ইয়র্কের সঙ্গে রানির ছবি ছাপা হয় বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে। যে ছবি খুব দ্রুত সারা বিশ্বে ছোট্ট এলিজাবেথকে তারকা করে তুলেছিল। ছবিটি তুলেছিলেন রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির বিখ্যাত আলোকচিত্রী মার্কাস অ্যাডামস।
- রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের আরও একটি পারিবারিক নাম ছিল। নামটি তাঁর কাছে ছিল বিশেষ কিছু। সেটা অবশ্য কখনো কারো সামনে বিশেষভাবে উল্লেখ করেননি। তবে নানা সময়ে সেটা প্রকাশ পেয়েছে। রানি যখন নিজের নাম উচ্চারণ করতে পারতেন না, তখন তাঁকে মা-বাবা আদর করে ডাকতেন লিলিবেট। রয়্যাল ভাষ্যকার ও সাংবাদিক ডেইজি ম্যাকান্দ্রো এক সফরে এ নাম প্রকাশ্যে আনেন।
- তবে নামটি যে রানির খুব প্রিয়, সেটা আরও জোরালো হয় গত বছর এপ্রিলে তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর পর। ফিলিপের কফিনে রানি তাঁর হাতে লেখা একটি নোট রাখেন, যার নিচের দিকে তিনি সই করেন লিলিবেট নামে। ২০১২ সালে সেলি বেডেল স্মিথের লেখা রানির জীবনীভিত্তিক বইয়েও নামটির উল্লেখ আছে। সেই ভালোবাসার পারিবারিক নামটি এখনো রাজপরিবারে থেকে যাবে নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে। কীভাবে? এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম গত বছরের চার জুন। দাদি ও মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই হ্যারি তাঁর নতুন সন্তানের নাম রেখেছেন লিলিবেট ডায়ানা!
- প্রিন্স ফিলিপ ও রানি এলিজাবেথের প্রথম দেখা হয় ১৯৩৯ সালে। সে সময় এলিজাবেথ ছিলেন ১৩ বছরের কিশোরী। ১৮ বছরের প্রিন্স ফিলিপ তখন ব্রিটানিয়া রয়্যাল নেভাল কলেজের ক্যাডেট। গ্রিসের ক্ষমতাচ্যুত রাজার ভাইপো প্রিন্স ফিলিপের প্রেমে এলিজাবেথই প্রথম মজেছিলেন বলে জানা যায়। অবশ্য বিয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। মাঝে বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দুজনের মধ্যে চলছিল চিঠি বিনিময়। ফিলিপ সে সময় রয়্যাল নেভিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর নীল চোখ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন এলিজাবেথ।
- বিয়ের পর আর দশটা দম্পতির মতো তরুণ এলিজাবেথ ও ফিলিপের মধ্যেও মানোমালিন্য হয়েছিল বলে নানা সময়ে খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে এলিজাবেথ রানির দায়িত্ব গ্রহণের পর। তবে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল খুনসুটিরও। রানি এলিজাবেথকে প্রিন্স ফিলিপ ভালোবেসে কখনো ডাকতেন ‘সসেজ’। আবার কখনো শুধুই ‘ডার্লিং’ বলতেন। রানি যখন দায়িত্ব নিয়ে দেশ-বিদেশ ছুটছিলেন, ফিলিপ তখন দুহাতে সামলেছেন সন্তান ও পরিবার আর দশটা বিষয়আশয়।
বিবিসি, ব্রিটিশ ভোগ, ইয়াহু, হ্যালো, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য লিটল প্রিন্সেস অবলম্বনে হাসান ইমাম
Google Adsense Ads
[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]
‘সময়ের হাত’ মুছে দিয়েছে সবকিছু, জীবনানন্দ দাশ যেমনটা বলে চলে গেছেন, ‘নক্ষত্রেরও আয়ু শেষ’ হয়ে গেল। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। কিন্তু ‘উজ্জ্বল আলোর দিন নিভে’ গেলেও ‘চিরদিন’ তিনি বেঁচে থাকবেন মানুষের ‘স্বপ্নের জগৎ’জুড়ে। যেমন, ব্রিটিশ গবেষক ড. লরা ক্লেনসি গতরাতে মৃত্যুসংবাদ শোনার পর ইমেইলে এই লেখককে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক, যাকে তারা মনে রাখবে, বহু বহুদিন।’ তবে, ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ সন ল্যাং গতরাতে ইমেইলে এ লেখককে বলেছেন, ‘সম্ভবত, এই সুযোগে কমনওয়েলথ দেশগুলো ব্রিটিশ রাজশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পাঠ চুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করবে।’
বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানায়, বালমোরালে ‘শান্তিতে’ রানি মারা গেছেন। রাজ-রীতি অনুসারে, রানির মৃত্যুর পর তার বড় চেলে চার্লস নতুন রাজা হিসেবে সিংহাসনে আসীন হয়েছেন, তিনি যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথভুক্ত ১৪ দেশের নেতৃত্ব দেবেন। বিশ্বনেতারা রানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
৯৬ বছরের জীবনে ৭০ বছরই রাজশাসন করেছেন রানি। এ সময়ে তিনি ১২ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অদলবদল হতে দেখেছেন। নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীকে, এমনকি এই সপ্তাহেই লিজ ট্রাসকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধামমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন তিনি।
নতুন রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমার প্রাণপ্রিয় মা, রানির মৃত্যু আমার জন্য, আমার পুরো পরিবারের জন্য গভীর বেদনার মুহূর্ত। আমি জানি, তার এই শূন্যস্থান দেশজুড়েই অনুভূত হবে, এই শূন্যতা অনুভব করবে কমনওয়েলথ আর পৃথিবীর অগণিত মানুষ।’
কেমন হবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দৃশ্যপট
রানির মৃত্যুতে কি যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে? প্রশ্ন রেখেছিলাম যুক্তরাজ্যের দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছে। এদের একজন গণমাধ্যম গবেষক এবং অপরজন ইতিহাসবিদ।
ল্যাঞ্চেস্টার ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. লরা ক্লেনসি গতরাতে ইমেইল আলাপে এই লেখককে বলেন, ‘রানির মৃত্যু যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যাকে তারা মনে রাখবে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এরই মধ্যেই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। রানির মৃত্যু যে আরও অস্থিতিশীলতার কারণ হবে, তা অনুমান করা যায়। রানি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বিশ্ব দরবারে তিনি ব্রিটেনের প্রতীক। সে জন্য এই মৃত্যু বিশ্বের সব প্রান্তের স্থিতাবস্থাকে ব্যাহত করবে, নিঃসন্দেহে।’
অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ ড. সন ল্যাং গতরাতে ইমেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই লেখককে বলেন, ‘রানির মৃত্যু অবশ্যই ব্রিটেনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন করবে। রানির রাজতন্ত্র দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর স্তরের ঊর্ধ্বে ছিল। ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা ছিল রানির শাসনামলে। এমন সফলতার জন্য প্রকৃত দক্ষতা এবং সাংবিধানিক প্রবৃত্তি লাগে, যা রানির ছিল। সিংহাসনে দীর্ঘকাল থাকা রানির আমলে অনেক সাফল্যই এসেছে। এখন যেহেতু তিনি আর নেই, মারা গেছেন, অনিবার্যভাবে রাজতন্ত্রের বড় পুনর্গঠন হয়তো দেখতে পাব আমরা। তবে সম্ভবত, এই সুযোগে কমনওয়েলথ দেশগুলো ব্রিটিশ রাজশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পাঠ চুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করবে।’
কেমন ছিল রানির রাজশাসন
সিংহাসনে রানির ৭০ বছরের নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে বিশ্ব? এই প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যম ও সমাজ উন্নয়ন গবেষক ড. লরা ক্লেনসি এই লেখককে বলেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য আর্থ-রাজনৈতিক পালাবাদলের কালে রাজশাসন করেছেন রানি। এই সময় গণমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রযুক্তি- সমাজের সব ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন হয়েছে। এমন পালাবদল আর কি হবে? সম্ভবত এক রাজত্বে এত পরিবর্তন কখনো দেখতে পাব না। সমাজের পালাবাদলের সঙ্গে রাজতন্ত্র কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা ভাবলেই বিস্মিত হই। রাজতন্ত্র এই বদলগুলো মেনে নিয়েছে, মানিয়ে নিয়েছে। যেমন সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ছিল রানির।’
অন্যদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাসবিদ সন ল্যাং এই লেখককে বলেছেন, ‘বিচার ও বিবেচনায় তার অবস্থান ছিল অতুলনীয়। তিনি সংবিধানের সীমার মধ্যেই থাকতে চেয়েছিলেন, ছিলেনও, কখনো সে সীমা অতিক্রম করেননি। প্রচারপর্দার অন্তরালে থেকে সর্বদা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। প্রিন্সেস ডায়ানা মারা যাওয়ার সময় রানি একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেটিই বিরল ব্যতিক্রম। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও তিনি যথাদ্রুত সংযমী হয়েছিলেন। তিনি ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে দৃঢ়তর ব্যক্তিগত বন্ধন তৈরি করেছিলেন, খুব কম রাজনীতিবিদই মানুষের সঙ্গে এমন আপন সম্পর্ক গড়তে পারেন।’
সবচেয়ে বেশি সময় সিংহাসনে
১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল লন্ডনে জন্ম হয় রানির। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাত বছর পর ১৯৫২ সালে তিনি সিংহাসনে আসীন হন। তিনি ব্রিটিশ রাজশাসনে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা রাষ্ট্রনায়ক। তার শাসনামলে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন উইনস্টন চার্চিল, যার জন্ম ১৮৭৪ সালে। এর ১০১ বছর পর জন্মগ্রহণ করা লিজ ট্রাস এ সপ্তাহে হয়েছেন রানির শাসনামলের ১৫তম ও শেষ প্রধানমন্ত্রী। রানির মৃত্যুতে ট্রাস বলেছেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন ‘সেই পাথর, যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল আধুনকি ব্রিটেন।’
| Paragraph & Composition/Application/Emali | উত্তর লিংক | ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেল | উত্তর লিংক |
প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা ঘটনা
১৯৯৬ সালের শেষ দিকে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় প্রিন্সেস ডায়ানার। এই বিচ্ছেদের পর ডায়ানাকে অনেক কিছু ছাড়তে হয়েছে। তাঁর জীবনের সেসব অজানা কিছু দিক তুলে ধরেছে এমএসএন ওয়েবসাইট।
বিয়ে বিচ্ছেদের পর ডায়ানার রাজকীয় উপাধি বদলে ফেলা হয়। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যদিও তাঁর সেই উপাধি রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রিন্স চার্লস তা চাননি। এ জন্য প্রিন্সেস অব ওয়েলসের সেই উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ডায়ানার ১৪ বছরের ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, ‘মা, চিন্তা কোরো না। আমি যখন রাজা হব, তখন তোমার এই উপাধি ফিরিয়ে দেব।’
তবে ডায়ানাকে কেনসিংটন প্যালেসে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি এখন উইলিয়াম, কেট মিডলটন এবং তাঁদের সন্তানদের বাসভবন।
ডায়ানাকে বিনোদনের জন্য নির্ধারিত সেন্ট জেমস প্যালেস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। রানি এলিজাবেথ সেটি ব্যবহার করার অনুমতি দেন।
ডায়ানার গয়নার বাক্সটিও কিছুটা হালকা হয়ে যায়। তাঁকে বিয়ের সব গয়না রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন রানি এলিজাবেথ। তবে বিয়ের সময় পরা মুকুটটি ডায়ানা নিতে পারেননি। কেবল বিয়ের সময়ই একবার এই মুকুট পরতে পারেন রাজবধূরা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কেট মিডলটনকে এই মুকুট পরতে দেওয়া হয়। এটির ওপর এখনো রানির অধিকার রয়েছে।
তবে আলাদা হলেও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছিলেন চার্লস ও ডায়ানা। মা–বাবার সঙ্গে পছন্দমতো সময় কাটাতে পারতেন উইলিয়াম ও হ্যারি। বোর্ডিং স্কুল ছুটির সময়ে দুই ভাই ভাগাভাগি করে মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটাতেন। বিচ্ছেদের পর থেকে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে ডায়ানার মৃত্যু পর্যন্ত মা-বাবার সান্নিধ্যে কেটেছে দুই ভাইয়ের।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেন কুকুর ভালোবাসতেন?
প্রচলিত আছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ টায়ারা ও হেডস্কার্ফ পরলেই তার পোষা কুকুরগুলো বুঝে যেত কোথাও যাওয়ার সময় হয়েছে। ডিউক অব ইয়র্ক একবার বলেছিলেন, পোষা কুকুরদের প্রতি ভালোবাসাই রানিকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সামর্থ্যবান থাকতে সাহায্য করেছে। সেই তিনি যখন গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন, তখন তার রেখে যাওয়া চারটি কুকুর কেমন শোকাহত হয়েছিল তা হয়তো কখনোই জানা যাবে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, যে চারটি পোষা কুকুর রানি রেখে গেছেন এর মধ্যে দুটি কর্গিস প্রজাতির, একটি ডর্গি প্রজাতির এবং অপরটি ক্রকার স্প্যানিয়েল প্রজাতির।
কুকুরের প্রতি রানির ভালোবাসার শুরুটা হয় ১৯৩৩ সালে। মাত্র সাত বছর বয়সে প্রথম পোষা প্রাণীটি উপহার পান তিনি। ক্যানাইন জাতের কুকুর রানী ভিক্টোরিয়ার দিন থেকে রাজপরিবারের অংশ হয়ে উঠলেও কর্গিসের প্রতিই এলিজাবেথের ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি ছিল। কাজেই বিষয়টি এমন নয় যে প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে বিয়ে হওয়া বা রানী হওয়ার পর কুকুরের প্রতি তার আবেগ বেড়ে যায়।
রানি কুকুর এত ভালবাসতেন যে ১৯৭০-এর দশকে তার বোন প্রিন্সেস মার্গারেটের সঙ্গে ‘ডরগি’ নামে হাইব্রিড জাত তৈরি করেন। তার প্রথম কুকুরের নাম ছিল দুকি, যা পরে রাজপরিবারের সদস্য হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমেই কর্গিস প্রজাতির কুকুরের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল রানির।
১৯৪৪ সালে ১৮তম জন্মদিনে সুসান নামে একটি করগি জাতের কুকুর উপহার পান রানি, যা পরে তার জীবনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে ওঠে। সুসান রানীর রাজ্যাভিষেক, বিয়ে এবং এমনকি প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় সঙ্গে ছিল। রানী রোজাভেল লাকি স্ট্রাইক নামে একটি কুকুরের সঙ্গে সুসানকে প্রজনন করেছিলেন।
২০১৫ সালে তার শেষ কর্গিস উইলো মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সুসানের বংশধরদের ১৪ প্রজন্ম রানির সঙ্গে বসবাস করে আসছিল। জানা যায়, উইলোর মৃত্যুতে রানি বিশেষ আঘাত পেয়েছিলেন, কারণ এটি সুসানের শেষ বংশধর ছিল।
তবে এ ঘটনার পর থেকে নিজের পোষা কুকুরদের প্রজনন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন রানি। তার মৃত্যুর সময় নিজের আদরের কুকুরদের রেখে না যাওয়ার জন্যই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোষা প্রাণীর মৃত্যু যেমন মালিকের জন্য কষ্টদায়ক, মালিকের মৃত্যুতেও একইভাবে কষ্ট পায় প্রাণীরা। এ ভয় থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
২০১৩ সালে ব্রায়ান হো নামে এক লেখক তার বইতে জানান, রানির কুকুরগুলোকে প্রতিদিন রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। রানি বিভিন্ন সময়ে কুকুরগুলোকে নিজেই খাওয়াতেন। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো তাদের খাবারের ওপর গ্রেভি ছুড়ে দিতেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রিন্স ফিলিপ যখন মারা যান, তখন তিনি সান্ত্বনার জন্য তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের কাছে গিয়েছিলেন।
এখানে সকল প্রকাশ শিক্ষা বিষয় তথ্য ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথে থাকুন ।
প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com
আমরা আছি নিচের সামাজিক মাধ্যম গুলোতে ও
Google Adsense Ads