শরিকানা (ভাগা) কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা। পাঠ -৩

কোরবানি সম্পর্কে হাদিস,কুরবানি প্রসঙ্গে কিছু কথা। পাঠ -৩

ইসলাম ধর্ম
শেয়ার করুন:

৩. ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ) যেই অনুচ্ছেদে হাদীসটি (উপরিউক্ত ১ নং হাদীস) নিয়ে এসেছেন, তার নামকরণ করা হয় এভাবে, “বাবু মা তুজযি’উ ‘আনহুল বাদানাতু ফিদ্ব দ্বাহাইয়া।” অর্থাৎ, “অনুচ্ছেদ: কুরবানিতে একটি উট যত জনের পক্ষে যথেষ্ট।” [সুনানুন নাসাঈ, কিতাবুদ্ব দ্বহাইয়া (কুরবানি অধ্যায়); অনুচ্ছেদ নং: ১৫]

·
৪. ইমাম ইবনু মাজাহ (রাহিমাহুল্লাহ) কুরবানি অধ্যায়ে যেই অনুচ্ছেদে হাদীসটি উল্লেখ করেন, তার শিরোনাম এই রকম—“বাবু ‘আন কাম তুজযি’উল বাদানাতু ওয়াল বাক্বারাহ।” অর্থাৎ, “অনুচ্ছেদ: একটি গরু ও উট কত জনের পক্ষে যথেষ্ট?” [সুনানু ইবনি মাজাহ, কিতাবুল আদ্বাহী (কুরবানি অধ্যায়); অনুচ্ছেদ নং: ৫]

সম্মানিত পাঠক, আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, মুহাদ্দিসগণ বাবগুলো রচনার ক্ষেত্রে ঘুণাক্ষরেও সফরের কথা বলেননি। তাঁরা ব্যাপকভাবে বলেছেন, ‘উট ও গরুতে শরিক হওয়া প্রসঙ্গ’ বা ‘একটি গরু ও উট কত জনের পক্ষে যথেষ্ট’ প্রভৃতি। তাঁরা যদি শরিক কুরবানি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোকে সফরের সাথে খাস হওয়া বুঝতেন, তাহলে অবশ্যই তা তাঁদের বাব তথা অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনামে উল্লেখ করতেন। কিন্তু তাঁরা তা করেননি!

অতএব সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হলো যে, উপরিউক্ত হাদীসের গ্রন্থগুলোতে শরিক কুরবানি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোকে সফরের সাথে খাস করা ভুল।

·
তৃতীয়ত, শরিক কুরবানি সংক্রান্ত বেশ কিছু এমন হাদীস আছে, যেগুলোতে সফরের কোনো উল্লেখই নেই। এ রকম কিছু হাদীস নিম্নরূপ—

১. জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত। নাবী ﷺ বলেন, الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ “একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে (কুরবানি করা যাবে)।” [আবূ দাউদ, হা/২৮০৮; সনদ: সাহীহ (তাহক্বীক্ব: আলবানী]

২. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কর্তৃক বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ ﻓﻲ ﺍﻷﺿﺎﺣﻲ “কুরবানিতে একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে (যথেষ্ট হবে)।” [ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), সাহীহুল জামি‘ইস সাগীর, হা/২৮৯০; সনদ: সাহীহ]

৩. হুজ্জিয়াহ বিন ‘আদী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ، قُلْتُ فَإِنْ وَلَدَتْ قَالَ اذْبَحْ وَلَدَهَا مَعَهَا “সাতজন ব্যক্তি পর্যন্ত একটি গরুতে শরিক হওয়া হওয়া যায়। আমি (হুজ্জিয়াহ) বললাম, বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হলে (অর্থাৎ পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে)? তিনি বললেন, বাচ্চাটিকেও এর সাথে জবেহ করো…।” [তিরমিযী, হা/১৫০৩; সনদ: হাসান (তাহক্বীক্ব: আলবানী)]

৪. হুজ্জিয়াহ বিন ‘আদী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا عند علي رضي الله عنه، فأتاه رجل فقال: البقرة ؟ فقال: عن سبعة، قال: القرن (و في رواية: مكسورة القرن)؟ قال: لا يضرك “একদা আমরা ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)’র নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকটে একজন লোক এসে (ভাগে কুরবানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে) বলল, ‘গরুর কী হবে?’ তিনি বললেন, ‘সাত জনের পক্ষ থেকে (কুরবানি দেওয়া যাবে)।’ লোকটি বলল, ‘শিং ভাঙা গরু হলে?’ তিনি বললেন, ওটা তোমার কোনো অসুবিধা করবে না।” [ত্বাহাউয়ী, ২/২৯৭; হাকিম, ৪/২২৫; আহমাদ, ১/১০৫, ১২৫, ১৫২, ৯৭৫; গৃহীত: ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), ইরওয়াউল গালীল; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৩৬২; সনদ: হাসান; আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৩৯৯ হি./১৯৭৯ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

শেয়ার করুন:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন