আমদানি উত্তর স্বল্প সময়ের জন্য বিনিয়ােগ নীতিমালা আলােচনা কর,আমদানি উত্তর স্বল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগের কানুন সমূহ ব্যাখ্যা কর

প্রশ্ন সমাধান: আমদানি উত্তর স্বল্প সময়ের জন্য বিনিয়ােগ নীতিমালা আলােচনা কর,আমদানি উত্তর স্বল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগের কানুন সমূহ ব্যাখ্যা কর

উত্তর : ইসলামি ব্যাংকসমূহকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণের ঝুঁকি নিয়ে আমদানি বাণিজ্য করতে হয়। কেননা, ইসলামি ব্যাংকসমূহ সাধারণভাবেই কাউকে সুদ প্রদান করে না এবং কারও নিকট, হতে সুদ গ্রহণ করেও না। আবার দেখা যায় যে, ব্যাংকসমূহ শিপিং ডকুমেন্টস আসার পর গ্রাহক তার প্রতিশ্রুতি মােতাবেক অর্থের অভাবে মালামালের অবশিষ্ট বা সম্পূর্ণ মূল্য পরিশােধ করে তাৎক্ষণিকভাবে ডকুমেন্টস ছাড় করায় বা করতে না পারায় কয়েকদিন সময় চেয়ে নেয় এবং বিদেশি সরবরাহকারীদেরকে মূল্য পরিশােধ করে দেওয়ার জন্য ব্যাংকসমূহকে অনুরােধ করে। তারপর স্বল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহক ব্যাংকের পাওনাসমূহ পরিশােধ করে ডকুমেন্টস ছাড় করায় পাের্ট হতে সম্পূর্ণ নিজের খরচে মালামালসমূহ ছাড় করবে বলে।

পুনঃঅঙ্গীকার করে থাকে। বৈদেশিক বাণিজ্য বা বিনিময়ের নীতি অনুযায়ী (fors in Exchange Regulation Act) Uniforms “coustoms and practice for Documentary credit (Revised 1993) 472 ব্যাংকের অঙ্গীকার অনুসারে বিদেশি সরবরাহকারীদেরকে ৩ দিন তথা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালামালসমূহের মূল্য পরিশােধ করতে বাধ্য থাকে। আমদানি উত্তর সল্পসময়ের জন্য বিনিয়ােগের নীতিমালার ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে যা নিচে আলােচনা করা হলাে :


আরো ও সাজেশন:-

(i) মুরাবাহা : সাধারণত মুরাবাহা পদ্ধতিতে ব্যাংকসমূহের গ্রাহকের অনুরােধে আমদানি মালের মূল্য নিজস্ব তহবিল হতে পরিশােধ করে ক্রয়সূত্রে মালের মালিক হয়ে যাবে। আর এসব ধরনের মালামালসমূহ ব্যাংকসমূহের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাের্ট হতে উক্ত মালামালসমূহ ছাড় করানাের জন্য প্রয়ােজনীয় ডকুমেন্টসমূহ ব্যাংকেরই আওতাধীন থাকবে। আর এর কারণ হিসেবে দেখানাে হবে যে, যেহেতু ব্যাংকসমূহ ডকুমেন্টস নিয়ে ডিল করে এবং ডকুমেন্টস-এর উপর নির্ভরশীল হয়েই মালামালসমূহ বুঝে পায়। এক্ষেত্রে মালামালসমূহের স্থলাভিষিক্ত হিসাবে এসব ধরনের ডকুমেন্ট থেকেই ধরা হবে।

আবার, একটি নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকরাও মালামাল ব্যাংকের নিকট হতে ক্রয়ের মাধ্যমে নেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি মূল্যের, পণ্যের মূল্য পরিশােধ করার পর ব্যাংক এবং গ্রাহকের মধ্যে একটি ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হবে। গ্রাহক এসে পরবর্তীতে চুক্তির অনুসারে ব্যাংকের টাকা পরিশােধ করে ব্যাংক হতে ডকুমেন্টস নিয়ে পাের্ট হতে মালামালসমূহ ছাড়িয়ে নেবে। আবার, এক্ষেত্রে গ্রাহক যদি তার চুক্তি মােতাবেক ব্যাংকের পাওনা পরিশােধ করতে ব্যর্থ হয় অথবা, পাের্ট হতে অন্য সব ধরনের যাবতীয় খরচ দিয়ে মালামালসমূহের ব্যাংকের গুদামে বা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ব্যাংকের নিকট আবেদন করে তাহলে ব্যাংক সম্পূর্ণ খরচ তথা শুল্ক। ভ্যাট, পরিবহণ খরচ ইত্যাদি খরচসমূহ বহন করে পাের্ট হতে মালামাল ছাড় করিয়ে ব্যাংকের গুদামে নিয়ে আসবে।

ব্যাংক ইঞ্জিস উপরের কার্যক্রমসমূহ সম্পাদিত হবার পরে গ্রাহক তার চুক্তি অনুসারে মালামালসমূহের মূল্য একসাথে বা কয়েক ধাপে বা কিস্তিতে পরিশােধ করে ব্যাংকের গুদাম হতে মালামাল ডেলিভারি নিয়ে যাবে। এসব কার্যক্রমসমূহ সম্পাদিত হবার সময় মনে রাখতে হবে যে, এখানে দ্বিতীয়বারের মতাে মালামালের ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করা যায় না। কেননা, এখানে একই জিনিসের দুইবার ক্রয় বা বিক্রয় করার নিয়ম নেই। কারণ, ব্যাংক যখন তার মূল্য বা মালের মূল্য পরিশোধ করেছিল তখনই ব্যাংক গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী মালের মালিক হয়েছিল এবং গ্রাহক মালের মূল্য পরিশােধ করে ব্যাংকের নিকট হতে মালামাল ছড়িয়ে নেবে এবং এই শর্তে ব্যাংক এবং গ্রাহকের মধ্যে এক ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

যার ফলে, অপেক্ষকৃত দীর্ঘ সময়ের পরও যদি গ্রাহকের মালামালসমূহ নেয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে প্রথমবারেই মুরাবাহা আমদানি পদ্ধতিতে ব্যাংকের গুদামে মালামাল রাখর জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়াই উত্তম হবে। কেননা, একই জিনিসের বারবার ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতি শরিয়তের পরিপন্থি।

(i) কর্জসমূহ : সাধারণত যা দিয়ে মালামালসমূহের মূল্য পরিশােধ করা হবে এবং তার বিপরীতে কোনাে ধরনের মুনাফা আদায় করা যাবে না এমন ধরনের অর্থ ব্যাংক্সমূহ স্বল্প সময়ের জন্য গ্রাহককে কর্জ হিসেবে প্রদান করতে পারে। ব্যাংকের নিকট উক্ত জামানতসমূহ বা আমদানি পণ্য জামানত হিসাবে থাকবে । কিন্তু আমদানি পণ্যের মালিক থাকবে গ্রাহক বা আমদানিকরক। গ্রাহক একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা পরিশােধ করে তার পূর্বচুক্তি মােতাবেক ছাড় করিয়ে নিবে। কর্জসমূহ। প্রদানের পর পরবর্তীতে গ্রাহক যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের ঋণসমূহ পরিশােধ করতে পারে এবং ডকুমেন্টস ছাড় করাতে বাধ্য হয়েও পরিশােধ বা ছাড় করাতে ব্যর্থ হয়।

তাহলে ব্যাংকসমূহ নিজের খরচে পাের্ট হতে মালামালসমূহ ছাড় করিয়ে নেয় এবং তা নিলামে বিক্রয় করে ব্যাংকের পাওনাসমূহ আদায় করবে। তারপরই, এতে যদি পাওনা আদায় সম্পূর্ণ না হয় তাহলে অবশিষ্ট্য পাওনা আদায়ের জন্য ব্যাংকসমূহ চুক্তি অনুসারে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারবে। . আবার আমদানিকারক যদি মুরাহার পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়ােগের সুবিধার জন্য আবেদন করে তাহলে গ্রাহক ব্যাংকের নিকট হতে একটি নির্ধারিত মূল্যে মালামাল ক্রয় করে নিবে এবং একই ধরনের শর্তের উপর ভিত্তি করে ব্যাংকসমূহ মুরাবাহার পদ্ধতিতে বিনিয়ােগের সুবিধা প্রদান করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে ইমেল : info@banglanewsexpress.com

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Comment