উন্নয়নশীল দেশের ভারসাম্য কেন প্রতিকূল হয়

Google Adsense Ads

উন্নয়নশীল দেশের ভারসাম্য কেন প্রতিকূল হয়

উন্নয়নশীল দেশের লেনদেনের ভারসাম্য প্রতিকূল হওয়ার কারণ:

উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা বা প্রতিকূল ভারসাম্য (BOP Imbalance) এর সম্মুখীন হয়, যার ফলে তাদের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়। এর কিছু মূল কারণ নিম্নরূপ:

১. বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit):

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত আমদানি বেশি হয় এবং রপ্তানি কম হয়। উন্নত দেশগুলোতে উৎপাদিত পণ্যগুলোর চাহিদা বেশি হওয়ায়, উন্নয়নশীল দেশগুলো আমদানি করতে বাধ্য হয়। তবে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বা প্রযুক্তিগত দক্ষতা সীমিত থাকার কারণে রপ্তানি কম হয়, যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়। এই ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি ঋণ বা বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন হয়, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

আরো ও সাজেশন:-

Honors Suggestion Linksপ্রশ্ন সমাধান সমূহ
Degree Suggestion LinksBCS Exan Solution
HSC Suggestion Links2016 সাল থেকে সকল জব পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর
SSC ‍& JSC Suggestion Linksবিষয় ভিত্তিক জব পরিক্ষার সাজেশন

২. আন্তর্জাতিক ঋণের চাপ:

উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেক সময় ঋণ গ্রহণ করে থাকে, বিশেষত আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে। এসব ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পায়, যা তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমিয়ে দেয়। এই ঋণ পরিশোধের জন্য টাকা ফেরত পাঠাতে হলে, রপ্তানি বা বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, যা সহজে সম্ভব হয় না।

৩. কম বৈদেশিক বিনিয়োগ:

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর কারণ হতে পারে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুশাসনের অভাব, বা অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর দুর্বলতা। ফলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং প্রতিযোগিতামূলক শিল্প কম থাকে, যা বাণিজ্যিক ভারসাম্যের উপর চাপ ফেলে।

৪. বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা:

উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত বিদেশি সাহায্য এবং অনুদান নির্ভরশীল থাকে। যদিও এটি কিছুটা অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়, তবে দীর্ঘমেয়াদীভাবে এটি দেশের আর্থিক স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বিদেশী সাহায্য কম হলে, লেনদেনের ভারসাম্য আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।

৫. অত্যধিক আমদানি নির্ভরতা:

অনেক উন্নয়নশীল দেশে অত্যধিক আমদানি নির্ভরতা থাকে, বিশেষত শক্তি (যেমন: তেল), খাদ্য, এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক পণ্যসমূহে। এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি আমদানি করা হয়, যার ফলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য খারাপ হয়ে যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা থেকে ব্যাপক খরচ হয়।

৬. মুদ্রাস্ফীতি (Inflation):

উন্নয়নশীল দেশে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি থাকে, যা দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন বা মূল্য পতন ঘটায়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির পণ্যগুলো দামি হয়ে যায় এবং রপ্তানি কমে যায়। একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্যগুলো আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

৭. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি:

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা বিদ্রোহ, এবং দুর্নীতির কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এতে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকেনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

৮. অপর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা:

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির অভাব এবং উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারে না। ফলে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ কম থাকে, যা দেশের লেনদেনের ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করে।


উপসংহার:

উন্নয়নশীল দেশগুলোর লেনদেনের ভারসাম্য প্রতিকূল হওয়ার প্রধান কারণ হল সীমিত রপ্তানি, অতিরিক্ত আমদানি, ঋণের চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং বিদেশী বিনিয়োগের অভাব। এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন, এবং বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

Google Adsense Ads

উপসংহার : উন্নয়নশীল দেশের ভারসাম্য কেন প্রতিকূল হয়

আর্টিকেলের শেষ কথাঃ উন্নয়নশীল দেশের ভারসাম্য কেন প্রতিকূল হয়

আরো পড়ুন:

Google Adsense Ads

Leave a Comment