Google Adsense Ads
পীর ময় হার নির্ধারণের স্বর্ণ মান পদ্ধতি আলোচনা কর
স্বর্ণ মান পদ্ধতি (Gold Standard) একটি ঐতিহ্যবাহী আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে একটি দেশের মুদ্রার মান নির্ধারণ করা হয় স্বর্ণের নির্দিষ্ট পরিমাণের ভিত্তিতে। এই পদ্ধতিতে দেশগুলোর মুদ্রা সরাসরি স্বর্ণের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য থাকে। এটি বিংশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বহুল প্রচলিত ছিল।
স্বর্ণ মান পদ্ধতির মূলনীতি
- নির্দিষ্ট হার: প্রতিটি দেশের মুদ্রাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
- স্বর্ণের বিনিময়: যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে কাগুজে মুদ্রাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণের সঙ্গে বিনিময় করতে পারে।
- মুদ্রার স্থিতিশীলতা: মুদ্রার সরবরাহ এবং মূল্য স্বর্ণের মজুতের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হয়।
উদাহরণ:
- যদি একটি দেশের ১ মুদ্রা ইউনিট = ১ গ্রাম স্বর্ণের সমান হয়, তাহলে সেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১ মুদ্রা জমা দিলে ১ গ্রাম স্বর্ণ দিতে বাধ্য।
স্বর্ণ মান পদ্ধতির ধরন
- পূর্ণ স্বর্ণ মান (Full Gold Standard):
- মুদ্রা পুরোপুরি স্বর্ণের ভিত্তিতে বিনিময়যোগ্য।
- দেশে প্রচলিত মুদ্রার সমপরিমাণ স্বর্ণের রিজার্ভ রাখা হয়।
- স্বর্ণ বিনিময় মান (Gold Exchange Standard):
- মুদ্রা সরাসরি স্বর্ণে বিনিময়যোগ্য না হলেও, একটি শক্তিশালী মুদ্রার (যেমন ডলার বা পাউন্ড) মাধ্যমে স্বর্ণের বিনিময় করা যায়।
- স্বর্ণ বুলিয়ন মান (Gold Bullion Standard):
- বড় পরিমাণ মুদ্রার বিনিময়ে স্বর্ণের বুলিয়ন (বার বা ইট আকৃতির স্বর্ণ) দেওয়া হয়।
স্বর্ণ মান পদ্ধতির সুবিধা
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ:
- স্বর্ণের মজুতের সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপা সম্ভব নয়, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- মুদ্রার স্থিতিশীলতা:
- মুদ্রার মূল্য স্থিতিশীল থাকে, কারণ এটি স্বর্ণের মানের সঙ্গে যুক্ত।
- বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা:
- স্বর্ণের ভিত্তিতে মুদ্রা হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
- দীর্ঘমেয়াদি আস্থা:
- জনগণের মধ্যে মুদ্রা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি হয়।
স্বর্ণ মান পদ্ধতির অসুবিধা
- স্বর্ণের মজুতের সীমাবদ্ধতা:
- স্বর্ণের প্রাপ্যতা সীমিত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
- অর্থনৈতিক স্থবিরতা:
- অর্থনৈতিক মন্দা বা সংকটের সময় মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে না পারায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়।
- দেশের উপর নির্ভরতা:
- স্বর্ণের উৎপাদনে সমৃদ্ধ দেশগুলো সুবিধা পায়, অন্যদিকে স্বর্ণের মজুত কম থাকা দেশগুলো বিপাকে পড়ে।
- দাম ওঠানামা:
- স্বর্ণের দাম বৈশ্বিক বাজারে ওঠানামা করলে মুদ্রার স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়।
স্বর্ণ মানের বিলোপ
- ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দা (Great Depression) চলাকালীন অনেক দেশ স্বর্ণ মান পরিত্যাগ করে।
- ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ মান পদ্ধতি বাতিল করেন, যা “নিক্সন শক” নামে পরিচিত।
- এর পর থেকে অধিকাংশ দেশ ফিয়াট মুদ্রা (Fiat Currency) ব্যবস্থার দিকে চলে যায়, যেখানে মুদ্রার মান সরকার ও বাজারের চাহিদা-সরবরাহের উপর নির্ভর করে।
সংক্ষেপে:
স্বর্ণ মান পদ্ধতিতে মুদ্রার মান স্বর্ণের নির্দিষ্ট পরিমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এটি মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেও, স্বর্ণের মজুতের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক মন্দার সময় মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর অক্ষমতার কারণে এ পদ্ধতি পরিত্যক্ত হয়েছে।
Google Adsense Ads
উপসংহার : পীর ময় হার নির্ধারণের স্বর্ণ মান পদ্ধতি আলোচনা কর
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ পীর ময় হার নির্ধারণের স্বর্ণ মান পদ্ধতি আলোচনা কর
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- বিনিময় হারকে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার কীভাবে প্রভাবিত করে
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৈদেশিক বিনিময়ের ভূমিকা আলোচনা কর
- আন্তর্জাতিক বাজারে আইএমএফ এর গুরুত্ব আলোচনা কর, আন্তর্জাতিক বাজারে IMF এর গুরুত্ব আলোচনা কর
- বিভিন্ন ধরনের বিনিময়ের হারের বিবরণ দাও
- এনজিও খেলাপি ঋণ আদায়ের কৌশল,বকেয়া প্রতিরোধের উপায়,বকেয়া পড়ার কারণ
Google Adsense Ads