লকডাউন ভাবনার শুরু শেষ

লকডাউন ভাবনার শুরু শেষ

আবেগ প্রবণ বাঙালি জাতি লকডাউনকেও হার মানাতে বাধ্য হয়েছে। দেশে করোনার প্রথম ঢেউ শুরু হলে, লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তখনও বাজার হাটে থামে নি ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। ঠিক এখনো পথে ঘাটে বাজার হাটে বাড়ছেই যেন জনতার উপস্থিতি। পুলিশ প্রশাসন যেন কোনো কিছুতেই মানছে না জনগণ। আছে সমানতালে যুব-তরুণদের যত্রতত্র ঘোরাঘুরি। ভ্রমণ বিনোদন উৎসবের আমেজ। আছে শিশু-পুরুষও।

অতীতে বাজার বন্ধ হলেও কোনো কোনো এলাকাতে গাছতলায়ও অস্থায়ী দোকান খোলা ছিল, খোলা থাকতে দেখা গেছে। ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ কোনো এলাকায় বা পথে বাঁধ নির্মাণ করতে সচেষ্ট হয়েছিল। তবে ফলাফল ছিল শূন্য। কে শোনে কার কথা? আর এখন আবার লকডাউন শুরু হলে জনগণ কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন? না সকলেই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবেন? আছে কি এর কোনো নিশ্চয়তা?

লক্ষ করলে দেখা যাবে, এখনো বহু এলাকাতে থামে নি বহিরাগতের অনুপ্রবেশ। আসছে অতিথি মেহমানও। তো এভাবে কি লকডাউন হয়? সবচে ভালো হতো, শহরএলাকায় বাড়িওয়ালাসহ ভাড়াটিয়াদের তালিকা করে দিনরাত পাহারাদারি করা। সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার বেশি কাউকে বাইরে থাকতে না দেওয়া।

তাও জরুরি প্রয়োজন আছে বললে, তাদেরকে শুধু বাইরে বেরুতে বাজার বা হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি। এর বেশি সময় বাইরে থাকতে চাইলে, তাকে আর ঐ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশ করতে না দেওয়া। কিন্তু করোনার প্রথম ঢেউ এলে এমনটি হয়ে ওঠে নি। এখনও যদি না হয় তবে কি উপায় এ জাতির ? এরকম সকলে মিলে কঠোরভাবে লকডাউন হতে পারে। তবে হবে বলে, মনে হয় না।

কারণ আমরা যে বাঙালি! সবাই যখন এই মহামারি দুর্যোগের মতো মুহূর্তে অর্থনৈতিক দৈন্যদশার শিকার। তখনও একশ্রেণির নরপিশাচ জনগণের চাল ডাল তেল নুন মেরে খাবার ফন্দি আঁটতে থাকেন। আবার দুঃসাহসী বয়ানও দেন। কাজেই দরিদ্র মানুষের বুকে ছুরি চালাতে আর বাকি থাকলো না। শুনেছি, বহু ত্রাণতহবিল এসেছে। আসছে। সামনে হয়ত আরও আসবে।

অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছেন। দেশেও যোগার হচ্ছে কিছু। তবে প্রশ্ন হলো, এসব কি গরিবের পেটে যাবে? তবে আর এই লকডাউনের মূল্য কী? বাইরে না বেরুলো কুলি মুটে দিনমজুর, দিন এনে দিন খায় এরা খাবে কী? না খেয়েই তো মরবে লাখে লাখ। আমরা এমন এক জাতি, লকডাউনও আমাদের কাছে পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছে। আমরা পথে ঘাটে অলিতে-গলিতে গাছতলায় দোকান খুলে দিয়েছি। মানবকল্যাণে জীবন বাঁচাতে এর চেয়ে দুঃসাহসিক পদক্ষেপ মনে হয় আর কোনো জাতি নিয়েছে কিনা জানা নেই। আমরা এখনো পারি নি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

এলাকায় এখনো বহিরাগতের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারি নি। যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করতে এখনো মরিয়া উঠতি তরুণ প্রজন্ম। বাইরে আড্ডায় মেতে গোলাকার হয়ে একাকার। বাজার হাটের জন্য সময় বেধে দেওয়া হলেও। অবৈধ বাজার হাট চালু করে বসেছে কেউ কেউ। এভাবে দোকান পাট রেস্তোরা খোলা রেখে কিভাবে লকডাউন সম্ভব হবে এ দেশে? আবার এসবের সাথে জড়িত যাদের অর্থনৈতিক আয় উপার্জন। তাদেরই বা কি হবে?। মিনি জনসভা, জনসমাগম চলছে। গার্মেন্টস খোলা না রেখেও উপায় নেই।

লাখো মানুষের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম এই শিল্প কারখানাগুলো। তবে সামনে যে ঢেউ আসছে বলে শোনা যাচ্ছে, তাতে এবারের লকডাউন আরো কঠোর হওয়াই সময়ের দাবি। শুরুতেই আমরা যে অবহেলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। এখনও যদি এভাবেই চলতে থাকে , তবে এ যাত্রায়ও লকডাউন হবে বটে, তবে আমাদের শেষ পরিণতিও হবে অনেক ভয়াবহ। তাই এখনই আমাদেরেক সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। কোনোভাবেই লকডাউনকে অবহেলা করা যাবে না। তবেই যদি আমরা ফিরে পেতে পারি আবার একটি সুন্দর পৃথিবী। সুস্থ জীবন। দেশ জাতি সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করে শেষ করছি আজকের মতো এখানেই। খোদা হাফেজ।

লেখক: (মীযান মুহাম্মদ হাসান) লেখক ও সাংবাদিক

Leave a Comment