শরিকানা (ভাগা) কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা। পাঠ ৫

কোরবানি সম্পর্কে হাদিস,কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা। পাঠ -৫

ইসলাম ধর্ম
শেয়ার করুন:

৩য় ফাতওয়া:

ভারতবর্ষের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, বহুগ্রন্থ প্রণেতা, আল-ইমামুল ‘আল্লামাহ নওয়াব সিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী আল-ক্বান্নূযী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৩০৭ হি./১৮৯০ খ্রি.] বলেছেন,

ويصح إشتراك سبعة في بدنة أو بقرة، و إن كانوا أهل بيوت شتى.

“উট ও গরুর কুরবানিতে সাতজনের অংশগ্রহণ সঠিক; যদিও তারা বিভিন্ন পরিবারের হয়ে থাকে।” [ইমাম সিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী (রাহিমাহুল্লাহ), আর-রাওদ্বাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৪৭০; দারুল আরক্বাম, বার্মিংহাম (ইউকে) কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪১৩ হি./১৯৯৩ খ্রি. (২য় প্রকাশ)]

·
৪র্থ ফাতওয়া:

ভারতবর্ষের আরেক প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, সুনানুত তিরমিযীর বিখ্যাত ভাষ্যগ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াযী’র সম্মানিত মুসান্নিফ (লেখক), আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ ‘আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রহীম মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,

قد ثبت الإشتراك في الإبل و البقرة من أهل أبيات شتى، وثبت الإشتراك في الشاة من أهل بيت واحد.

“উট এবং গরুর কুরবানিতে বিভিন্ন পরিবারের অংশগ্রহণ প্রমাণিত হয়েছে; যেমন প্রমাণিত হয়েছে একটি ছাগলে একই পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ।” [ইমাম ‘আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ), তুহফাতুল আহওয়াযী শারহু সুনানিত তিরমিযী; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৯৩; দারুল ফিকর, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত (সন-তারিখ বিহীন)]

·
৫ম ফাতওয়া:

ভারতবর্ষে হাদীসশাস্ত্রের আরেক দিকপাল, মিশকাতুল মাসাবীহ’র বিখ্যাত ভাষ্যগ্রন্থ মির‘আতুল মাফাতীহ’র সম্মানিত মুসান্নিফ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম ‘উবাইদুল্লাহ বিন ‘আব্দুস সালাম মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪১৪ হি./১৯৯৪ খ্রি.] বলেছেন,

وأما الأضحية، فقال الجمهور بجواز الإشتراك فيها كالهدي، سواء كان المشتركون من البيت الواحد أو من أبيات شتى، أقارب كانوا أو أباعد، واشترط أبو حنيفة أن يكون المشتركون كلهم متقربين.

“আর কুরবানি প্রসঙ্গে অধিকাংশ ইমামের মত হচ্ছে, কুরবানিতেও হাদ্ঈ তথা হজের পশুর ন্যায় অংশগ্রহণ (শরিক হওয়া) করা বৈধ। চাই অংশগ্রহণকারীগণ একই পরিবারের সদস্য হোক বা বিভিন্ন পরিবারের হোক; আর চাই তারা নিজেদের মধ্যে আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয় হোক (সকল ক্ষেত্রে বিধান একই)। তবে ইমাম আবূ হানীফাহ (রাহিমাহুল্লাহ) শর্তারোপ করেছেন যে, একই পশুতে বিভিন্ন জনের অংশগ্রহণ তখনই বৈধ, যখন তারা পরস্পরের নিকটাত্মীয় হবে।” [ইমাম ‘উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ), মির‘আতুল মাফাতীহ; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৮৫ (সন-তারিখ ও প্রেসের নাম বিহীন)]

·
৬ষ্ঠ ফাতওয়া:

ভারতবর্ষের আরেক প্রথিতযশা মুহাদ্দিস, সুনানু আবী দাউদের বিখ্যাত ভাষ্যগ্রন্থ ‘আওনুল মা‘বূদের সম্মানিত মুসান্নিফ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ইমাম শামসুল হক ‘আযীমাবাদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৩২৯ হি./১৯১১ খ্রি.] বলেছেন,

( ﻭﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻋﻦ ﺳﺒﻌﺔ ‏) : ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺒﻞ : ﺩﻝ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻋﻠﻰ ﺟﻮﺍﺯ ﺍﻻﺷﺘﺮﺍﻙ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺪﻧﺔ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻭﺃﻧﻬﻤﺎ ﻳﺠﺰﻳﺎﻥ ﻋﻦ ﺳﺒﻌﺔ ، ﻭﻫﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻬﺪﻱ ، ﻭﻳﻘﺎﺱ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻷﺿﺤﻴﺔ ﺑﻞ ﻗﺪ ﻭﺭﺩ ﻓﻴﻬﺎ ﻧﺺ.

“সুবুলুস সালাম গ্রন্থে বলা হয়েছে, হাদীসটি উট ও গরুতে শরিক হওয়ার বৈধতা প্রমাণ করে এবং এটাও প্রমাণ করে যে, উট-গরু দুটোই সাত জনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। এটা হাদ্ঈ’র (হজের জন্তু) ক্ষেত্রে; আর কুরবানিকে এর ওপর ক্বিয়াস করা হবে। তবে কুরবানির ব্যাপারে নস তথা সুস্পষ্ট দলিলও বর্ণিত হয়েছে।” [ইমাম ‘আযীমাবাদী (রাহিমাহুল্লাহ), ‘আওনুল মা‘বূদ শারহু সুনানি আবী দাউদ; খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৩৬২; দারুল হাদীস, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.]

·
৭ম ফাতওয়া:

বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, সৌদি ফাতাওয়া বোর্ডের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন,

قد دلت السنة الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم أن الرأس الواحد من الأبل و البقر و الغنم يجزئ عن الرجل و أهل بيته و إن كثروا، أما السبع من البدنة و البقرة ففي إجزاءه عن الرجل و أهل بيته تردد و خلاف بين أهل العلم. والأرجح أنه يجزئ عن الرجل و أهل بيته؛ لأن الرجل و أهل بيته كالشخص الواحد، و لكن الرأس من الغنم أفضل. و الله سبحانه وتعالى أعلم.

“রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ সুন্নাহ প্রমাণ করেছে যে, উট, গরু ও ছাগল প্রভৃতির যে কোনো একটি জান (কুরবানির ক্ষেত্রে) একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে; যদিও তারা (পরিবারের সদস্য) সংখ্যায় অনেক হয়। পক্ষান্তরে উট ও গরুর এক সপ্তমাংশ একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হওয়ার ব্যাপারে ‘আলিমদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং মতানৈক্য রয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত হলো—তা একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। কেননা একজন ব্যক্তি ও তার পরিবার একজন মানুষের মতোই। তবে একটি ছাগল কুরবানি করাই উত্তম। আর আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।” [ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুম মুতানাওয়্যা‘আহ; খণ্ড: ১৮; পৃষ্ঠা: ৪৪; দারুল ক্বাসিম, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

·
৮ম ফাতওয়া:

বিগত শতাব্দীতে সৌদি ‘আরবের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন,

فإذا كان الإنسان يضحي بالواحدة عنه و عن أهل بيته، فإنه بالسبع يضحي عنه و عن أهل بيته؛ لأن هذا تشريك في الثواب، والتشريك في الثواب لا حصر له، وها هو النبي صلى الله عليه وسلم ضحي عن كل أمته، وها هو الرجل يضحي بالشاة الواحدة عنه و عن أهل بيته، و لو كانوا ماءة، أما التشريك في الملك فلا يزيد علي سبعة، فلو اشترك ثمانية في بعير قلنا: لا يجوز، فلا بدّ أن يخرج واحد منكم، فإن رضي واحد منهم أن يخرج فهو هو المطلوب، و إلا فالأخير هو الخارج، و إن لم يعلم الأخير فالقرعة، لكن لو ذبحوها فبانوا ثمانية فماذا يصنعون؟ قيل: يذبحون شاة واحدة لتكمل للثامن، ويحتمل أن يقال: يقترعون فمن خرج بالقرعة خرج و ذبح شاة وحده.
فالبدنة و البقرة هل تجزءان عن سبعة رجال أو تجزءان عن سبع شياه؟ الجواب: الثاني، فإذا قلنا بالثاني قلنا: إذا كانت الشاة تجزئ عن الرجل و عن أهل بيته في الثواب، و كذلك يجزئ سبع البدنة و سبع البقرة عنه و عن أهل بيته.

“মানুষ যেহেতু নিজের পক্ষ থেকে ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি গরু বা উট কুরবানি দিতে পারে, সেহেতু নিজের পক্ষ থেকে ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে তার সপ্তমাংশও কুরবানি দিতে পারবে। এটা হলো সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার করা (শরিক করা)। আর সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার করার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এই তো নাবী ﷺ, যিনি তাঁর সকল উম্মতের তরফ থেকে কুরবানি দিয়েছেন। আর একজন ব্যক্তিও তাঁর নিজের তরফ থেকে এবং নিজের পরিবারের তরফ থেকে একটি বকরি কুরবানি দিতে পারবে, যদিও তাদের (পরিবারের সদস্যদের) সংখ্যা একশ পর্যন্ত পৌঁছে।

পক্ষান্তরে মালিকানার ক্ষেত্রে সাতজনের বেশি অংশীদার করা (শরিক করা) যাবে না। সুতরাং একটি উটে যদি আটজন শরিক হয়, তবে আমরা বলব, এটা জায়েজ নয়; অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে বের হতে হবে। অতএব তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি বের হতে রাজি হয়, তাহলে সেটাই ভালো ও কাঙ্ক্ষিত। নতুবা সবার শেষে যে এসেছে, সে বেরিয়ে যাবে। আর সবার শেষে কে এসেছে, তা যদি না জানা যায়, তাহলে লটারি করতে হবে। কিন্তু তারা যদি জবেহ করে ফেলে, আর আটজনই পৃথক হয়ে যায়। তাহলে তারা কী করবে? বলা হয়ে থাকে, তারা অষ্টমজনের জন্য একটি ছাগল জবেহ করবে। আবার এটাও বলা যায় যে, তারা লটারি করবে। আর লটারির মাধ্যমে যে নির্বাচিত হবে, সে বের হয়ে যাবে এবং নিজের তরফ থেকে একটি ছাগল কুরবানি করবে।

এখন কথা হলো, উট ও গরু কি সাতজন ব্যক্তির তরফ থেকে যথেষ্ট হবে, না কি সাতটি বকরির স্থলে যথেষ্ট হবে? উত্তর: দ্বিতীয়টি (সঠিক)। আমরা যখন দ্বিতীয়টির কথা বলছি, তখন আমরা এটা বলছি যে, একটি বকরি যেমন সওয়াবের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়, ঠিক তেমনিভাবে উট ও গরুর এক সপ্তমাংশও একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।” [ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), আশ-শারহুল মুমতি‘ ‘আলা যাদিল মুস্তাক্বনি‘; খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৪২৮; দারু ইবনিল জাওযী, দাম্মাম কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৪ হিজরী (১ম প্রকাশ)]

·
৯ম ফাতওয়া:

ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যত্র সুস্পষ্টভাবে বলেছেন,

ﻭﺗﺠﺰﺉ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻨﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺸﺨﺺ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ، ﻭﻳﺠﺰﺉ ﺳُﺒْﻊ ﺍﻟﺒﻌﻴﺮ ﺃﻭ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻋﻤﺎ ﺗﺠﺰﺉ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻨﻢ، لحديث جابر رضي الله عنه، قال: نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ، رواه مسلم. و في رواية قال: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَشْتَرِكَ فِي الإِبِلِ وَالْبَقَرِ كُلُّ سَبْعَةٍ مِنَّا فِي بَدَنَةٍ. ففي هذا دليل علي أن سبع البعير أو البقرة قاءم مقام الواحدة من الغنم، و مجزئ عما تجزئ عنه، لأن الواجب في الاحصار و التمتع هدي علي كل واحد، و قد جعل النبي صلى الله عليه وسلم البدنة عن سبعة، فدل علي أن سبعها يحل محل الواحدة من الغنم و يكون بدلا عنها، و البدل له حكم المبدل.

“একটি ছাগল একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর উট এবং গরুর সাত ভাগের এক ভাগ (এক সপ্তমাংশ) ওই পরিমাণের জন্য যথেষ্ট হবে, যে পরিমাণের জন্য একটি ছাগল যথেষ্ট হয়। কারণ জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন, হুদাইবিয়ার বছর (৬ষ্ঠ হিজরী) আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানি করেছি। হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং: ১৩১৮)। অন্য বর্ণনায় জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন, আমরা হজের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট এবং গরু সাতজনে মিলে কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন। (সাহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮)

এখানে এই দলিল রয়েছে যে, উট বা গরুর এক সপ্তমাংশ একটি পূর্ণাঙ্গ ছাগলের স্থলাভিষিক্ত হবে, এবং যে পরিমাণের জন্য একটি ছাগল যথেষ্ট, সেটাও (ওই এক সপ্তমাংশ) সে পরিমাণের জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা তামাত্তু‘ হজের ক্ষেত্রে এবং (হজে) বাধাগ্রস্ত হলে, সেক্ষেত্রেও প্রত্যেকের ওপর একটি করে হাদ্ঈ (হজের পশু কুরবানি করা) ওয়াজিব। অথচ নাবী ﷺ একটি উটকে সাতজনের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করলেন। এটাই প্রমাণ করে, উটের এক সপ্তমাংশ একটি ছাগলের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তার বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। আর আর বদল তথা বিকল্পের জন্য মুবদালের (যার বিকল্প গ্রহণ করা হয়েছে) হুকুম প্রযোজ্য হবে।” [ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), আহকামুল উদ্বহিয়্যাতি ওয়ায যাকাত; পৃষ্ঠা: ২৫; (সন ও প্রকশনার নাম বিহীন)]

·
১০ম ফাতওয়া:

বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] শরিকানা কুরবানির হাদীসগুলোকে সফরের সাথে খাস করেননি। তিনি সুনানু আবী দাউদের ২৮০৮ নং হাদীসের টীকা প্রণয়ন করতে গিয়ে তাঁর সংকলিত তাহক্বীক্ব মিশকাতে বলেছেন,

وقد صح أن البعير يجزئ عن عشرة، و به قال إسحاق بن راهويه و احتج لحديث ابن عباس الآتي (1469).

“কুরবানিতে দশজনের পক্ষ থেকে একটি উটের যথেষ্ট হওয়া বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, (ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ’র উস্তায) ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ-ও তাই বলেছেন। তিনি তাঁর মতের স্বপক্ষে ইবনু ‘আব্বাস (রদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)’র হাদীস থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন, যা (এই মিশকাতে) ১৪৬৯ নাম্বারে আসবে।” [ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), তাহক্বীক্ব মিশকাত; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪৫৮; ১৪৫৮ নং হাদীসের টীকা দ্রষ্টব্য]

ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) যে হাদীসটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা আমরা প্রথমেই উল্লেখ করেছি। [তিরমিযী, হা/৯০৫; নাসাঈ, হা/৪৩৯২; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩১; সনদ: সাহীহ]

এছাড়াও পাঠক মহোদয় ইতোমধ্যে লক্ষ করেছেন, আমরা ভারতবর্ষের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মুহাদ্দিস ইমাম সিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী (রাহিমাহুল্লাহ)’র একটি উক্তি তাঁর রচিত গ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছি। তো নওয়াব সিদ্দীক্ব হাসান ভূপালী (রাহিমাহুল্লাহ) প্রণীত সেই গ্রন্থটির ওপর টীকা প্রণয়ন করেছেন ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)। ইমাম আলবানী তাঁর টীকা সংবলিত গ্রন্থে ইমাম সিদ্দীক্ব হাসানের সেই উক্তিটির বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি। এ থেকেও বুঝা যায়, তিনি উক্তিটির সাথে একমত ছিলেন। ফালিল্লাহিল হামদ। [ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), আত-তা‘লীক্বাতুর রাদ্বিয়্যাহ ‘আলার রাওদ্বাতিন নাদিয়্যাহ; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১২৮; দারু ইবনি ‘আফফান, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]


১১শ ফাতওয়া:

সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, ?

শেয়ার করুন:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন