নিজেদের স্বার্থে মাহফিলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে একটি মহল

নিজেদের স্বার্থে মাহফিলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে একটি মহল

জাতীয় দেশ
শেয়ার করুন:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং নূরানী কাফেলার উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল স্থগিতের কারণ ও মাহফিল স্থগিতকে কেন্দ্র করে রটানো অপপ্রচার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মাহফিল পরিচালনা কমিটি।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৮ টায় আলীকদম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মাহফিল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহিম।এসময় উপস্থিত ছিলেন মাহফিল পরিচালনা কমিটির সদস্য জামাল উদ্দিন, মীর কাসেম ছোট্টু, আব্দুল গফুর, নুরুল কাদের পুতু, হেলাল উদ্দিন, নুরুর কবির, বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

তাঁরা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এ মাহফিল বন্ধ করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও ফেক আইডি থেকে যেসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে তার সাথে মাহফিল পরিচালনা কমিটির কোন সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মাওলানা বেলাল উদ্দিন সিরাজী ও সাবেক ইউপি মেম্বার শফিউল আলমের বিরুদ্ধে ফেসবুক আইডিগুলোতে যেসব পোস্ট করা হচ্ছে তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।নিজেদের স্বার্থে মাহফিলকে ডাল হিসেবে ব্যবহার করে অপপ্রচারে খুবই মর্মাহত।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চৈক্ষ্যং নূরানী কাফেলার সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, মাহফিল আয়োজনের জন্য তারা বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলেন। এ আবেদনে সুপারিশপূর্বক সীল-স্বাক্ষর করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মংব্রাচিং মার্মা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়ি মং মার্মা, মন্ত্রী প্রতিনিধি ও আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির ও চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান।

জয়নাল আবেদীন জানান, ‘আমরা জেলা প্রশাসক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন আনার জন্য ২৬ জানুয়ারী চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমানকে সাথে নিয়ে বান্দরবান জেলা সদরে যাই। বান্দরবানে অবস্থানরত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য দুংড়ি মং মার্মাসহ আমরা চারজন জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে জানতে পারি যে, প্রধান বক্তা মুফতি আমির হামজা ছাড়া অন্যান্য বক্তাকে নিয়ে মাহফিল করার অনুমতি পাওয়া যাবে। আমরা তাতে সম্মতি দিলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ২৬ জানুয়ারী বিকাল চারটায় অনুমতি পত্র হাতে পাই। তখন আমরা দ্রুত বান্দরবান জেলা সদর ত্যাগ করে আলীকদমে মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওনা হই।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, এ মাহফিল বন্ধ করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়। তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ফেক আইডি থেকে মাহফিল বন্ধ সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করতে চাইচ্ছে।সুযোগ সন্ধানীরা আমাদের মাহফিলকে ইস্যূ করে প্রতিপক্ষ ঘায়েলের চেষ্টা করছে।

পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃআব্দুর রহিম বলেন, ‘আসার পথে আমরা মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারি যে, বেলাল উদ্দিন নামে একজন কিশোর স্বেচ্ছাসেবক ‘প্রধান বক্তা আমির হামজা ওয়াজ করতে পারবে না’ খবর জানার পর এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বক্তা আলীকদম থেকে চলে যাওয়ার কারণে স্থানীয় অতি উৎসাহিত কিছু লোকের কথা শুনে মাইকে মাহফিল বন্ধের ঘোষণা দেয়। রাত দশটায় আমরা মাহফিল স্থলে পৌঁছি। এর আগে কমিটির অতি কিছু সদস্য অতি উৎসাহিত হয়ে মাহফিলের বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দিয়েছিল।মাহফিল বন্ধের বিষয়ও আমাদের সাথে কোন আলোচনা করা হয়নি। নিজেদের স্বার্থে মাহফিলকে হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা করছে কিছু অসৎ ব্যক্তি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *