মাঠকর্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর, মাঠকর্ম অনুশীলনের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর, মাঠকর্মের ১০টি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী? বিশ্লেষণ কর, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ১০টি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

প্রশ্ন সমাধান: মাঠকর্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর, মাঠকর্ম অনুশীলনের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর, মাঠকর্মের ১০টি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী? বিশ্লেষণ কর, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ১০টি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

ভূমিকা : মাঠকর্মের কতিপয় বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। সমাজকর্মের শিক্ষার্থীদের তাদের জ্ঞানের পরিপূর্ণতার জন্য মাঠকর্ম অনুশীলন করতে হয়। সাধারণত সমাজকর্মের অনার্স ফাইনাল ইয়ার বা মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করতে হয় ।


মাঠকর্মের/ মাঠকর্ম অনুশীলনের বৈশিষ্ট্য : নিম্নে মাঠকর্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:


আরো ও সাজেশন:-

১. নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক (Specific time base) : মাঠকর্মের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- এটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে ধারাবাহিকভাবে এটি সম্পন্ন করতে হয় । পৃথিবীর কোন কোন দেশে মাঠকর্ম একটি পুরা সেমিস্টারব্যাপী করতে হয়। তবে বাংলাদেশে তিন মাস সময়ের মধ্যে সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা ৬০ কর্মদিবসে মাঠকর্ম সম্পন্ন করে থাকে । একজন শিক্ষনবিস সমাজকর্মী হিসেবে এ সময়টুকুতে মাঠকর্ম অনুশীলন করা অত্যাবশ্যক।


২. শিক্ষামূলক অনুশীলন (Educational practice) : মাঠকর্ম একটি শিক্ষামূলক অনুশীলন।এ অনুশীলন সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা সরাসরি কোন এজেন্সিতে গিয়ে সম্পাদন করে থাকে।সমাজকর্মের অনার্স চতুর্থ বছরের ও মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঠকর্ম সম্পাদন করার জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সংস্থাপন হয়।


৩. নির্দিষ্ট সংস্থাভিত্তিক (Specific agency based) : মাঠকর্ম নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সম্পাদন করতে হয়।ফলে প্রতিষ্ঠানের বাইরে মাঠকর্ম সম্পাদন করার সুযোগ নেই। সাধারণত যেসব প্রতিষ্ঠান সামাজিক সেবা প্রদান সেসব প্রতিষ্ঠানেই ছাত্রছাত্রীদের মাঠকর্মের জন্য প্রেরণ (Placement) করা হয়। এ ধরনের সংস্থা সরকারি বা বেসরকারি উভয় ধরনেরই হতে পারে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৪. সমাজকর্ম পদ্ধতি অনুশীলন (Practice of social work method) : মাঠকর্মের মাধ্যমে সমাজকর্ম পদ্ধতির অনুশীলন করা হয় । অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির জ্ঞানকে সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে প্রয়োগ করে।


৫. সমন্বিত জ্ঞান (Integrated knowledge) : সমাজকর্ম বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবে কাজে লাগানোর একটি উত্তম কৌশল হচ্ছে মাঠকর্ম।এক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে সকল জ্ঞানকেই কাজে লাগানো হয়। সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োগের ফলে মাঠকর্মের যথার্থ বা প্রকৃত ফল পাওয়া যায়।


৬. নির্দিষ্ট শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য (Specific class for students) : মাঠকর্ম সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রযোজ্য নয়।কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ের নির্দিষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাঠকর্ম সম্পাদন করে থাকে। আমাদের দেশে সমাজকর্ম বিষয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষ, মাস্টার্স প্রিলিমিনারি ও মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রছাত্রীদের মাঠকর্ম অনুশীলন করতে হয়।


৭. খাপখাওয়ানো (Adjustment) : মাঠকর্মের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলে। এতে করে তারা যে কোন পরিবেশেই নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।এ ধরনের শিক্ষা তারা মাঠকর্ম থেকে পেয়ে থাকে।


৮. শিক্ষণ প্রক্রিয়া (Learning process) : মাঠকর্ম একাধারে একটি একটি শিক্ষণ প্রক্রিয়া ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা সমাজকর্মের জ্ঞান সংশ্লিষ্ট এজেন্সিতে গিয়ে কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করে।তারা সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতাকেও সংস্থার কাজে লাগাতে পারে।


Paragraph/Composition/Application/Email/Letter/Short Storiesউত্তর লিংক
ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেলউত্তর লিংক

৯. নিয়মকানুন মেনে চলা (Obey to discipline) : কতিপয় নিয়মকানুনের অধীনে মাঠকর্মের শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় । অর্থাৎ তারা নিজের ইচ্ছেমতো মাঠকর্ম করতে পারে না।এসব নিয়মকানুন একজন শিক্ষনবিস সমাজকর্মী হিসেবে সে মেনে চলে। এতে করে মাঠকর্ম সম্পাদন তার জন্য সহজ হয়ে যায়।


১০. তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কাজ করা (Work under supervisor) : মাঠকর্মের ছাত্রছাত্রীদের দু’জন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কাজ করতে হয়।এর মধ্যে একজন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক যিনি মূলত সমাজকের্মের একজন প্রফেসর বা একজন শিক্ষক।এবং অন্যজন নির্দিষ্ট এজেন্সির কোন কর্মকর্তা যাকে বলা হয় এজেন্সি তত্ত্বাবধায়ক।উভয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষর্থীকে তার মাঠকর্ম সম্পন্ন করতে হয়।


১১. অনুধ্যান ও গবেষণা করা (Study and research) : মাঠকর্মে অনুধ্যান ও গবেষণা দু’ধরনেরই কাজ হয়।আবার একে অনেকে অনুধ্যান বা গবেষণা বলে অভিহিত করেন। কারণ এক্ষেত্রে লক্ষ্যদলের (Target group) তথ্য জানার জন্য তাদের অনুধ্যান করা হয়।কেস স্টাডির জন্য অনুধ্যান করার প্রয়োজন পড়ে।


উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মাঠকর্ম সমাজকর্ম শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত।এর মাধ্যমে সমাজকর্মের ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যৎ সামজকর্মী হিসেবে গড়ে উঠে এবং তাদের জ্ঞান দক্ষতার বিকাশ ঘটে।এক্ষেত্রে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই মাঠকর্ম সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment