My Ads
প্রশ্ন: হিসাব চক্র কী? হিসাবের ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্রসমূহ ব্যাখ্যা করো।
প্রথম অংশ: হিসাব চক্র (Accounting Cycle)
১. হিসাব চক্রের ধারণা ও সংজ্ঞা
একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যাবলি বা লেনদেনসমূহ নির্দিষ্ট হিসাবকাল জুড়ে অনবরত চলতে থাকে। এই লেনদেনসমূহ চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত এবং পরবর্তী হিসাব বছরের জন্য হিসাবের বই খোলার ধারাবাহিক ও আবর্তনশীল প্রক্রিয়াকে হিসাব চক্র বলে।
ঋতু পরিবর্তন বা চাকার মতো হিসাববিজ্ঞানের এই ধাপগুলো বছরের পর বছর ক্রমান্বয়ে আবর্তিত হয় বলেই একে “চক্র” বলা হয়।
২. হিসাব চক্রের প্রধান ধাপসমূহ (পর্যায়ক্রমিক ১০টি ধাপ)
হিসাব চক্রের মূলত ১০টি প্রধান ধাপ রয়েছে, যা নিচে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো:
ধাপ ১: লেনদেন সনাক্তকরণ: ব্যবসায়ের অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে আর্থিক ঘটনা বা লেনদেনগুলো আলাদা করা।
ধাপ ২: লেনদেন বিশ্লেষণ: প্রতিটি লেনদেনের দুটি পক্ষ বা দ্বৈত সত্তা (A = L + OE এর ওপর প্রভাব) বিশ্লেষণ করা।
ধাপ ৩: জাবেদাভুক্তকরণ (Journalizing): তারিখের ক্রমানুসারে ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক বইতে লেখা।
ধাপ ৪: খতিয়ানভুক্তকরণ (Posting to Ledger): জাবেদা থেকে লেনদেনগুলোকে স্থায়ীভাবে আলাদা আলাদা নামে শ্রেণিবিন্যাস করা।
ধাপ ৫: রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ (Trial Balance): খতিয়ানের উদ্বৃত্তগুলো নিয়ে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা।
ধাপ ৬: সমন্বয় দাখিলা (Adjusting Entries): বকেয়া ও অগ্রিম আয়-ব্যয়গুলোকে চলতি হিসাব বছরের উপযোগী করে সমন্বয় করা।
ধাপ ৭: আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ (Financial Statements): ব্যবসায়ের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক অবস্থা জানার জন্য আয় বিবরণী ও উদ্বর্তপত্র তৈরি করা।
ধাপ ৮: সমাপনী দাখিলা (Closing Entries): নামিক বা অস্থায়ী হিসাবগুলো (আয়, ব্যয় ও উত্তোলন) বন্ধ করে দেওয়া।
ধাপ ৯: সমাপনী-উত্তর রেওয়ামিল: অস্থায়ী হিসাব বন্ধের পর কেবল স্থায়ী হিসাব (সম্পদ ও দায়) নিয়ে পরবর্তী বছরের জন্য রেওয়ামিল তৈরি করা।
ধাপ ১০: প্রারম্ভিক দাখিলা (Opening Entries): বিগত বছরের সম্পদ ও দায়গুলোকে নতুন বছরের শুরুতে হিসাবের বইতে নিয়ে আসা।
My Ads
আরি পড়ুন ›বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তা প্রতিবন্ধকতা গুলো বর্ণনা কর, বাংলাদেশে মহিলা শিল্পোদ্যোক্তার সমস্যাসমূহ বর্ণনা কর, বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বাধাগুলো কী?,বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তা হওয়ার পথে বাধাগুলো কী?বাংলাদেশে নারী শিল্পোদ্যোক্তা প্রতিবন্ধকতা গুলো বর্ণনা কর, বাংলাদেশে মহিলা শিল্পোদ্যোক্তার সমস্যাসমূহ বর্ণনা কর, বাংলাদেশে…
আরি পড়ুন ›হাইড্রোজেন কে দুষ্ট মৌল বলা হয় কেন? – ব্যাখা | ক্ষার ধাতুর সঙ্গে 1 নং শ্রেণিভুক্ত করার সপক্ষে যুক্তি | হ্যালোজেন মৌলগুলির সঙ্গে 17 নং শ্রেণিভুক্ত করার সপক্ষে যুক্তিহাইড্রোজেন কে দুষ্ট মৌল বলা হয় কেন? – ব্যাখা | ক্ষার ধাতুর সঙ্গে 1…
আরি পড়ুন ›আবেদন পত্র লিখবেন যেভাবে, খুব সহজে সঠিকভাবে লিখুন বাংলা দরখাস্ত,আবেদনপত্র লেখার নিয়ম,জেনে নিন চিঠি ও দরখাস্ত লেখার নিয়ম,দরখাস্ত লেখার নিয়মাবলী এবং আবেদন পত্র লেখার নিয়মবিষয়: আবেদন পত্র লিখবেন যেভাবে, খুব সহজে সঠিকভাবে লিখুন বাংলা দরখাস্ত,আবেদনপত্র লেখার নিয়ম Honors…
My Ads
My Ads
দ্বিতীয় অংশ: ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্র ব্যাখ্যা
হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো দু-তরফা দাখিলা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের সমপরিমাণ টাকার একটি পক্ষকে ডেবিট এবং অপর পক্ষকে ক্রেডিট করা হয়। ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের প্রধানত দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
১. সনাতন বা স্বর্ণসূত্র পদ্ধতি (Traditional / Golden Rule Method)
সনাতন পদ্ধতিতে হিসাবকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় করা হয়:
- ক) ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account): সুবিধা গ্রহণকারী পক্ষকে ডেবিট এবং সুবিধা প্রদানকারী পক্ষকে ক্রেডিট করা হয়।
- খ) সম্পত্তিবাচক হিসাব (Real Account): ব্যবসায় সম্পত্তি আসলে ডেবিট এবং সম্পত্তি চলে গেলে ক্রেডিট করা হয়।
- গ) নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাব (Nominal Account): সমস্ত প্রকার খরচ ও ক্ষতি ডেবিট এবং সমস্ত প্রকার আয় ও লাভ ক্রেডিট করা হয়।
২. আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern / Equation Method) — পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
আধুনিক হিসাববিজ্ঞানে হিসাব সমীকরণ
A = L + OE
(সম্পদ = দায় + মালিকানা স্বত্ব)-এর ওপর ভিত্তি করে হিসাবকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মূল সূত্রটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো: “খরচ ও সম্পদ বাড়লে ডেবিট, কমলে ক্রেডিট। বাকি সব (দায়, আয়, মূলধন) বাড়লে ক্রেডিট, কমলে ডেবিট।”
My Ads
নিচে বিস্তারিত ছক আকারে দেওয়া হলো:
My Ads
| হিসাবের প্রকারভেদ | বৃদ্ধি পেলে (+) | হ্রাস পেলে (−) | বাস্তব উদাহরণ |
| ১. সম্পদ হিসাব (Assets) | ডেবিট (Dr.) | ক্রেডিট (Cr.) | নগদ টাকা, আসবাবপত্র, দেনাদার, দালানকোঠা। |
| ২. খরচ হিসাব (Expenses) | ডেবিট (Dr.) | ক্রেডিট (Cr.) | বেতন, ভাড়া, অবচয়, বিজ্ঞাপন খরচ, ক্রয়। |
| ৩. দায় হিসাব (Liabilities) | ক্রেডিট (Cr.) | ডেবিট (Dr.) | পাওনাদার, ব্যাংক ঋণ, প্রদেয় বিল। |
| ৪. আয় হিসাব (Revenue/Income) | ক্রেডিট (Cr.) | ডেবিট (Dr.) | বিক্রয়, প্রাপ্ত উপভাড়া, বিনিয়োগের সুদ, কমিশন প্রাপ্তি। |
| ৫. মালিকানা স্বত্ব (Equity) | ক্রেডিট (Cr.) | ডেবিট (Dr.) | মূলধন (বৃদ্ধি হলে ক্রেডিট, উত্তোলন করলে স্বত্ব কমে তাই ডেবিট)। |
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, হিসাব চক্র হলো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্যের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াজাতকরণ লাইন। আর এই লাইনে লেনদেনগুলোকে সঠিকভাবে চালনা করার জন্য ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের আধুনিক সমীকরণ পদ্ধতিটি একটি ধ্রুব সত্যের মতো কাজ করে। এই দুটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকলে হিসাববিজ্ঞানের যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান করা সহজ হয়।
পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:
১০ নম্বরের এই প্রশ্নে পুরো মার্কস পেতে হলে—
১. হিসাব চক্রের ১০টি ধাপকে ওলটপালট না করে ধারাবাহিকভাবে (১ থেকে ১০) লিখবেন।
২. আধুনিক পদ্ধতিতে ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের যে ছকটি দেওয়া হয়েছে, তা খাতায় পেন্সিল দিয়ে সুন্দর করে আঁকবেন। পরীক্ষক ছকটি দেখেই বুজে যাবেন আপনার বেসিক অত্যন্ত স্ট্রং।
উপসংহার : হিসাব চক্র কি? হিসাবের ডেবিট -ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্র ব্যাখ্যা কর
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ হিসাব চক্র কি? হিসাবের ডেবিট -ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্র ব্যাখ্যা কর
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- হিসাব চক্র কি? হিসাবের ডেবিট -ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্র ব্যাখ্যা কর
- হিসাববিজ্ঞান কি একটি পেশা, হিসাববিজ্ঞান একটি পেশা ব্যাখ্যা কর, হিসাববিজ্ঞান পেশা কতটা স্যাচুরেটেড
- ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী কি? ইহা কেন তৈরি করা হয়?,ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী কেন তৈরি করা হয়?
- হিসাব তথ্য ব্যবহারকারী কারা? এদের বর্ণনা দাও।
- PDF Download আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী সমাজের ভূমিকা রচনা
My Ads
