আর্থিক ব্যবসহাপনা কাকে বলে,অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস সমুহ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা

আর্থিক ব্যবসহাপনা কাকে বলে,অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস সমুহ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা

এইচ এস সি পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:

জনাব করিম একজন ব্যবসায়ী । তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। জনাব করিমের ব্যবসার জন্য অর্থের প্রয়ােজন হয় কেন ?


নির্দেশনাঃ

ক. আর্থিক ব্যবসহাপনা কাকে বলে লিখতে হবে।

উত্তর:

Financial Management কাকে বলে?

Financial Management বা আর্থিক ব্যবস্থাপনা বলতে আর্থিক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা, সংগঠণ, নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণকে বোঝায় যেমন: প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ এবং সদ্ব্যবহার করা। এর অর্থ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পদসমূহে সাধারণ ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহের প্রয়োগ।

অথবা

আর্থিক ব্যবস্থাপনা হলো প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের উদ্দেশ্যে আর্থিক সম্পদসমূহের পরিকল্পনা, সংগঠণ, নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষণের একটি প্রক্রিয়া।

অথবা

আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?

কোনো কারবার প্রতিষ্ঠান এর আর্থিক কার্যাবলীর ভবিষ্যৎ রূপ রেখাকে সে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বলে।

অথবা

এটা ব্যবসার ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থব্যবস্থার বিন্যাসকরণ এবং কর্পোরেট ফিনান্সিং এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার সাথে পরিকল্পনা সেটিং এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমগুলির একটি সাধারণ শর্ত। আর্থিক গতিশীলতা এবং মুনাফাটি বিচারের মানদণ্ড।

এটি ক্যাশ পেমেন্ট, ক্রেডিট সম্পর্কিত ব্যবসায় এবং ব্যাংক সম্পর্কিত ব্যবসায়ের সাথে সাথে স্টক এবং কর্পোরেট বন্ডগুলি এবং পুঁজি বিনিয়োগ যেমন অসাধারণ দায়িত্ব যেমন দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করে। ফাইন্যান্স ডিরেক্টর এবং অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট ম্যানেজার চার্জ রয়েছে

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

খ, অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস সমুহ কি কি সংক্ষেপে করতে হবে।

উত্তর:

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের গঠন, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন উৎস হতে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তহবিলের দুটি ভিন্ন উৎস থাকে। তহবিলের মেয়াদিওে উপর ভিত্তি করে এসব উৎসসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা যায়:

১. স্বল্পমেয়াদি উৎস
২. মধ্যমেয়াদি উৎস
৩. দীর্ঘমেয়াদি উৎস।

এই তিন ধরণের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. স্বল্পমেয়াদি উৎস: স্বল্পমেয়াদ বলতে সাধারনত এক বছরের কম সময়কে বুঝানো হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ তহবিল স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করা হয়। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কিছু সুবিধা থাকে।

যেমন: প্রথমত, স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংস্থানের খরচ তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উভয়ই হতে পারে। যেমন: স্বল্পমেয়াদে বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করা হলে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বেশি প্রদান করতে হয়। আবার বিভিন্ন ঋণমুক্ত উৎস যেমন: বাকিতে পণ্য ক্রয়, বকেয়া বেতন ও মজুরির মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারে। যার কোনো মূলধনি খরচ নেই।

দ্বিতীয়ত, স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সহজ এবং দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা যায়।


তৃতীয়ত, যেসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য দ্রব্যের চাহিদা অতি দ্রুত পরিবর্তন হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের স্বল্পরময়াদি পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। যেমন: ফ্যাশন হাউসগুলোর পণ্যেও চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হয় তাই পণ্য উৎপাদনের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, ফলে কম পরিমাণে উৎপাদন করা হয় এবং এদের অর্থ বিনিয়োগের পরিমাণও কম হয়।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

এ ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থসংস্থান করা সুবিধাজনক।
স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎসগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক এই দু’ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে এসব উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক উৎস

ক) বাণিজ্যিক পত্র: সাধারনত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়ান্তে মুনাফাসহ আসল অর্থ ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে বাণিজ্যিক পত্র (ঈড়সসবৎপরধষ চধঢ়বৎ) বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয়ে জামানত হিসাবে কাজ করে। যে সকল ব্যক্তির সাময়িক সময়ের জন্য কিছু অব্যবহৃত অর্থ থাকে, তারা এই

বাণিজ্যিক পত্র ক্রয় করে থাকে। সাধারণত খ্যাতিমান ব্যক্তি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, পেনশন তহবিল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয় করে সাময়িক সময়ের জন্য অর্থায়ন করে।

খ) প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ: সাধারনত বাকিতে বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্য বিল সৃষ্টি হয়। যখন কোন প্রতিষ্ঠান বাকিতে পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে এবং এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত তিন মাস) শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পণ্যদ্রব্য ক্রয় বাবদ পরিশোধ করবে তাহলে এই দলিলকে বিনিময় বিল বলা হয়। বিক্রেতার কাছে এটি প্রাপ্য বিল হিসেবে গণ্য হয়। এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বাট্টা করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ একজন ক্রেতা ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখে ৭৫,০০০ টাকার পণ্যদ্রব্য বাকিতে ক্রয় করে বিক্রেতাকে বিনিময় বিল নামক দলিলে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে বিক্রেতাকে ৭৫,০০০ টাকা পরিশোধে বাধ্য থাকবে। কিন্তু জানুয়ারি মাসে বিক্রেতার যদি অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বিক্রেতা এটিকে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই ব্যাংকের কাছে বিক্রয় করে বিনিময় বিলের সমমূল্য হতে কিছু কম যেমন: ৭৫,০০০ টাকার বিলে ৫% বাট্টার হারে ৭১,২৫০ টাকা নগদ সংগ্রহ করতে পারে।

গ) প্রদেয় বিল: উপরের উদাহরণে বিনিময় বিল বিক্রেতার দৃষ্টি কোন থেকে প্রাপ্যবিল কিন্তু ক্রেতার দৃষ্টি কোন থেকে প্রদেয় বিল। এটিও একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎস। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল ও উৎপাদন সামগ্রী বাকিতে ক্রয় করে, তখন সাময়িক সময়ের জন্য অর্থসংস্থান হয়।

ঘ) স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ: জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম প্রধান উৎস। সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পরে সুদসহ আসল একসাথে পরিশোধ করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে স্বল্প খরচে এই উৎস ব্যবহার করে থাকে। স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের আরেকটি উৎস হলো ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন। সব প্রতিষ্ঠানই মূলত চলতি হিসাবের মাধ্যমে পাওনা আদায় ও দেনা পরিশোধ করে থাকে। এ ধরনের ব্যাংক হিসাব সাধারণত প্রতিষ্ঠানকে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করে, তবে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সর্বোচ্চ
পরিমাণ ব্যাংক সীমাবদ্ধ করে দেয়।

ঙ) ক্ষুদ্র ঋণ: সাধারণত কৃষিনির্ভর ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণের জন্য এ ধরনের ঋন প্রদান করা হয়। যেমন: কৃষি উপাদান ক্রয়, কুটির শিল্প ব্যবস্থাপনা, হ্যাচারি বা খামার পরিচালনা ইত্যাদি। গ্রামীণ ব্যাংক, যুব উন্নয়ন ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক এ ধরনের ঋণ প্রদান করে থাকে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

২. স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস

ক) ক্রেতার নিকট হতে অগ্রিম গ্রহণ: বিক্রেতা পণ্য সরবরাহ করার পূর্বেই ক্রেতার নিকট হতে পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাবদ অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে তখন তাকে ক্রেতা হতে অগ্রিম গ্রহণ বলে। যেমন-রড বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় রড সরবরাহের পূর্বেই ক্রেতার নিকট হতে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করা হয় এবং পরে তা সরবরাহ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ রড উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালের ৩১ শে জুলাই তারিখে রড সরবরাহ করবে, কিন্তু ক্রেতার নিকট হতে রডের মূল্য বাবদ ১ লা এপ্রিল তারিখে অগ্রিম গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে রড উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান ৪ মাসের জন্য অর্থায়নের সুযোগ পেয়েছে। যদি
সে ব্যাংক বা অ্য কোন উৎস হতে ৪ মাসের জন্য ঋণ গ্রহণ করতো তাহলে তাকে ঋণের জন্য ৪ মাসের সুদ দিতে হতো। সুতরাং ক্রেতার নিকট হতে অগ্রিম গ্রহণের মাধ্যমে ও স্বল্পময়াদি অর্থায়ন করা যায়।

খ) মজুত মাল বন্ধকীকরণ: স্বল্পমেয়াদি অর্থ সংস্থানের জন্য অনেক ক্ষেত্রে মজুদপণ্য ব্যবহার করা যায়। মজুদ পণ্য বন্ধকীকরণ বলতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট মজুদ পণ্য বন্ধক রেখে স্বল্পমেয়দি ঋন গ্রহণকে বুঝায়। কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের জন্য কোনো স্বনামধন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তার মজুদপণ্য জামানত বা বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করাকে মজুদ মালের মাধ্যমে অর্থসংস্থান বলা হয়। এ ধরনের অর্থ সংস্থানের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত না দেয়া পর্যন্ত মজুতপণ্যের উপর ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার বজায় থাকে। মজুদ পণ্য বলতে কাঁচামাল, আংশিক উৎপাদিত দ্রব্য এবং
উৎপাদিত দ্রব্য এই তিনটি উপাদানকে বুঝায়। ব্যাংক মজুদ পণ্য বন্ধকের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সব ধরনের মজুদ পণ্যকে জামানত হিসাবে গ্রহণ করা হয় না। যে সকল পণ্য সহজে ও কম সময়ে বিক্রয করে নগদ অর্থে রূপান্তর করা যায় সে সকল পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংক বেশি পরিমাণ ঋণ দিয়ে থাকে। আবার পণ্যের স্থায়িত্ব বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যত কম হবে ঐ পণ্য ঋণদাতার নিকট সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।

গ) গ্রাম্য মহাজন: গ্রামের বিত্তশালী ব্যক্তিরা স্বল্পমেয়াদে দরিদ্র ব্যক্তিদের সুদের বিনিময়ে ঋণ প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ঋণ গ্রহীতাকে বড় অংকের সুদ প্রদান করতে হয়। গ্রাম্য মহাজনরা প্রদত্ত ঋণের উপরে
দৈনিক, সাপ্তাহিক অথবা মাসিক ভিত্তিতে সুদ গণনা করে থাকে। এভাবে গ্রাম্যমহাজনশ্রেণি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থান

এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সংগৃহীত তহবিলকে মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন বলে। একটি প্রতিষ্ঠান মধ্যমেয়াদি তহবিল ব্যবহার করে ব্যবসায়ের চলমান মূলধনের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মিটানো হয়। এই তহবিলের খরচ স্বল্পমেয়াদি তহবিলের খরচ চেয়ে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে কম হয়ে থাকে। নিচে এ উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রদত্ত ঋণ: বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ প্রদানের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তক নির্ধারিত সুদের হার ও ঋণের চাহিদা বিচার-বিশ্লেষণ করে সুদেও হার ধার্য করে। সাধরনত ব্যাংক ঋণ বলতে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ গ্রহীতাকে জামানতবিহীন বা জামানতযুক্ত অর্থ ঋণ প্রদান করাকে বুঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে এরূপ স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে।

খ) বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সাধারণত রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বিশেষ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো মূলত শিল্প, কৃষি, পাটজাত পণ্যদ্রব্য, কুটিরশিল্প ইত্যাদি খাতের উন্নয়নের স্বার্থে নিয়োজিত থাকে। এ সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট খাতে অপেক্ষাকৃত সহজ শর্তে ও কম সুদে অর্থায়ন করে থাকে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে মধ্যমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ: শিল্প ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

গ) বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশে বেশ কিছু সংখ্যক এন.জি.ও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। যেমন: ব্রাক, আশা, প্রশিকা, মাইডাস, গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ শক্তি প্রভৃতি এন.জি.ও হিসেবে ব্যবসায় করছে। এ সকল প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহ ছাড়াও পরামর্শদান, প্রশিক্ষণ দান, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রভৃতি ব্যাপারেও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করে থাকে। অন্যদিকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও এ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান পছন্দ করে কারণ এদের ঋণের শর্তসমূহ সহজ ও সুবিধাজনক।

ঘ) মূলধনি বাজারের প্রতিষ্ঠান: মধ্যমেয়াদি তহবিলের আরেকটি উৎস হচ্ছে মূলধনী বাজার প্রতিষ্ঠান যেগুলো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে মধ্যমেয়াদি অর্থ সরবরাহ করে। যেমন: লিজিং কোম্পানি, বিমা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ব্যাংক, অর্থ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান (অবলেখক) ও মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটায়। এ সকল তহবিলের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে সুদের হার কম এবং ঋণের ক্ষেত্রে কোন
সম্পত্তি বন্ধক দিতে হয় না।

ঙ) পেনশন ও প্রভিডেন্ট তহবিল: পেনশন ও প্রভিডেন্ট তহবিল মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের আরেকটি অন্যতম উৎস। বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কমকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরী বিধি অনুযায়ী প্রভিডেন্ট তহবিল ও পেনশন তহবিলে তাদের বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখতে হয়। পরবর্তীকালে এসব প্রতিষ্ঠান তহবিল সংক্রান্ত বিধি বিধানের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে এরূপ তহবিলে জমাকৃত অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মধ্যমেয়াদের জন্য ঋণ প্রদান কওে থাকে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

৩. দীর্ঘমেয়াদি তহবিল

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মেয়াদ হচ্ছে ৫ বছর থেকে উর্ধ্বে যেকোনো সময়কাল। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি উৎসের তুলনায় বেশি হয় এবং এই তহবিল বিভিন্ন স্থায়ী সম্পত্তি যেমন: ভূমি, দালানকোঠা, কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। নিচে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস সমূহ আলোচনা
করা হলো:

ক) ব্যাংক ঋণ: দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম উৎস হলো ব্যাংক ঋণ। দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায় সম্পদ যেমন: ভূমি, দালান কোঠা, যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদে
ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠানের আয়, সুনাম, স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ, অতীত ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ সম্পর্কে তথ্যাবলি বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়। যেমন: ব্যবসায়ের
পরিসর বৃদ্ধি, কারখানা নির্মাণ, দালানকোঠা নির্মাণ, বৃহৎ যন্ত্রাাতি ক্রয় ইত্যাদি।

খ) ঋণপত্র: ঋণপত্র হলো দীর্ঘয়োদি ঋণের দলিল যা বিক্রয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এটি শেয়ারের একটি বিকল্প ব্যবহৃত হয়। এটিতে সুদের হার উল্লেখ থাকে যে হারে ঋণপত্র ইস্যুকারি প্রতিষ্ঠান এর ক্রেতাকে
সুদ প্রদান করতে বাধ্য থাকে। সাধারনত পাঁচ বছরের অধিক সময়ের জন্য ঋণ নেয়া হয়। ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থায়নের অন্যতম সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার পূর্ব নির্ধারিত ও স্থির থাকে। ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপক দক্ষতার
সাথে অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারে।

গ) লিজিং: লিজিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করা যায়। লিজিং হলো লিজ দাতা ও লিজ গ্রহীতার মধ্যে এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সম্পদ দীর্ঘসময়ের
জন্য ব্যবহার করার একতচ্ছত্র অধিকার প্রদান করা হয়। যেমন একটি প্রতিষ্ঠানে যদি দালান কোঠা, জমি, ব্যয়বহুল মেশিন, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদির প্রয়োজন হয়, তখন সেগুলো সরাসরি ক্রয় না করে লিজিং এর মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে সম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হয় না বরং একটি নির্দিষ্ট হারে ভাড়া (সুদের মতো) প্রদানের বিনিময়ে লিজকৃত সম্পত্তি ব্যবহার করার অধিকার অর্জিত হয়। লিজিংয়ের ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে হয় না।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

গ. ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অর্থায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে হবে।

উত্তর:

অর্থায়নের গুরুত্ব

তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মুক্ত বাজারনীতিতে প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সতকর্তার সাথে অর্থায়ন পরিকল্পনা করে থাকে। কারণ অর্থায়ন পরিকল্পনার উপরই একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন নির্ভরশীল।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

তাই বর্তমানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেমন- সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ গুরুত্বের সাথে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থায়ন করে থাকে। কারণ, সুপরিকল্পিত ও দক্ষ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার কারণে একদিকে যেমন ঝুঁকি হ্রাস পায়, অন্যদিকে আয় বা মুনাফা বৃদ্ধি পায়।

নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাকে আরো বেশি অর্থবহ করে তুলবে:

(ক) মূলধন সংকট

(খ) উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ

(গ) ব্যাংকিং ব্যবস্থা

(ঘ) শিক্ষিত উদ্যোক্তার অভাব

(ঙ) স্বল্প মেয়াদি তহবিলের ব্যবহার

নিচে অর্থায়নের গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

(ক) মূলধন সংকট: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন সম্পর্কিত ধারণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ বলে আর্থিক সংকট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই সংকটের জন্য কারবার প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করা একটি দুরূহ কাজ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল কেনা প্রয়োজন কিন্তু অর্থসংকটের জন্য সে যদি যথাসময়ে উপযুক্ত পরিমাণে কাঁচামাল ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। অর্থায়ন-সংক্রান্ত ধারণা তাকে পরিকল্পনামাফিক যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ ও
তার যথার্থ ব্যবহারে সহায়তা করে।


(খ) উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ: একটি সফল বিনিয়োগ জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। অর্থায়নবিষয়ক জ্ঞানের প্রয়োগে একজন ব্যবসায়ী বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্পটি বেছে নিতে পারে। এই ধরনের লাভজনক বিনিয়োগ কারবারটির জন্য যেমন অর্থবহ, তেমন সার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বিশেষ গুরত্বপূর্ণ।


(গ) ব্যাংকিং ব্যবস্থা: উপরন্তু উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সুসংগঠিত নয় বলে ঋণের জন্য আবেদন করলেও কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে ঋণ পাওয়া যায় না। অনেক সময় ব্যাংক ঋণের বিপরীতে যে সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয়, তার অপ্রতুলতার কারণে ব্যাংক ঋণ উপযুক্ত সময়ে ও যথার্থ পরিমাণে পাওয়া যায় না। ফলে ব্যবসায়ীদের এ অর্থসংকট হতে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য খুবই পরিকল্পিতভাবে অর্থের সংস্থান করতে হয় এবং সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্থের লাভজনক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ীদের এ ধরনের সমস্যা পূর্বানুমান করতে সাহায্য করে এবং যেসব পদ্ধতিতে তা মোকাবিলা করা যায় তার ধারণা দেয়।


(ঘ) শিক্ষিত উদ্যোক্তার অভাব: বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা স্বল্পশিক্ষিত বলে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনার করতে পারে না। এতে করে অনেক লাভজনক প্রতিষ্ঠান
উপযুক্ত আর্থিক পরিকল্পনার অভাবে আর্থিক সংকটে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না এবং অবশেষে লাভের বদলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অথচ এই ক্ষতির কারণ শুধু আর্থিক অব্যবস্থাপনা। অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জ্ঞান থাকলে সহজেই একজন ব্যবসায়ী
পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ সংস্থান করে তার সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পারে।


(ঙ) স্বল্প মেয়াদি তহবিলের ব্যবহার: একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের সাথে সাথে স্বল্পমেয়াদি তহবিলেরও প্রয়োজন হয়। যেমন: কাঁচামাল ক্রয়, বেতন ও মজুরি প্রদান, পানি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বি পরিশোধ, বাড়িভাড়া, পরিবহন খরচ, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি। সকল চলতি খরচের পরিমাণ নির্ধারন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বল্পমেয়াদি তহবিলের ব্যবহার হয়ে থাকে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)] 

H.S.C

শেয়ার করুন:

3 thoughts on “আর্থিক ব্যবসহাপনা কাকে বলে,অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস সমুহ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন