অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিল বলতে কী বুঝায়? হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিলের অবর্তমানে প্রযোজ্য নিয়ম কানুনগুলো ব্যাখ্যা করুন।

অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিল বলতে কী বুঝায়? হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিলের অবর্তমানে প্রযোজ্য নিয়ম কানুনগুলো ব্যাখ্যা করুন।

Assignment এইচ এস সি ডিগ্রি ও উন্মুক্ত পরীক্ষা প্রস্তুতি শিক্ষা
শেয়ার করুন:
শ্রেণি: ১২শ/ hsc/ উন্মুক্ত-2021 বিষয়: হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র) এসাইনমেন্টেরের উত্তর 2021
এসাইনমেন্টের ক্রমিক নংঃ 02 বিষয় কোডঃ 2886
বিভাগ: ব্যবসায় শাখা
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিল বলতে কী বুঝায়? হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে অংশীদারী ব্যবসায়ের দলিলের অবর্তমানে প্রযোজ্য নিয়ম কানুনগুলো ব্যাখ্যা করুন।

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অংশীদারী ব্যবসার দলিল

চুক্তি অংশীদারী ব্যবসার মূল ভিত্তি। এ চুক্তি মৌখিক, লিখিত, নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত হতে পারে। তবে মৌখিক চুক্তি না হওয়াই উত্তম। অংশীদারী ব্যবসার এ লিখিত চুক্তিনামাকে বলা হয় অংশীদারী ব্যবসার দলিল। হারম্যানসন ও অন্যান্যের মতে, “অংশীদারী ব্যবসার দলিল হলো সমস্ত অংশীদার কর্তৃক স্বীকৃত/গৃহীত নীতি ও শর্ত যা অংশীদারী ব্যবসার কার্য পরিচালনা ও অবসায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যদিও এ দলিলের নিবন্ধন শর্ত নয়, তথাপি এটা নিবন্ধিত হওয়া ভাল। কারন এর মাধ্যমে ব্যবসাটি অধিক আইনগত মর্যাদা লাভ করে।

পরিশেষে বলা যায়, দুই বা ততোধিক (সর্বোচ্চ ২০ জন, ব্যংকিং ব্যবসায় ১০ জন) ব্যক্তি মুনাফা অর্জন ও বণ্টনের লক্ষ্যে কোন ব্যবসা গঠন ও পরিচালনা বা অবসায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত যে দলিলে স্বাক্ষর করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশীদারী ব্যবসা গঠন করে তাকে অংশীদারী ব্যবসার দলিল বা চুক্তিপত্র বলে।

অংশীদারী ব্যবসার দলিলের/চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তু অংশীদারী ব্যবসার ভিত্তি চুক্তি। আর এ দলিল হলো সেই চুক্তিনামা। এতে ব্যবসার কার্যাবলী, পরিচালনা, বিলোপ সাধন ইত্যাদি বিষয়ে সবিশেষ লিখিত থাকে। সুতরাং ভবিষ্যতে যাতে কোন সমস্যার সমাধান খুঁজতে হিমশিম খেতে না হয় এজন্য এ দলিলে ভবিষ্যতের সমস্ত দিক-নির্দেশনার উল্লেখ থাকে। এর আলোকেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হয়ে থাকে। এ দলিলের বিষয়বস্তু নিম্নরূপ হওয়া উচিৎঃ ১. ব্যবসার নাম

২. ঠিকানা

৩. প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও আওতা

৪. বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্য এলাকা

৫. ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব/মেয়াদ

৬. অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ও পেশা

৭. ব্যবসার মোট মূলধনের পরিমাণ

৮. অংশীদারদের প্রত্যেকের প্রদত্ত মূলধনের পরিমাণ

৯. নতুন মূলধন সংগ্রহের পদ্ধতি

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

১০. মূলধনের উপর সুদ দেয়া হবে কি না, হলে হার কত হবে

১১. ব্যবসা থেকে অংশীদাররা কোন অর্থ উত্তোলন করতে পারবে কিনা, পারলে কে কত ও কিভাবে উত্তোলন করবে

১২. উত্তোলিত অর্থের উপর সুদ ধার্য করা হবে কিনা, হলে তার হার কত হবে।

১৩. ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান বণ্টন পদ্ধতি

১৪. ব্যবসার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

১৫. ব্যবসার হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

১৬. ব্যবসার হিসাব নিরীক্ষা পদ্ধতি

১৭. ব্যবসার হিসাব বহি সংরক্ষণ ও পরিদর্শন সংক্রান্ত নিয়ম

১৮. ব্যবসার অর্থ যে ব্যাংকে জমা রাখা হবে তার নাম, ঠিকানা ও হিসাবের ধরন

১৯. ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নাম ও পদবী

২০. ব্যবসার দলিল পত্রে স্বাক্ষর প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নাম ও পদবী

২১. অংশীদারদের থেকে কোন ঋণ নেওয়া হলে তার উপর প্রদেয় সুদের হার

২২. অন্য উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ পদ্ধতি

২৩. অংশীদারদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিশদ বর্ণনা

২৪. কোন অংশীদারকে কোন বেতন বা পারিতোষিক দেওয়া হবে কিনা; হলে তার পরিমাণ বা হার

২৫. ব্যবসার হিসাব সন

২৬. ব্যবসার সুনাম মূল্যায়ন পদ্ধতি / বিধি-বিধান

২৭. নতুন অংশীদার গ্রহণ ও পুরাতন অংশীদার বহিষ্কার পদ্ধতি

২৮. অংশীদারদের অবসর গ্রহণ পদ্ধতি

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

২৯. কোন অংশীদারের মৃত্যু বা অবসর গ্রহণকালে ব্যবসার সম্পত্তি ও দায়ের মূল্যায়ন পদ্ধতি

৩০. কারো মৃত্যু বা অবসর গ্রহণকালে তার পাওনা পরিশোধ পদ্ধতি

৩১. ব্যবসার বিলোপ সাধন পদ্ধতি

৩২. বিলোপকালে ব্যবসার দায় ও সম্পত্তির মূল্যায়ন ও বণ্টন প্রণালী

৩৩. অংশীদারী দলিলের পরিবর্তন / সংশোধনের পদ্ধতি

৩৪. দলিলে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির পদ্ধতি।

এ দলিল সব সময় সংশোধনযোগ্য। এতে অনুল্লিখিত বিষয় অংশীদারী আইনের আলোকে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে মিমাংসা করা যেতে পারে।

অংশীদারী ব্যবসার দলিলের অবর্তমানে প্রযোজ্য নীতিমালা ঃ অংশীদারী চুক্তি অলিখিত হতে পারে। যদিও চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারী ব্যবসা গঠিত হয় কিন্তু যদি সে চুক্তি মৌখিক হয় বা কোন বিষয় সম্পর্কে দলিলে/চুক্তিপত্রে স্পষ্ট কিছু বলা না থাকে তখন ঐ বিষয় নিষ্পত্তির জন্য অংশীদারী আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।

এটাই হলো ুচুক্তিপত্রের অবর্তমানে প্রযোজ্য বিধান”। এ ধরনের কিছু বিধান নিম্নে উল্লেখ করা হলো ঃ

১. সব অংশীদারের মধ্যে লাভ-লোকসান সমহারে বণ্টিত হবে

২. মূলধন ও উত্তোলনের উপর কোন সুদ ধার্য করা হবে না

৩. ব্যবসা পরিচালনায় সবার অধিকার থাকবে; তবে এজন্য কেউ কোন বেতন বা কমিশন পাবে না

৪. অংশীদার কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের পর ৬% হারে সুদ পাবে

৫. সবাই সমান মূলধন সরবরাহ করবে

৬. সবাই সমপরিমান অর্থ উত্তোলন করতে পারবে

৭. প্রত্যেকের হিসাবের খাতা-পত্র দেখা প্রতিলিপি গ্রহণ এবং দলিল-পত্রের কপি গ্রহণের অধিকার থাকবে

৮. ব্যবসার প্রধান অফিসে খাতাপত্র সংরক্ষিত থাকবে

৯. সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন অংশীদার গ্রহণ বা বহিষ্কার করা যাবে না

১০. ব্যবসা পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন মতানৈক্য দেখা দিলে তা সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যদের মতানুযায়ী মিমাংসা করতে হবে

১১. ব্যবসার স্বার্থে কোন অংশীদার ব্যক্তিগতভাবে যে পরিমাণ ব্যয় করবে বা ক্ষতিগ্রস্থ হবে ঠিক সে পরিমাণ অর্থ ব্যবসা থেকে তাকে দিতে হবে

১২. ব্যবসার সব দায়-দেনার জন্য সব সদস্য যৌথভাবে ও এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবে

১৩. অংশীদারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে দায় দায়িত্ব বণ্টন ও পূনঃবণ্টন বা পরিবর্তন করতে হবে

১৪. কোন অংশীদারের আচরণ বা কার্যকলাপে ব্যবসার ক্ষতি হলে তা ঐ অংশীদারকে পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে অন্যেরা তার বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে

১৫. দেউলিয়া অংশীদারের সম্পত্তি থেকে (যদি থাকে) পাওনা আদায় করতে হবে

১৬. সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করা যাবে

১৭. সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যবসার বিলোপ ঘটানো যাবে না।

সারসংক্ষেপ

অংশীদারগণ ব্যবসা পরিচালনা, অবসায়ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখিত যে দলিলে স্বাক্ষর করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশীদারী ব্যবসা গঠন করে তাকে অংশীদারী ব্যবসার দলিল বলে। এতে ভবিষ্যতে ঘটতে পারে সম্ভাব্য এমন সব সমস্যার সমাধানমূলক দিক নির্দেশনার উল্লেখ থাকে। এ দলিল থাকলে সমস্যা সমাধান সহজ হয় কিন্তু যদি চুক্তি মৌখিক হয় বা এ দলিলে কোন বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা না থাকে তাহলে ঐ সমস্যা সমাধানের জন্য অংশীদারী আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এটাই হলো “চুক্তিপত্রের অবর্তমানে প্রযোজ্য বিধান”।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

সবার আগে Assignment আপডেট পেতে Follower ক্লিক করুন

এসাইনমেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন ও মতামত জানাতে পারেন আমাদের কে Google News <>YouTube : Like Page ইমেল : assignment@banglanewsexpress.com

অন্য সকল ক্লাস এর অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমূহ :-

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় SSC এসাইনমেন্ট :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় HSC এসাইনমেন্ট :

বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস// https://www.banglanewsexpress.com/

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *