আলোর প্রতিফলন (reflection of light) কাকে বলে ও কত প্রকার, প্রতিফলনের কয় প্রকার,নিয়মিত প্রতিফলন কাকে বলে, আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন কাকে বলে

প্রশ্ন সমাধান: আলোর প্রতিফলন (reflection of light) কাকে বলে ও কত প্রকার, প্রতিফলনের কয় প্রকার,নিয়মিত প্রতিফলন কাকে বলে, আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন কাকে বলে

আলোর প্রতিফলন (reflection of light) কাকে বলে ও কত প্রকার

আমরা যদি একটি আয়নাকে সূর্যের দিকে কাত করে ধরি তাহলে দেখা যায়, সূর্যের রশ্মি আয়নার চকচকে তলে পড়ে আবার আয়নার দল থেকে বেরিয়ে ভিন্ন দিকে চলে যায়। পূর্ণিমা রাতে পুকুরের কালো জলে চাঁদের আলো পড়ে, তারপর সেই আলো জলতল থেকে বেরিয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তাই আমরা ঐ কালো জলের মধ্যে চাঁদকে দেখতে পাই। সমসত্ত্ব মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে। কিন্তু আলো যখন এক সমসত্ব মাধ্যম থেকে অন্য এক সমসত্ত মাধ্যমে আপতিত হয় তখন নিম্নলিখিত তিনটি ঘটনা ঘটে।
১. আপতিত আলোর কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যম তল থেকে দিক পরিবর্তন করে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
২. আপতিত রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে অন্য পথে চলে যায়। একে আলোর প্রতিসরণ বলে।
৩. আপতিত রশ্মির অবশিষ্ট অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমে স্তরে শোষিত হয়।

আলোর প্রতিফলন কাকে বলে (এর সংজ্ঞা)

আলোক রশ্মি কোন সমসত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অন্য কোন মাধ্যমে আপতিত হলে, ওই আলোকরশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে অভিমুখ পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।

দুই মাধ্যমের মধ্যে যে বিভেদ তল থেকে আলোর প্রতিফলন ঘটে সেই তলকে প্রতিফলক বলে। সমতল দর্পণ এবং বিভিন্ন মসৃণ ও চকচকে ধাতব পদার্থ প্রতিফলকের কাজ করে।

প্রতিফলিত আলোকের পরিমাণ কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে

প্রতিফলিত আলোকের পরিমাণ যে যে বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা হল
১. প্রতিফলক তলে কত কোণে আলোক রশ্মি আপতিত হয় তার উপর নির্ভর করে। আলোকরশ্মি প্রতিফলন তলের সঙ্গে যত কম কোণ উৎপন্ন করে পড়বে অর্থাৎ আপতন কোণটি যত বড় হবে, প্রতিফলিত রশ্মির পরিমাণ তত বেশি হবে।
২. প্রতিফলকের প্রকৃতি এবং মাধ্যমের উপর নির্ভর করে।
বায়ু থেকে কাচের উপর লম্বভাবে আলোক রস্মি পড়লে ওর সামান্য অংশও প্রতিফলিত হয় কিন্তু বায়ু থেকে দর্পণে আলোকরশ্মি পড়লে ও’র বেশিরভাগই প্রতিফলিত হয়।

প্রতিফলন সম্পর্কিত কয়েকটি সংজ্ঞা

ধরি একটি রশ্মি AO, M1M2 দর্পণের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OB পথে প্রতিফলিত হয়েছে।

%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A6%A8
আপতিত রশ্মি

আলোক রশ্মি যে পথে এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হয়, আলোকরশ্মির সেই পথকে আপতিত রশ্মি বলে। চিত্রে AO রশ্মি হল আপতিত রশ্মি।

আপাতন বিন্দু

কোন আলোক রশ্মি দুই মাধ্যমে বিভিন্ন যে বিন্দুতে আপতিত হয় সেই বিন্দুকে আপতন বিন্দু বলে। ছবিতে O বিন্দুটি হলো আপন বিন্দু।

প্রতিফলিত রশ্মি

আলোক রশ্মি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে বিভেদ তলে আপতিত হয়ে ওই তল থেকে প্রতিফলিত হয়ে যে পথে প্রথম মাধ্যমে ফিরে যায়, তাকে প্রতিফলিত রশ্মি বলে। ছবিতে OB রশ্মিটি হল প্রতিফলিত রশ্মি।


আরো ও সাজেশন:-

অভিলম্ব

কোন আলোক রশ্মী প্রতিফলকের উপর আপতিত হলে আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে
ছবিতে M1M2 এর ওপর O বিন্দুতে ON লম্ব টানা হলো। ONকে আপন বিন্দুতে প্রতিফলক M1M2 এর উপর অঙ্কিত অভিলম্ব বলে।

আপাতন কোন

আপতিত আলোকরশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে যে কোন উৎপন্ন করে, তাকে আপতন কোণ বলা হয়। উপরের ছবিতে আপতিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে অংকিত লম্ব ∠AON কোণ উৎপন্ন করে একে আপতন কোণ বলে। আপতন কোণকে i দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

প্রতিফলন কোণ

প্রতিফলিত আলোকরশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে যে কোন উৎপন্ন করে তাকে প্রতিফলন কোণ বলে। চিত্রে প্রতিফলিত রশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে ∠BON কোন উৎপন্ন করে। একে প্রতিফলন কোণ বলে। প্রতিফলন কোণকে ইংরেজি r অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

প্রতিফলনের প্রকার

আলোকরশ্মির প্রতিফলন দুই রকমের হয়। যথা
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং
২. বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।

১. নিয়মিত প্রতিফলন কাকে বলে

সমান্তরাল রশ্মি গুচ্ছ যখন কোন মসৃণ সমতলে আপতিত হয়, তখন প্রতিফলিত আলোকরশ্মি গুলো পরস্পর সমান্তরাল রশ্মি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যায়। এইরকম প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে। নিয়মিত প্রতিফলনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। আয়নায় সূর্যের রশ্মি পড়ে যে প্রতিফলন হয় সেই প্রতিফলন হলো নিয়মিত প্রতিফলন।
নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ আপতিত রশ্মিগুচ্ছের মত হয়। আয়না, স্থির জলের উপরিতল, মসৃণ ধাতবতল প্রভৃতি থেকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। নিয়মিত প্রতিফলনের অধিকাংশ আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে বলে প্রতিফলন চকচকে দেখায়।

নিয়মিত প্রতিফলনের সূত্র

আলোর নিয়মিত প্রতিফলন দুটি সূত্র মেনে চলে। এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। সূত্র দুটি নিচে আলোচনা করা হলো।
১. আপতিত রশ্মি প্রতিফলিত রশ্মি আপাতন বিন্দু প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপাতন কোন সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।

উদাহরণ

AO রশ্মি M1M2 দর্পণের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে O বিন্দু থেকে OB রশ্মিরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। M1M2 দর্পণের O বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব ON হলে, আপাতন কোন = ∠AON = i এবং প্রতিফলন কোণ = ∠BON = r। এখন প্রতিফলনের সূত্র অনুসারে, আপাতন কোন = প্রতিফলন কোণ। অর্থাৎ, ∠AON = ∠BON; এছাড়া AO, BO ও ON একই সমতলে থাকবে।

%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4 %E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A6%A8
নিয়মিত প্রতিফলন

সমতল দর্পণে আলোকরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে প্রতিফলন কোণ কত হবে

প্রতিফলনের সূত্র অনুসারে আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়। কোন রশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে আবতন কোণ = 0 হবে। ফলে প্রতিফলনের নিয়ম অনুসারে প্রতিফলন কোণ = 0 হবে।
অর্থাৎ সমতল দর্পণে লম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হওয়ার পর ওই লম্বরেখা বরাবর আগের মাধ্যমে ফিরে যাবে।

প্রতিফলনের সূত্রের পরীক্ষামূলক প্রমাণ — সমতল দর্পণ ও পিনের সাহায্যে পরীক্ষা

সমতল দর্পণ ও পিনের সাহায্যে প্রতিফলনের সূত্র দুটির সত্যতা প্রমাণ করা যায়।
সরঞ্জাম
এই পরীক্ষায় একটি কাঠের ড্রয়িং বোর্ড, বড় মাপের সাদা কাগজ, একটি সমতল দর্পন, বোর্ড পিন, লম্বা পিন, চাঁদা ও একটি স্কেলের প্রয়োজন হয়।
পরীক্ষা
১. ড্রয়িং বোর্ড থেকে টেবিলের উপর সমান্তরালভাবে রেখে ওই বোর্ডের উপর বড় মাপের একটি সাদা কাগজকে কয়েকটি বোর্ড পিনের সাহায্যে আটকানো হল।
২. এবার কাগজটির উপর AB রেখা টেনে MM1 দর্পণটিকে AB বরাবর খাড়াভাবে বসানো হলো। দর্পণের সামনে P ও Q পিন দুটিকে লম্বভাবে এমন করে বসানো হল যাতে PQ রেখা AB রেখার সঙ্গে তীর্যকভাবে থাকে।

৩. এই অবস্থায় কাগজের তল বরাবর একটি চোখ রেখে P ও Q পিনের প্রতিবিম্ব বরাবর অপর দুটি পিন S ও R কে কাগজের উপর এমন ভাবে বসানো হলো যাতে P ও Q পিনের প্রতিবিম্বের নিম্নাংশ এবং S ও R স্পিনের নিম্নাংশ একই সরলরেখায় থাকে।

পর্যবেক্ষণ

কাগজের উপর থেকে দর্পণ ও পিনগুলোকে সরিয়ে নিয়ে PQ এবং RS রেখা অঙ্কন করা হলো। ওই রেখা দুটি MM1 দর্পণকে O বিন্দুতে ছেদ করলো। এখন AB এর O বিন্দুতে ON লম্ব অংকন করা হলো। তাহলে, PQ আপতিত রশ্মি, RS প্রতিফলিত রশ্মি এবং ON আপতন বিন্দুতে দর্পণের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব হবে।

সিদ্ধান্ত

P,Q,O,R,S এবং N বিন্দুগুলি কাগজের তলের উপর থাকায় বলা যায় যে, আপাতিত রশ্মি PQ, প্রতিফলিত রশ্মি RS এবং আপাতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব ON একই সমতলে আছে। অতএব, প্রথম সূত্রের সত্যতা প্রমাণিত হলো।

আবার চাঁদার সাহায্যে মেপে দেখা গেল —
∠PON = ∠SON; অর্থাৎ আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ দুটি পরস্পর সমান। এখানে দ্বিতীয় সূত্রটির সত্যতা প্রমাণিত হলো।


Paragraph/Composition/Application/Email/Letter/Short Storiesউত্তর লিংক
ভাবসম্প্রসারণ/প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ/ রচনা/আবেদন পত্র/প্রতিবেদন/ চিঠি ও ইমেলউত্তর লিংক

আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন কাকে বলে

সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছ কোন অমসৃণ তলে আপতিত হলে, ওই রশ্মিগুচ্ছের প্রতিটি রশ্মি প্রতিফলনের নিয়ম মেনে চললেও, অমসৃণ কাল থেকে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছরূপে একটি নির্দিষ্ট দিকে না গিয়ে চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। এইরকম প্রতিফলনকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে।
আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে প্রতিফলককে দেখা যায় কিন্তু কোন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় না।
যেহেতু প্রতিফলক অমসৃণ তাই অমসৃণ তলের বিভিন্ন বিন্দুতে অভিলম্বগুলি বিভিন্ন দিকে হয়। তাই প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জন্য বস্তুটিকে যে কোন দিক থেকে দেখলে বস্তুটি সমান উজ্জ্বল দেখায়। সাদা কাগজ, কাঠ, দেওয়াল, সিনেমার পর্দা, বইয়ের পাতা প্রভৃতি বস্তু থেকে আলোর প্রতিফলন ঘটে।

বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের জন্য আমরা বস্তুকে দেখতে পাই

আমাদের চারপাশে আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই সেগুলি প্রকৃতপক্ষে অমসৃণ তলযুক্ত বস্তু। এদের উপর আলোক রশ্মি আপতিত হলে রশ্মিগুলির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে এবং এই বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের ফলে আমরা প্রতিফলক তল বা বস্তুটিকে দেখতে পাই। যেমন


১. একটি অন্ধকার ঘরের এক কোণে একটি আলোক উৎস রাখলে উৎস থেকে নির্গত আলোকরশ্মি ঘরের চারিদিকে ছড়িয়ে যায় এবং ঘরের প্রতিটি বস্তুর উপর পড়ে। এই আলোকরশ্মি প্রত্যেক বস্তুর উপর পড়ে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়। ফলে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঘরের যেকোনো জায়গায় দাঁড়ালেও বস্তু থেকে নির্গত বিক্ষিপ্ত রশ্মিগুলি যখন আমাদের চোখে পড়ে তখন আমরা ঘরের প্রতিটি বস্তুকে দেখতে পাই।


২. বই এর পাতার উপর আপতিত আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের জন্য আমরা বই পড়তে পারি।


৩. নিয়মিত প্রতিফলনে, বস্তু থেকে নির্গত রশ্মি সব সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে যায়। তাই প্রতিফলিত রশ্মির গতিপথে দাঁড়ালেই উৎসের প্রতিবিম্ব আমরা দেখতে পাব। অতএব বোঝা যাচ্ছে যে, এই জগতে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন না হলে আমরা কোন বস্তু দেখতে পেতাম না।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment