আখরোটের উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আখরোটের উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আখরোটের উপকারিতা ও অপকারিতা – Benefits and harms of walnuts

আখরোট একপ্রকার বাদাম জাতীয় ফল। এই ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর যাতে প্রচুর আমিষ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি আসিড আছে। এই ফলটি গোলাকার এবং ভেতরে একটি বীজ থাকে। পাকা ফলের বাইরের খোসা ফেলে দিলে ভেতরের শক্ত খোলসযুক্ত বীজটি পাওয়া যায়; এই খোলসের ভেতরে থাকে দুইভাগে বিভক্ত বাদাম যাতে বাদামি রঙের আবরন থাকে যা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এই এন্টিঅক্সিডেন্ট তৈলাক্ত বীজকে বাতাসের অক্সিজেন থেকে রক্ষা করে ফলে তা খাওয়ার উপযোগী থাকে।

আখরোট গাছ

আখরোট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Juglans regia যা জুগল্যান্ডাসি গোত্রের পর্ণমোচী বৃক্ষ। এই গাছ সাধারণতঃ ১০–৪০ মিটার (প্রায় ৩০–১৩০ ফুট) লম্বা হয়। এদের পালকের ন্যায় বহুধাবিভক্ত পাতা থাকে। পাতা সাধারণতঃ ২০০-৯০০ মিলিমিটার (৭–৩৫ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট।

আখরোটের উপকারিতা ও অপকারিতা

আখরোট এর পুষ্টি উপাদান

একটি আখরোট বাদাম ৬৫% ফ্যাট এবং ১৫% প্রোটিন দিয়ে গঠিত। এতে সামান্য পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়াও এতে ফাইবার এবং পটাশিয়াম থাকে।

নিচে এক আউন্স আখরোটে থাকা পুষ্টি উপাদানের তথ্য দেওয়া হল-

ক্যালোরিঃ- ১৮৫ মিলিগ্রাম

মোট ফ্যাটঃ- ১৮.৫ গ্রাম

ফাইবারঃ- ১.৯ গ্রাম

প্রোটিনঃ- ৪.৩ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেটঃ- ৩.৯ গ্রাম

সোডিয়ামঃ- ১ মিলিগ্রাম

পটাশিয়ামঃ- ১২৫ মিলিগ্রাম

আখরোটে ফ্যাটের পরিমাণ অন্যান্য উপাদানগুলোর চেয়ে অনেক বেশি, তবে এগুলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত স্বাস্থ্যকর ধরনের ফ্যাট। যারা মাছ খেতে পছন্দ করে না তাদের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়ার বিকল্প উৎস হতে পারে আখরোট।

আখরোটের উপকারিতা

খাওয়ার নিয়ম

পুষ্টিবিদদের মতে,৪-৫ টি আখরোট পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন। এভাবে খাওয়া হলে উপকার বেশি পাওয়া যেতে পারে৷

এছাড়াও দুধ ও মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে এর পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায়।

আখরোটের দাম কত

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বিভিন্ন ধরনের বাদাম বিক্রি করা হয় কেজি দরে। আবার প্যাকেটজাত করেও বিক্রি করা হয়। আখরোট কেজিপ্রতি ৯০০ টাকা।

কোথায় পাওয়া যাবে

ঢাকার কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেটে আপনি পাইকারি দরে এসব বাদাম কিনতে পারেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সুপারশপ যেমন: আগোরা, মীনাবাজার, আলমাস, মোস্তফা মার্ট, নন্দন, স্বপ্ন, ইউনিমার্টে পাবেন প্যাকেটজাত নানা রকম বাদাম। 

অন্য সব বাদাম বিভিন্ন বাজারে পাওয়া গেলেও আখরোট পাওয়া যাবে ঢাকার গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটে। 

আখরোটের উপকারিতা

আখরোটের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন। তাই এটা আমাদের শরীর গঠনে ভূমিকা রাখে। বাদামজাতীয় খাবার শরীরের জন্য বেশ উপকারী। অনেক ধরনের বাদাম থাকলেও সবচেয়ে উপকারী বাদাম হলো ‘আখরোট’, যাকে পেস্তা বাদামও বলা হয়। প্রতিদিন আখরোট খেলে অনেক রোগ থেকে সহজে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

আখরোট খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

১.হৃদযন্ত্র ভালো রাখে

সুস্থ থাকার জন্য হৃদযন্ত্র বা হার্ট ভালো রাখার বিকল্প নেই। আর আপনাকে এই কাজে সাহায্য করতে পারে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য উপকারী। আপনি যদি প্রতিদিন কয়েকটি করে আখরোট খান তবে তা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। এটি আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের বাড়াতে সাহায্য করে। তাই হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে নিয়মিত আখরোট খান।

২.প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে

এই বাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির একটি দুর্দান্ত উত্স যা আপনার দেহে জারণ ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে, “খারাপ” এলডিএল কোলেস্টেরল দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি সহ, যা এথেরোস্ক্লেরোসিসকে উত্সাহ দেয়। এছাড়াও, আখরোটে পাওয়া অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টগুলি আরও অনেক আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য বেনিফিটের জন্য পরিচিত।

৩.মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে

আখরোট দেখতে কিন্তু অনেকটা আমাদের মস্তিষ্কের আকৃতির মতো। এই বাদাম আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশেও সাহায্য করে। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এই কাজে ভূমিকা রাখে। তাই মস্তিষ্কের বিকাশে নিয়মিত আখরোট খেতে পারেন। 

৪.স্মৃতিশক্তি রক্ষা করে

আখরোটের মধ্যে থাকা ভিটামিন ‘ই’ ও ফ্লাভনয়েড রক্তের ফ্রি র‌্যাডিক্যাল রাসায়নিক কমাতে সাহায্য করে। এসব ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। রোজ আখরোট খেলে তাই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৫.ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

মরণঘাতি রোগ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, পলিফেনলস এবং ইউরোলিথিন অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। তাই স্তন, কোলন এবং প্রোস্টেট রোধে বড় ভূমিকা রাখে আখরোট। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ জানিয়েছে আখরোট খেলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৬.হাড় শক্ত করে

হাড়ের দুর্বলতা দেখা দিলে সতর্ক হোন। কারণ সেখান থেকে দেখা দিতে পারে আরও অনেক সমস্যা। হাড় ভালো রাখতে নিয়মিত আখরোট খান। এতে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড নামে একটি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে আখরোটে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডও হাড় ভালো রাখে।

৭.গর্ভাবস্থায় উপকারী

গর্ভবতী নারীর জন্য প্রতিদিন আখরোট খাওয়া উপকারী। আখরোটে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যেমন ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন এবং থিয়ামিন। এগুলো হবু মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আখরোটে থাকা ফলিক এসিড গর্ভবতী ও অনাগত সন্তানের জন্য উপকারী। 

৮.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে আখরোট। সপ্তাহে দুই দিন ৩০ গ্রাম আখরোট খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৪ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

৯.স্ট্রেস কমায়

আখরোটে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, আলফা লাইনোলেনিক এসিড, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি। এসব উপাদান স্ট্রেস মোকাবেলা করতে বেশ সহায়তা করে।

১০.চুলের জন্য ভালো

আখরোট চুলের জন্য বেশ ভালো খাবার। এতে থাকা বায়োটিন চুল সোজা রাখতে সাহায্য করে, চুলপড়া কমায় এবং বৃদ্ধি বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া এতে থাকা বায়োটিন বা ভিটামিন বি-৭ চুলের গোড়া শক্ত করতে, চুলপড়া রুখতে ও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

১১.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে যায়। করোনা মহামারির এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি আমরা একটু হলেও মনোযোগী হয়েছি। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আখরোট। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইমিউন সিস্টেমকে ঠিক রাখে। আখরোটে আছে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ যেমন তামা এবং ভিটামিন বি সিক্স যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

আখরোটের উপকারিতা ও গুনাগুন

১২.ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

এটি কম ক্যালোরি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। আখরোট খাওয়া আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। আখরোট খেলে ক্ষুধা কমাতে পারে। যার কারণে আপনি অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং চর্বিযুক্ত আইটেমগুলি খাওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন। আখরোট অনেকগুলি স্বাস্থ্যকর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।

১৩.ভালো ঘুমের জন্য

অনিদ্রার সমস্যা থাকলে আখরোট রাখুন খাবারের তালিকায়। এতে থাকা মেলাটোনিন ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক। আখরোটে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপকে কম রাখে এবং স্ট্রেস উপশম করে।

১৪.উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ। আখরোট খাওয়া রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের লোকেরা এবং স্ট্রেস থাকাকালীন স্বাস্থ্যকর ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ইহা উপকারী হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপযুক্ত লোকদের ডায়েটে আখরোট বাদ দেওয়া উচিত নয়।

১৫.অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

অধ্যয়নগুলি দেখায় যে যদি আপনার অন্ত্রে স্বাস্থ্য-উন্নতিকারি ব্যাকটিরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণুগুলি (আপনার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা) পূর্ণ থাকে তবে আপনার স্বাস্থ্যকর অন্ত্রে এবং ভাল সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি। আপনি যা খান তা আপনার মাইক্রোবায়োটার মেকআপকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই বাদাম খাওয়া

আখরোটের অপকারিতা

যেকোনো খাবারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ তাতে শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য খাবারের মতোই আখরোটও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। আপনি যদি আখরোট বেশি খেয়ে ফেলেন তবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-

* অ্যালার্জি হতে পারে।

* লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

* কালো আখরোটে থাকা ফাইটেটস শরীরের আয়রন শুষে নিতে পারে। ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।

পরিশেষে : আখরোটের উপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, আখরোটের উপকারিতা ও অপকারিতা, আখরোটের উপকারিতা,আখরোট খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা,আখরোট খাওয়ার উপকারিতা

আপনার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক আরো কিছু পোস্ট

স্বাস্থ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী ঔষধি গুন গোপন সমস্যা রূপচর্চা রোগ প্রতিরোধ

Leave a Comment


Close Ads
Close Ads