মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভৌগলিক পরিবেশের উপাদানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-বিশ্লেষণ কর

মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভৌগলিক পরিবেশের উপাদানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-বিশ্লেষণ কর

এইচ এস সি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: HSC ইন কমার্স-2021 বিষয়: বাণ্যিজক ভূগল এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 04 বিষয় কোডঃ 1717
বিভাগ: ভোকেশনাল শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভৌগলিক পরিবেশের উপাদানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-বিশ্লেষণ কর

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি): 

  • জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
  • ভৌগলিক পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
  • ভৌগলিক পরিবেশের প্রকারভেদ লিখতে হবে
  • জীবন যাত্রার মান উন্ন য়নে ভৌগলিক পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

জীবনযাত্রার মান বলতে বুঝায় কোন এলাকার সাধারণত দেশের সম্পদের পরিমাণ, মানুষের আয়, চাহিদা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা। জীবনযাত্রার মানে অনেকগুলো উপাদান রয়েছে

যেমন-চাকরি বাজার, কর্মক্ষমতা, শ্রেণী -বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি, এক বছরে ছুটির পরিমাণ, ক্রয়ক্ষমতা, সেবার ব্যয়,শিক্ষার সহজলভ্যতা, রাজনৈতিক স্থিতীশিলতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, জলবায়ু, প্রকৃতিক অবস্তুা, জাতীয় অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। বেঁচে থাকার মানদণ্ড আমাদের জীবনের মানের উপর নির্ভর করে।

জীবনযাত্রার মান সাধারনত হিসেব করা হয় মাথাপিছু আয় এবং দারিদ্রতার হার দিয়ে। অন্য কিছু উপাদান যেমন- শিক্ষার অবস্থা,আয়-বৃদ্ধি ইত্যাদি ও যোগ করা হয়। জীবনযাত্রার মান শব্দটি মূলত গুনগত জীবনের বিপরীত হিসেবে ধরা হয় যেখানে শুধু উপদানগত মান থাকবে না।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

কোন দেশের জলবায়ু, প্রকৃতি, মৃত্তিকা, সাগর, নদী,আয়তন, অবস্থান ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।

প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকাংশ উপাদানই বাংলাদেশে ব্যবসায় স্থাপনের জন্য অনুকূল। দেশের প্রায় সকল অংশই নদী বিধৌত। ফলে সহজেই এখানে কৃষিজাত বিভিন্ন শিল্প ও ভােগ্য পণ্যের কাঁচামাল উৎপাদন করা সম্ভব। ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়ােজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাস বিদ্যমান।

দেশে বিদ্যমান খনিজ কয়লা, চুনা পাথর, কঠিন শিলা ও খনিজ তৈল শিল্প বিকাশে সহায়ক। দিন বনভূমির পরিমাণ কমে গেলেও আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ বনজ সম্পদ। অসংখ্য নদী বিধৌত ও সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় মৎস্য শিল্প বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশও এখানে বিদ্যমান।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • ভৌগলিক পরিবেশের প্রকারভেদ লিখতে হবে

প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রকৃতি কর্তৃক আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়। কোন দেশের ভূ-প্রকৃতি -এর ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু,

মৃত্তিকা, উদ্ভিজ্জ, খনিজ সম্পদ, জীবজন্তু, মৎস সম্পদ, উপকূল রেখা প্রভৃতি উপাদানের উপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক

পরিবেশ গড়ে ওঠে। প্রাকৃতিক পরিবেশের যেসব উপাদান মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলীর ওপর বেশী প্রভাব বিস্তার করে  তাদের বর্ণনা দেওয়া হলোঃ

 ভূ-প্রকৃতি: পৃথিবীর সব অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি একধরনের হয় না। ভূ-প্রকৃতির এই বিভিন্নতার কারনে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের

অর্থনৈতিক কার্যাবলীর মধ্যেও পার্থক্য হয়ে থাকে। এজন্য বাণিজ্যিক ভূগোল বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করে।

 জলবায়ু:  পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট কি এবং মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জলবায়ুর প্রভাব কি তা আলোচনা করা বাণিজ্যিক ভূগোলের আওতাভুক্ত।

মৃত্তিকা:  বাণিজ্যিক ভূগোল পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মৃত্তিকার প্রকারভেদ, -এর গঠন প্রকৃতি, উপাদান, উৎপাদন ক্ষমতা, -এর

ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে এবং মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর মাটির প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা করে থাকে।

উদ্ভিজ্জ:  পৃথিবীর বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিজ্জের উপকারিতা, শ্রেণীবিভাগ, ব্যবহার, বনজ সম্পদ, বিভিন্ন বনভূমির আয়তন ও বিস্তার, তৃনভূমি ইত্যাদির বর্ণনা ও ব্যবহার আলোচনা বাণিজ্যিক ভূগোলের আওতাভুক্ত।

খনিজ সম্পদ: পৃথিবীর প্রাপ্ত ও সম্ভাব্য খনিজ সম্পদের বিস্তারিত বর্ণনা করা বাণিজ্যিক ভূগোলের আওতাভুক্ত। পৃথিবীর কোন অঞ্চল কোন

কোন ধরনের খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, -এর মজুদ পরিমান, উত্তোলন, ব্যবহার, আঞ্চলিক ও বিশ্ব বাণিজ্য ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা বাণিজ্যিক ভূগোল এর কাজ।

মৎস সম্পদ: পৃথিবীর বিভিন্ন মৎস ক্ষেত্রের অবস্থান, এদের গড়ে ওঠার কারন, মৎস আহরনের পরিমাণ, এদের সংরক্ষন, ব্যবহার, বন্টন ইত্যাদি আলোচনা করা বাণিজ্যিক ভূগোলের আওতাভুক্ত।

 জীবজন্তু: বাণিজ্যিক ভূগোল পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জীবজন্তু এদের আচার-আচরণ, প্রতিপালন ও সংরক্ষন, এদের অর্থনৈতিক ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। 

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

  • জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ভৌগলিক পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে।

অর্থনৈতিক কার্যাবলীর ওপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব

মানুষ যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে বসবাস করে তাই ভৌগোলিক পরিবেশ। মানুষ এবং পরিবেশের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থা বা পরিবেশ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে খুব বেশী প্রভাবিত করে থাকে। ভৌগোলিক পরিবেশের পার্থক্যের দরুন পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলী একই প্রকার হয় না। যেমন: কোন দেশ কৃষি কাজে, কোন দেশ শিল্পে, অন্য কোন দেশ মৎস চাষে বা পশু পালনে উন্নত। পরিবেশের তারতম্যের জন্যই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ভেতর এরূপ পার্থক্য পরিদৃষ্ট হয়। এজন্যই বলা হয়, কোন অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন প্রণালী একটি আকস্মিক ঘটনা নয় বরং একটি পরিবেশেরই ফল। নিুে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলীর উপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব এর অন্যতম দু’টি উপাদানের আলোকে আলোচনা করা হলোঃ

(ক) প্রাকৃতিক অবস্থা/পরিবেশ ও এর প্রভাব

আমাদের চারপার্শ্বে প্রকৃতির দেয়া সব উপাদান মিলে একটি প্রাকৃতিক অবস্থা বা পরিবেশ গড়ে উঠেছে। মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যাবলীর উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ কিভাবে মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর প্রভাব বিস্তার করে তা নিুে আলোচনা করা হলোঃ

১. ভূ-প্রকৃতি মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ওপর ভূ-প্রকৃতির প্রভাব সুস্পষ্ট। পার্বত্য ও মালভূমি অপেক্ষা সমভূমি সাধারনত: উর্বর ও পরিবহনযোগ্য থাকে। কাজেই এসব এলাকায় কৃষি ও শিল্প ব্যবস্থা উভয়েরই উন্নতি ঘটে এবং লোক বসতির ঘনত্ব ও বৃদ্ধি পায়। অপর দিকে পার্বত্য এলাকায় মানুষ সাধারনত: প্রাকৃতিক সম্পদ আহরন যেমন- বিভিন্ন প্রকার বনজ সম্পদ সংগ্রহ, বন্য প্রাণী শিকার এবং প্রতিপালন ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। মালভূমি এলাকায় মানুষ সাধারণত: খনিজ সম্পদ আহরণ, পশুপালন ইত্যাদি ধরনের কর্মকান্ডে বেশী নিয়োজিত থাকে।

২. ভূ-তত্ত্ব ভূ-তত্ত্বের গঠন, স্তর বিন্যাস, সঞ্চয়ের সময়কাল ইত্যাদি ভূ-তাত্বিক বৈশিষ্ট একটি অঞ্চলে খনিজ দ্রব্য প্রাপ্তির সুযোগকে প্রভাবিত করে থাকে। যেমন- ভূতাত্ত্বিক ভাজ (ভঙ্গিল পর্বত) যুক্ত অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবন। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে প্রাচীন এলাকায় স্বল্প গভীরতায় লৌহ আকরিক সঞ্চিত থাকার সম্ভাবনা বেশী।

৩. ভৌগোলিক অবস্থান অবস্থানের তারতম্যের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মানুষ বিভিন্ন প্রকার অর্থনৈতিক কার্যাবলীতে লিপ্ত থাকে। যেমনচর্তুদিকে সমুদ্রবেষ্টিত দ্বৈপ অবস্থানের প্রভাবে ঐ অঞ্চলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে। উদাহরন: হিসেবে আমরা জাপান ও গ্রেটব্রিটেনের কথা বলতে পারি যারা এরূপ দ্বৈপ অবস্থানের কারনে শিল্প ও বাণিজ্যে অশেষ উন্নতি লাভ করেছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

অপরদিকে চারিদিকে স্থলভাগ বেষ্টিত মহাদেশীয় অবস্থানের কারণে সে সব দেশগুলোকে মূলত: প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করতে হয়। এ কারনে আফগানিস্তান, তিব্বত, বলিভিয়া, নেপাল প্রভৃতি

৪. নদ-নদী প্রফেসর দাশ গুপ্তের ভাষায় বলতে হয়, “সম্ভবত: মানব সভ্যতা ও মানুষ্যের অর্থনৈতিক কার্যাবলীতে নদীর মত আর কোন প্রাকৃতিক উপাদানই এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি।” প্রাচীন ইতিহাস অন্তত: এই সাক্ষ্যই আমাদের দেয়। উদাহরন হিসেবে আমরা বলতে পারি, ভারতীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল গঙ্গা ও সিন্ধু নদের তীরে, চীনের সভ্যতা হোয়াংহো ও উইগো নদীদ্বয়ের তীরে এবং ব্যাবিলনের সভ্যতা ইউফ্রেটিস নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নদী হতে সেচের মাধ্যমে কৃষিকাজ করে থাকে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ, যোগাযোগ, যাতায়াত ব্যবস্থা, কাগজ, পাট ও কার্পাস শিল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে নদী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

৫. মৃত্তিকা আমাদের প্রয়োজনীয় ভোগ বা ব্যবহার সামগ্রী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাটি থেকে পেয়ে থাকি। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে কৃষিকার্যের উন্নতি বা অবনতি নির্ভর করে। কৃষিকার্যের ওপর ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প প্রভৃতি নির্ভর করে। এমনিভাবে আমরা বলতে পারি যে, মাটি মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

৬. জলবায়ু মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জলবায়ু ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। মানুষের কৃষিকাজ, যন্ত্র শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা, বয়ন শিল্প, খাদ্য, বাসস্থান তথা গৃহনির্মাণ, দৈনন্দিন চাহিদা ইত্যাদি কার্যকলাপের ওপর জলবায়ুর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়।

৭. উপকূল রেখা মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলীর ওপর উপকূল রেখার প্রভাবও কম নয়। ভগ্ন ও বক্র উপকূল রেখার কারণে জাপান ও ইংল্যন্ড এর অধিবাসীরা ব্যবসায়-বাণিজ্য, নৌশিল্প এবং পোতাশ্রয় নির্মানে উন্নতি লাভ করে।

৮. খনিজ সম্পদ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির মূলে খনিজ সম্পদের প্রভাব অনস্বীকার্য। খনিজ সম্পদ ক্ষেত্রের আবিস্কার খুব দ্রুত একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ধরণ বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, রাশিয়া প্রভৃতি শিল্পোন্নত দেশগুলোর শিল্প সমৃদ্ধির মূলে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ সম্পদ। অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি খনিজ তেলের ওপর সম্পূর্ণরুপে নির্ভরশীল।

৯. উদ্ভিদ জলবায়ু ও মৃত্তিকাগত পার্থক্যের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। এসব উদ্ভিদ একটি অঞ্চলকে বন্যা, খরা, ভূমিক্ষয় ইত্যাদি ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। উদ্ভিদের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানার প্রসার ঘটেছে। তাই বলা যায়, মানুষের আর্থিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রনে উদ্ভিদের প্রভাব উলেখে যাগ্য।

১০. প্রাণীজ সম্পদ প্রাণী জগত বিভিন্ন প্রকার খাদ্য, পানীয়, পরিধেয় ইত্যাদি যোগান দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সহায়তা করে থাকে। মাছ, ডিম, মাংস, চামড়া, রেশম, পশম ইত্যাদি প্রাণী জগত থেকে পাওয়া যায়। ডেনমার্ক, হল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ প্রাণীজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। (খ) অপ্রাকৃতিক বা সামাজি পরিবেশ মানুষের জীবন প্রণালী তথা অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ওপর কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশই নয় অপ্রাকৃতিক পরিবেশেরও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নিুে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

১. জাতি মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়া কলাপের ওপর জাতিগত বৈশিষ্টের ভূমিকা ব্যাপক। যেসব জাতি পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমান এবং যাদের ভেতর শিক্ষার হার বেশী তারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দ্রুত উন্নতি লাভ করতে পারে। অপরদিকে অলস ও কর্মবিমুখ জাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় হিসাবে কাজ করে।

২. ধর্ম বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও অনুশাসন রয়েছে। এসব ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনধারার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকেও প্রভাবিত করে। যেমন- বৌদ্ধ ধর্মে জীবহত্যা মহাপাপ বলে বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চল, চীন, জাপান, মায়ানমার (বার্মা) প্রভৃতি দেশে দীর্ঘকাল মৎস ও মাংস শিল্পের প্রসার ঘটেনি।

৩. সরকার অপ্রাকৃতিক বা সামাজিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান হিসেবে সরকারই একটি দেশের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ও শিল্পোন্নতিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও পৃষ্ঠপোষকতার নীতি গ্রহনের কারণেই জাপান, ইংল্যান্ড, জার্মানী প্রভৃতি দেশ ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে পেরেছে। অন্যদিকে অযোগ্য ও দুর্বল সরকারের কারণে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বহু প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ঐসব দেশগুলো আজও অনুন্নত রয়ে গিয়েছে।

৪. জনসংখ্যা মূলত মানব সম্পদ দ্বারাই যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলী সম্পাদিত হয়। লোকসংখ্যা কাম্যস্তরে থাকলে দেশের সমস্ত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় লোকসংখ্যার অভাব দেশের সুষ্ঠু অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে। এজন্য অষ্ট্রেলিয়ার লোক বসতি কম হওয়ায় সে দেশ চারনভূমিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান, চীন, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম কারন হচ্ছে পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনসম্পদ।

৫. শিক্ষা নিরক্ষরতা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এজন্য শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপকতার উপর মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নির্ভরশীল। পৃথিবীর যেসব দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করেছে তাদের প্রত্যেকের দিকে তাকালেই আমরা দেখতে পাই যে, এসব দেশ শিক্ষা-দীক্ষায় ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে। ব্যবসায় বাণিজ্যের ওপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব

সাধারনত: কোন দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের ওপর এর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত বেশী। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ভৌগোলিক অবস্থা বিরাজ করে। অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ব্যবসায়-বাণিজ্যের দ্রুত উন্নতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। অপরদিকে প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ব্যবসায়-বাণিজ্যের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এজন্য পণ্যদ্রব্যের উদ্বৃত্ত অঞ্চল ও ঘাটতি অঞ্চলের মধ্যে সহজেই ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে। অর্থাৎ ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার বহুলাংশেই ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ভৌগোলিক পরিবেশ ব্যবসায়-বাণিজ্যের ওপর কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে সে সম্পর্কে নিুে আলোচনা করা হলোঃ

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

  • ২০২১ সালের SSC / দাখিলা পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২১ সালের HSC / আলিম পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ভোকেশনাল: ৯ম/১০ শ্রেণি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • HSC (বিএম-ভোকে- ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স) ১১শ ও ১২শ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের SSC ও দাখিল এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক
  • ২০২২ সালের ১১ম -১২ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের HSC ও Alim এসাইনমেন্ট উত্তর লিংক

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৭ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ,

৮ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ , ৯ম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *