Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
My Ads
মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে আমরা কী কী ইবাদত করতে পারি?
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:
এক:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে নামায, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্যে এত বেশী সময় দিতেন যা অন্য সময়ে দিতেন না। আয়েশা (রাঃ) থেকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, রমজানের শেষ দশরাত্রি শুরু হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত জেগে ইবাদত করতেন তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে তুলতেন এবং স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকতেন। ইমাম আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে: “তিনি রমজানের শেষ দশকে এত বেশী ইবাদত করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।”
দুই:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানের সাথে ও সওয়াব পাওয়ার আশায় রাত জেগে নামায আদায় করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) নামায আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম] এই হাদীস প্রমাণ করে যে, ভাগ্য রজনীতে কিয়ামুল লাইল (রাত্রীকালীন নামায) আদায় করা শরয়ি বিধান।
তিন:
লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) পঠিতব্য সবচেয়ে ভালো দোয়া হচ্ছে- যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা (রাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন। যেটি তিরমিযি আয়েশা (রাঃ) থেকে সংকলন করেছেন এবং সহীহ আখ্যায়িত করেছেন: তিনি বলেন: আমি বললাম,“হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি জানতে পারি কোন রাতটি লাইলাতুল ক্বদর (ভাগ্য রজনী) তবে সে রাতে আমি কী পড়ব? তিনি বললেন,তুমি বলবে:
اللهمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي.
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা ‘ফুউ ‘আন্নী (অর্থ: হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে আপনি ভালবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।)
চার:
রমজানের বিশেষ কোন একটি রাত্রিকে ভাগ্য রজনী হিসেবে সুনির্দিষ্ট করতে হলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দলীলের প্রয়োজন। কিন্তু শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে ভাগ্য রজনী হওয়া অন্য রাতগুলোতে ভাগ্য রজনী হওয়ার চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় এবং রমজানের সাতাশতম রাত ভাগ্য রজনী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো আমরা যা উল্লেখ করেছি সেটাই প্রমাণ করে।
পাঁচ:
কস্মিনকালেও বিদ‘আত (দ্বীনের মধ্যে নতুন প্রবর্তিত বিষয়) করা জায়েয নেই। রমজানের মধ্যেও না, রমজানের বাইরেও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই শরিয়তে এমন কিছু প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত।” অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা আমাদের শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
রমজানের নির্দিষ্ট কিছু রাতে অনুষ্ঠান উদযাপনের কোন ভিত্তি আমাদের জানা নেই। উত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে- বিদআত (নতুন প্রবর্তিত বিষয়সমূহ)।
My Ads
আরি পড়ুন ›সূরা তাওবাহ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু তথ্য আল তাওবাহ আলমল ও ফজিলত, সূরা তাওবাহ কতো বার পাঠ করলে কোন আলম ও ফজিলত, সূরা তাওবাহ নাযিলের কারন গুলো কি কি ,কুরআন ০৯ সূরা আল – তাওবাহআজকের বিষয়: সূরা তাওবাহ সকল তথ্য আল কোরআন ও হাদিসের আলোতে,পৃথিবীর জানা অজানা কিছু…
আরি পড়ুন ›শরিয়তের ভাষায় আমীন বলার কারণ, জোরে আমিন বলার হাদিস,নামাযে আমীন বলার বিধান,আমীন জোরে বলার দলিলশরিয়তের ভাষায় আমীন বলার কারণ, জোরে আমিন বলার হাদিস,নামাযে আমীন বলার বিধান,আমীন জোরে বলার…
আরি পড়ুন ›শরীরে ট্যাটু থাকলে কি নামাজ হবে,শরীরে উল্কি আঁকা হারাম, ট্যাটু কি হারাম ?- ডাঃ জাকির নায়েকভ্রু প্লাক করা ও শরীরে ট্যাটু অংকন করা শুধু গুনাহ না, বরং হারাম ও…
✔উত্তরঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে এ রাত কাটাতেন এর পূর্ণ অনুসরণ করাই হবে আমাদের প্রধান টার্গেট। এ লক্ষ্যে আমাদের নিম্নবর্ণিত কাজগুলো করা আবশ্যক :
👉(ক) নিজে রাত জেগে ইবাদত করা এবং নিজের অধীনস্ত ও অন্যান্যদেরকেও জাগিয়ে ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করা।
👉(খ) লম্বা সময় নিয়ে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পড়া। এসব সালাতে কিরাআত ও রুকু-সিজদা লম্বা করা। রুকু থেকে উঠে এবং দুই সিজদায় মধ্যে আরো একটু বেশী সময় অতিবাহিত করা, এসময় কিছু দু’আ আছে সেগুলে পড়া।
👉(গ) সিজদার মধ্যে তাসবীহ পাঠ শেষে দু’আ করা। কেননা সিজদাবনত অবস্থায় মানুষ তার রবের সবচেয়ে নিকটে চলে যায়। ফলে তখন দু’আ কবুল হয়।
👉(ঘ) বেশী বেশী তাওবা করবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়বে। ছগীরা কবীরা গোনাহ থেকে মাফ চাইবে। বেশী করে শির্কী গোনাহ থেকে খালেছ ভাবে তাওবা করবে। কারণ ইতিপূর্বে কোন শির্ক করে থাকলে নেক আমল তো কবুল হবেই না, বরং অর্জিত অন্য ভাল আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। ফলে হয়ে যাবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
My Ads
👉(ঙ) কুরআন তিলাওয়াত করবে। অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন অধ্যয়নও করতে পারেন। তাসবীহ তাহলীল ও যিক্র-আযকার করবেন। তবে যিকর করবেন চুপিসারে, নিরবে ও একাকী এবং কোন প্রকার জোরে আওয়ায করা ছাড়া। এভাবে যিকর করার জন্যই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন :
{وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعاً وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ وَلا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ}
“সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার রবের যিকর কর মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়ভীতি সহকারে এবং জোরে আওয়াজ না করে। এবং কখনো তোমরা আল্লাহর যিকর ও স্মরণ থেকে উদাসীন হয়োনা।” (আরাফ : ২০৫)
অতএব, দলবেধে সমস্বরে জোরে জোরে উচ্চ স্বরে যিক্র করা বৈধ নয়। এভাবে সম্মিলিত কোন যিকর করা কুরআনেও নিষেধ আছে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তা করেন নি। যিকরের শব্দগুলো হল: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি।
👉(চ) একাগ্রচিত্তে দু’আ করা। বেশী বেশী ও বার বার দু’আ করা। আর এসব দু’আ হবে একাকী ও বিনম্র চিত্তে কবুল হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে।
দু’আ করবেন নিজের ও আপনজনদের জন্য. জীবিত ও মৃতদের জন্য, পাপমোচন ও রহমত লাভের জন্য, দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতে নিম্নের এ দু’আটি বেশী বেশী করার জন্য উৎসাহিত করেছেন :
اَللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
” হে আল্লাহ! তুমি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে তুমি ভালবাস। কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিযী)
শেয়ার করুন
- ভোক্তা বাজার বিভক্তিকরণের ভিত্তিসমূহ আলোচনা কর
- লক্ষ্য বাজার মূল্যায়ন ও নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা কর
- অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাজারজাতকরণ সিদ্ধান্তসমূহকে প্রভাবিত করে?
- ১০০ টি গোপণ তথ্য যৌন মিলনের
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ PDF
মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে আমরা কী কী ইবাদত করতে পারি?,লাইলাতুল কদরের আমল ও দোয়া,লাইলাতুল কদর এ কি কি ইবাদত করবেন?,লাইলাতুল কদরে ক্ষমা লাভের ২ শর্ত,
My Ads
আরি পড়ুন ›শবে বরাতের নামাজ,শবে বরাত নামাজের নিয়মশবে বরাতের নামাজ,শবে বরাত নামাজের নিয়ম,শবে বরাতের নামাজের নিয়মাবলী,২ রাকাত তহিয়াতুল অযুর নামায,শবে বরাতের…
আরি পড়ুন ›দুধ সংক্রান্ত তিনটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নত!দুধ সংক্রান্ত তিনটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নত!▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬দুধ মহান আল্লাহর বিরাট একটি নিয়ামত। তিনি মহাগ্রন্থ…
আরি পড়ুন ›সূরা ওয়াক্বিয়াহ্ ডাউনলোড, নামাজের শেষে সুরা ওয়াক্বিয়াহ্ পাঠের গুরুত্ব,সূরা ওয়াক্বিয়াহ্ কোথায় অবতীর্ণ হয়,নামাজে সুরা ওয়াক্বিয়াহ্ পড়ার নিয়ম, সূরা ওয়াক্বিয়াহ্ পিকচার,১০২ বার সূরা ওয়াক্বিয়াহ্,৩৩ বার সূরা ওয়াক্বিয়াহ্আজকের বিষয়: সূরা ওয়াক্বিয়াহ্ ডাউনলোড, নামাজের শেষে সুরা ওয়াক্বিয়াহ্ পাঠের গুরুত্ব,সূরা ওয়াক্বিয়াহ্ কোথায় অবতীর্ণ…