Subscribe Now!
সর্বশেষ চাকরির খবর মিস করবেন না! Subscribe - এ ক্লিক করে দেখুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
নগদ ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণের ও বকেয়া ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ পার্থক্য দেখাও
হিসাববিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো কোনো নির্দিষ্ট হিসাবকাল শেষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল (লাভ-ক্ষতি) এবং প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা। লেনদেনসমূহ হিসাবের বইতে ঠিক কখন এবং কোন ভিত্তির ওপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ করা হবে, তার ওপর ভিত্তি করে হিসাববিজ্ঞান পদ্ধতিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হলো নগদ ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ (Cash Basis Accounting) এবং অন্যটি হলো আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ (Accrual Basis Accounting)। ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বীকৃতি এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এই দুই পদ্ধতির মধ্যে ব্যাপক ও নীতিগত পার্থক্য রয়েছে।
নগদ ভিত্তিক ও বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণের তুলনামূলক ছক
১০ নম্বরের প্রশ্নে ফুল মার্কস (১০-এ ১০) নিশ্চিত করার জন্য “পার্থক্যের বিষয়” বা ভিত্তি (Basis of Difference) উল্লেখ করে ছক আকারে উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। নিচে একটি স্ট্যান্ডার্ড ছক দেওয়া হলো:
| পার্থক্যের বিষয় | নগদ ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ (Cash Basis) | বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ (Accrual Basis) |
| মূল সংজ্ঞা | যে পদ্ধতিতে কোনো আয় বা ব্যয় বাস্তবে নগদ টাকায় সংঘটিত বা আদান-প্রদান হলে কেবল তখনই হিসাবের বইতে লেখা হয়, তাকে নগদ ভিত্তিক পদ্ধতি বলে। | যে পদ্ধতিতে নগদ টাকা পাওয়া বা দেওয়া হোক আর না হোক—আয় অর্জিত হলে এবং ব্যয় সংঘটিত হলেই তা হিসাবের বইতে লেখা হয়, তাকে বকেয়া ভিত্তিক পদ্ধতি বলে। |
| আয় স্বীকৃতি (Revenue Recognition) | পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের টাকা যখন বাস্তবে নগদে হস্তগত হয়, তখন তাকে আয় হিসেবে গণ্য করা হয় (বাকি বিক্রয় এখানে আয় নয়)। | পণ্য বা সেবা হস্তান্তরের মাধ্যমে যখনই আয়টি অর্জিত হয়, তখনই তা আয় হিসেবে গণ্য হয় (তা নগদ বা বাকি যাই হোক না কেন)। |
| ব্যয় স্বীকৃতি (Expense Recognition) | কোনো খরচের টাকা পকেট বা ব্যাংক থেকে বাস্তবে নগদে পরিশোধ করা হলে কেবল তখনই তাকে ব্যয় দেখানো হয়। | কোনো খরচের সুবিধা ভোগ করার পর যখনই ব্যয়টি সংঘটিত বা বকেয়া হয়, তখনই তাকে চলতি বছরের ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়। |
| সমন্বয় দাখিলা (Adjusting Entries) | এই পদ্ধতিতে বকেয়া বা অগ্রিমের কোনো স্থান নেই, তাই হিসাবকাল শেষে কোনো সমন্বয় দাখিলার প্রয়োজন হয় না। | নিখুঁত হিসাবের জন্য বকেয়া আয়-ব্যয় এবং অগ্রিম আয়-ব্যয়ের সমন্বয় দাখিলা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। |
| হিসাববিজ্ঞানের নীতি (GAAP/IAS) | এটি হিসাববিজ্ঞানের মূল ‘মিলকরণ নীতি’ (Matching Principle) অনুসরণ করে না। ফলে এটি GAAP বা IAS দ্বারা স্বীকৃত নয়। | এটি হিসাববিজ্ঞানের ‘মিলকরণ নীতি’ এবং ‘চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা’ পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করে। এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। |
| প্রকৃত ফলাফল নিরূপণ | চলতি বছরের আয়ের সাথে শুধু চলতি বছরের ব্যয়ের মিল না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত নিট লাভ বা ক্ষতি জানা যায় না। | নির্দিষ্ট হিসাবকালের বকেয়া-অগ্রিম সমন্বয় করার ফলে ব্যবসায়ের নিখুঁত ও প্রকৃত নিট লাভ বা ক্ষতি জানা সম্ভব হয়। |
| ব্যবহারের ক্ষেত্র | ছোট ছোট খুচরা দোকান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (যেমন: ক্লাব, চ্যারিটি) এবং পেশাজীবী (ডাক্তার, আইনজীবী) রা এটি ব্যবহার করেন। | সকল যৌথ মূলধনী কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা, মাল্টিন্যাশনাল করপোরেট হাউজ এবং আধুনিক বড় ব্যবসায় এটি ব্যবহার করে। |
| আইনি গ্রহণযোগ্যতা | কোম্পানি আইন (Company Act) এবং আয়কর কর্তৃপক্ষ (Tax Authorities)-এর কাছে এই পদ্ধতির কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই। | কোম্পানি আইন অনুযায়ী এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য এটিই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। |
| জটিলতা ও খরচ | এটি অত্যন্ত সহজ, সরল এবং এর জন্য কোনো দামি সফটওয়্যার বা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্রয়োজন হয় না। | এটি তুলনামূলক জটিল এবং বকেয়া সমন্বয়ের জন্য দক্ষ হিসাবরক্ষক ও আধুনিক অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। |
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, নগদ ভিত্তিক এবং বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির মধ্যে মূল পার্থক্যটি হলো “সময়ের” (Timing)। নগদ ভিত্তিক পদ্ধতি যেখানে কেবল নগদের আগমন ও নির্গমনের ওপর চোখ রাখে, বকেয়া ভিত্তিক পদ্ধতি সেখানে ব্যবসায়ের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর দেয়। ছোট বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নগদ ভিত্তিক পদ্ধতি সহজ ও সাশ্রয়ী হতে পারে, তবে আধুনিক করপোরেট বিশ্ব, শেয়ার বাজার এবং স্বচ্ছ আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বকেয়া ভিত্তিক দু-তরফা হিসাব পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।
আরি পড়ুন ›বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কী?,বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লিখ,বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যাহা জান লিখবাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কী?,বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লিখ,বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যাহা জান লিখ
আরি পড়ুন ›জনসংখ্যাস্ফীতি বলতে কী বোঝায়?,জনসংখ্যা সমস্যা কি (জনসংখ্যা স্ফীতি কি),জনসংখ্যা সমস্যা কী?, জনসংখ্যা সমস্যা বলতে কী বুঝ?জনসংখ্যাস্ফীতি বলতে কী বোঝায়?,জনসংখ্যা সমস্যা কি (জনসংখ্যা স্ফীতি কি),জনসংখ্যা সমস্যা কী?, জনসংখ্যা সমস্যা বলতে…
আরি পড়ুন ›নারী নির্যাতন বন্ধের উপায়সমূহ কী কী?, বাংলাদেশ সরকার নারী নির্যাতন রোধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?, নারী নির্যাতন বন্ধে প্রতিবন্ধকতাসমূহ আলোচনা কর, নারী নির্যাতন রোধের উপায় লিখ। বাংলাদেশ সরকারের নারী নির্যাতন রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করনারী নির্যাতন বন্ধের উপায়সমূহ কী কী?, বাংলাদেশ সরকার নারী নির্যাতন রোধে কী কী পদক্ষেপ…
পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্লাস পয়েন্ট টিপস (১০-এ ১০ পাওয়ার কৌশল): ১. Matching Principle-এর উল্লেখ: ৫ নম্বর পয়েন্টে দেওয়া Matching Principle (মিলকরণ নীতি) শব্দটি নীল কালি দিয়ে হাইলাইট করবেন। শিক্ষকেরা খাতার ভেতর এই মূল অ্যাকাউন্টিং টার্মটি অবশ্যই খোঁজেন। ২. ১০ নম্বরের ভারসাম্য: ১০ নম্বরের প্রশ্নের জন্য উপরে দেওয়া ৯টি পয়েন্টের ছক এবং ভূমিকা-উপসংহারের কাঠামোটি একদম নিখুঁত। প্রতিটি পয়েন্টের পাশে ইংরেজি প্রতিশব্দ (যেমন: Revenue Recognition, Adjusting Entries) ব্যবহার করলে খাতার স্ট্যান্ডার্ড অনেক বেড়ে যাবে। ৩. খাতার ঠিক মাঝখানে সমীকরণের বক্স দুটি পেন্সিল ও স্কেল দিয়ে সুন্দর করে এঁকে দেবেন, যা আপনার উত্তরটিকে অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাতা থেকে আলাদা ও প্রফেশনাল লুক দেবে।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃনগদ ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণের ও বকেয়া ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ পার্থক্য দেখাও
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন: